×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

সারাদেশ

‘আফাল’ তাণ্ডবে ভেসে যায় মধ্যনগরবাসীর স্বপ্ন

Icon

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রাসেল আহমদ, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) থেকে : ঢলের তোড়ে, আফালের (বড় রকমের ঢেউ) তাণ্ডবে, বানের জলে এখন ভাসছে সুনামগঞ্জের হাওরবেষ্টিত নিম্নাঞ্চল মধ্যনগরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বপ্ন। অতিবর্ষণ ও ভারতের পাহাড়ি ঢলে গত কয়েক বছর ধরেই লাগাতার বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে আসছে মধ্যনগরে। এবারের টানা দুই দফা বন্যাতেও মধ্যনগরের শতাধিক গ্রামের ঘরবাড়ি, বেশির ভাগ কাঁচা-পাকা সড়ক, গ্রামীণ রাস্তা সবই ক্ষতবিক্ষত করছে আফালের তাণ্ডব। বর্ষায় পানি ভরা হাওর এসব এলাকার মানুষের কাছে স্বাভাবিক বিষয় হলেও বড় বড় ঢেউ (আফাল) নিয়ে যত ভয় তাদের। দমকা হাওয়া কিংবা ঝড়ের সময় উত্তাল হাওরে যে বড় বড় ঢেউ ওঠে, এ জনপদের মানুষ সেটিকে বলে ‘আফাল’। তখন বসতভিটা, ঘরবাড়ি ও জীবন রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই প্রতি বছর বৈশাখ মাসে হাওরের ধান তুলেই মানুষের প্রথম কাজ হচ্ছে বড় বড় ঢেউ (আফাল) থেকে ঘরবাড়ি রক্ষায় বসতভিটার পাশে আড় দিয়ে প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করা। এটি করতেই হবে। টাকাপয়সা না থাকলে ঋণ করে হলেও এটি করেন হাওরপাড়ের মানুষ। কোনো বছর বন্যা একাধিকবার হলে বসতভিটা রক্ষার এই কাজটিও একাধিকবার করতে হয়। এতে বড় বিপদে পড়েন হাওরের দরিদ্র কৃষক-জেলে পরিবারের লোকজন। মধ্যনগরের বানছাপড়া হাওরের ভেতরে উত্তর-পশ্চিমাংশে ঢুলপুষি গ্রাম। দূর থেকে মনে হয় ছোট কোনো দ্বীপ। চারদিক পানিতে ঘেরা। যেন থই থই পানির ওপর ভাসছে গ্রামটি। গ্রামে নেই কোনো রাস্তাঘাট। ভরা বর্ষায় যাতায়াতের একমাত্র বাহন নৌকা। এখানে মানুষের জীবন হাওরের জলে, উথালপাতাল ঢেউয়ের ছকে বাঁধা। হাওরের অন্য গ্রামের মতো এই গ্রামেও বছরের ছয় মাস পানিবন্দি জীবন কাটে মানুষের। ৪৪ ঘরের বসতি ছোট এই গ্রামের ছোট ছোট ঘর টিনের। কোনোটির চালা টিনের হলেও বেড়া খড়ের। ঘরগুলো দেখেই বাসিন্দাদের আর্থিক দিক অনুমান করা যায়। বেশির ভাগই দরিদ্র কৃষক পরিবার। বসতভিটার সামনে-পিছে বাঁশের আড় দিয়ে বাঁধা। আড়ের ভেতর মাটিভর্তি বস্তা অথবা চাইল্যা বন।

হাওরের আফাল থেকে ঘরবাড়ি, বসতভিটা রক্ষা করতেই এই প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা।

গ্রামের বাসিন্দা চঞ্চল সরকার বলেন, আষাঢ় থেকে ভাদ্র এই তিন মাস হাওরে পানি থাকে বেশি। ঢেউ থেকে বসতভিটা রক্ষায় প্রতি বছর চারপাশে বাঁশ দিয়ে আড় দিতে হয়। এ কাজে এবার তার ব্যয় হয়েছে ১৭ হাজার টাকা। কিন্তু বন্যায় ঘর ও আড় দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবার কীভাবে মেরামত করবেন, টাকা কোত্থেকে পাবেন এই নিয়ে চিন্তায় আছেন। প্রতিবারের মতো এবার বন্যাতেও আফালের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্থ হাওরের বেশির ভাগ গ্রাম। উপজেলার বংশীকুন্ডা গ্রামের বিল্লাল মিয়ার বাড়ি টাঙ্গুয়ার হাওরের পশ্চিম তীরে অবস্থিত। সামান্য বাতাসে ফুঁসে উঠে টাঙ্গুয়া নদীর পানি। ঢেউ উঠেই আঘাত হানে বিল্লালের বাড়িতে। তিনি জানায়, ঢেউয়ের ধাক্কায় এই অবস্থা, শুকনো মৌসুমে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালায়। আর সামান্য কিছু জমি তা থেকে যা পেয়েছি তাই দিয়ে সংসার চালায়। এবারো বাড়িতে মাটি ভরাট করেছি ৪০ হাজার টাকার। খাই না খাই, ভিটা তো আগে রক্ষা করতে অইব। কিন্তু আফালের তাণ্ডবে ৭০ ভাগ মাটি বানের জলে ভেসে গেছে।

মধ্যনগরে টাঙ্গুয়ার হাওর এলাকায় পাশাপাশি থাকা বাঙ্গালভিটা, বাকাতলা, রুপনগর, ইছামারী, গোলগাও, আম্তরপুর, রংচী, বংশীকুন্ডা, নিশ্চিন্তপুর, বাসাউড়া, সানুয়া, মাকরদী, কাউহানীসহ আরো কয়েকটি গ্রাম ঘুরে একই দৃশ্য দেখা গেল। সবাই আফাল থেকে বসতভিটা রক্ষায় বাঁশ, আড়ের বেড়া দিয়েছেন। তবে রংচী গ্রামের পূর্ব পাশে আফাল থেকে গ্রাম রক্ষায় পাকা প্রতিরক্ষা দেয়াল চোখে পড়ল। এটি বেশ কয়েক বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি প্রকল্পে করা হয়েছিল।

আফাল নিয়ে আশার কথা শোনালেন স্থানীয় সংসদ সদস্য রনজিত চন্দ্র সরকার। তিনি জানান, হাওরের বোরো ফসল ও গ্রাম সুরক্ষায় তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে আফালের তাণ্ডব থেকে রক্ষায় তার নির্বাচনী এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি গ্রামে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য কাজ করছেন তিনি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App