×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

সারাদেশ

লোডশেডিংয়ে লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলে জনদুর্ভোগ চরমে

Icon

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

শেখ জাহাঙ্গীর আলম শাহীন, লালমনিরহাট থেকে : বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নাজেহাল লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের গ্রাহকরা। বিদ্যুৎ এই আসে, এই যায়। লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে খেটে-খাওয়া সাধারণ মানুষসহ সব গ্রাহককে। সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করে বিদ্যুতের অভাবে ফ্যান ছেড়ে একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারছে না। গভীর রাতেও এখন বিদ্যুতের লোডশেডিং চলে। শুধু গ্রাহকই নয়, লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রামেগঞ্জ গড়ে ওঠা ছোট ছোট শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বাসা-বাড়ির দামি দামি বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে ক্ষতির মুখে পড়ছে গ্রাহকরা।

বর্তমান সরকার ১৫ বছর আগে ক্ষমতায় এসে দ্রুত বিদ্যৎ সমস্যার সমাধানে নানা উদ্যোগ নেয়। তারা কুইকরেন্ট্রাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জনগণের চাহিদা মেটায়। দেশে অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত বৈদ্যুতিক খাত। গত দেড় দশকে বিদ্যুৎ খাতে বিপুল বিনিয়োগ করেছে সরকার। বিদ্যুৎ বিতরণে এনেছে পরিবর্তন। এতে উৎপাদন সক্ষমতাও বেড়েছে তিন থেকে চারগুণ। দুই বছর আগেও বিদ্যুতের লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে ছিল। তবে বর্তমানে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এখন কেন বিদ্যুৎ ভোক্তা পর্যায়ে পাওয়া যাচ্ছে না। মানুষ আগের চেয়ে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে ব্যবহার করছে। ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি বছর বিদ্যুতের দাম বাড়লেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসেবা পাচ্ছে না। এ ছাড়া দেশে চলছে তীব্র তাপপবাহ। বিদ্যুৎ এই আসে, এই যায়। এতে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে গ্রাহক। প্রচণ্ড গরমে স্কুল-কলেজে কমছে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার।

রংপুর বিভাগের আট জেলায় একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শহর ও গ্রাম সবখানে ক্রমবর্ধমান লোডশেডিংয়ের কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। কৃষি উৎপাদনও এখন বহুলাংশে বিদ্যুৎনির্ভর। বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিংয়েও সেই কৃষি উৎপাদন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। ক্রমবর্ধমান লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাম-গঞ্জে গড়ে ওঠা শিল্পোৎপাদনেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।

গৃহবধূ রেবেকা সুলতানা কাকলি (৩৫) জানান, বিদ্যুতের অনির্ধারিত লোডশেডিং ও ভোল্টেজের ওঠানামার কারণে টিভি, ফ্রিজ, এসি, লাইন, ফ্যানসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছে গ্রামের সাধারণ মানুষ। এটা ব্যক্তির পাশাপাশি দেশের ক্ষতি।

এদিকে লালমনিরহাটের তিস্তা নদীর চরে ৫০ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র গত দুই বছর আগে উৎপাদনে গেছে। এখান থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সরবরাহ করা হয়ে থাকে। লালমনিরহাটে বিদ্যুৎ চাহিদা পিক আওয়ারে ১৩ মেগাওয়াট এবং অফ পিক আওয়ারে ৭-৮ মেগাওয়াট। এতে দিনের বেলায় লোডশেডিং হওয়ার কথা নয়, কিন্তু দিনের বেলায়ও লোডশেডিং হচ্ছে। লালমনিরহাটে দিনরাত মিলে ২৫-৩০ বার বিদ্যুৎ যায়। কখনো কখনো ১০-১৫ মিনিট পর আসে, আবার কখনো এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ আসে।

লালমনিরহাটে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণের দায়িত্ব নেসকোর। লালমনিরহাট নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চৌধুরী রায় জানান, চাহিদার থেকে সরবরাহ কম পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। লালমনিরহাটে পিক আওয়ারে চাহিদা ১৩ মেগাওয়াট আর অফ পিক আওয়ারে চাহিদা ৭-৮ মেগাওয়াট।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App