×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

সারাদেশ

লটকন চাষে সফল শ্রীপুরের জাকারিয়া

Icon

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

লটকন চাষে সফল  শ্রীপুরের জাকারিয়া

নাসির উদ্দিন জর্জ, শ্রীপুর (গাজীপুর) থেকে : ঘন সবুজ পাতার ভেতরে ডালপালা ফেটে বের হওয়া বোঁটায় ঝুলছে অসংখ্য রসালো লটকন। কোনো গাছে সবুজ আবার কোনো গাছে কিছুটা হলুদ বর্ণের পাকা লটকন ঝুলতে দেখে যে কারোরই মুগ্ধ হতে হবে। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটী গ্রামের চাষি ডা. আবুল অফা জাকারিয়ার লটকন বাগানের দৃশ্য এটি। এ বছর প্রায় ১০০টি লটকনের চারা থেকে লক্ষাধিক টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। ৭ বছর আগে লটকন গাছ রোপণ ও পরিচর্যায় চার বছরের মাথায় ফলন পেতে শুরু করেন। এ বছর তিনি তৃতীয়বারের মতো ফলন পেতে যাচ্ছেন। তার বাগান দেখে আশপাশের এলাকার শতাধিক চাষি ইতোমধ্যে লটকনের চাষ শুরু করেছেন। লটকন চাষিদের দাবি, আগামীতে তেলিহাটীর তালতলা গ্রামটি লটকনের গ্রাম হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।

লটকন চাষি আবু ইউসুফ বলেন, ডা. জাকারিয়ার বাগান দেখে উৎসাহিত হয়ে আমি নিজেও লটকনের বাগান করেছি। তালতলী এলাকায় লটকনের চাষ ভালো হয়। এক সময় তালতলী গ্রাম লটকনের গ্রাম হিসেবে চিহ্নিত হবে। কৃষি শ্রমিক রহমত আলী বলেন, জাকারিয়া ভাইয়ের লটকন লাগানোর পর পরিচর্যায় রয়েছি। ফলনের পর গাছের পাতা ফেলে দিই। তারপর সার, ওষুধ সব আমি প্রয়োগ করেছি। গাছে লটকন ফলনের আগে আগে ডালপালা কাপড় দিয়ে ঘষামাজা করে দিই। এতে ভালো ফলন হয়।

কৃষি উদ্যোক্তা ডা. আবুল অফা জাকারিয়া বলেন, আমি প্রথমে এ বাগানে আড়াইশ’ লেবুর গাছ লাগিয়ে লেবু বাগান করেছিলাম। যখন দেখলাম ১০০ বস্তা লেবু বিক্রি করে বস্তা প্রতি ১০০ টাকাও পাই না। তখন আমি লেবু গাছ কেটে নরসিংদী এলাকা থেকে লটকনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করি। সাত বছর আগে ওই জমিতে লটকন গাছ রোপণ করে পরিচর্যা শুরুর চার বছরের মাথায় গাছে ফল আাসে। প্রথম বছর ৫০০ কেজি লটকন উৎপাদন হয়। পরের বছর ৭০০ কেজি এবং চলতি বছর ১ হাজার কেজি ফলনের স্বপ্ন দেখছেন। লটকন চাষে আমি লাভবান হচ্ছি। ইতোমধ্যে একটি গাছ থেকে ২০ কেজি লটকন নামিয়ে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। আরো ১৫ দিন পর লটকন পাকা পুরোদমে শুরু হবে।

তিনি বলেন, কম পরিচর্যায় অধিক লাভ হয় লটকন চাষে। আমাদের এলাকায় মানুষ যেভাবে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে ১০ বছর পর অনেকেই করবে। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানিও করতে করা যাবে। এ পর্যন্ত আমার দেখাদেখি কমপক্ষে ১০০ লোক লটকনের বাগান করেছে। আমার কাছ থেকে অনেকে পরামর্শ নেন। তারা বেশির ভাগ নরসিংদী থেকেই লটকনের চারা নিয়ে আসে। পরিশ্রম কম হলেও সিডিউল অনুযায়ী লটকন বাগানের পরিচর্যা ও সার, কীটনাশক প্রয়োগ করলে ভালো ফলন আসে।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা বলেন, শ্রীপুর লটকন চাষের জন্য উপযোগী। শ্রীপুরে এবার ৮ একর জমিতে লটকনের চাষ হয়েছে। শ্রীপুরের কৃষকদের আমরা পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে লটকন চাষে উদ্বুদ্ধ করে থাকি। কলমের মাধ্যমে চারা রোপণের জন্য উদ্বুদ্ধ করে থাকি। লটকন সুস্বাদু ফল হওয়ায় এটি সবাই চাষ করুক এমনটাই চাই।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App