×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

সারাদেশ

মেঘনায় মাদকের ছড়াছড়ি

Icon

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বাড়ছে মাদকের বিস্তার। আর এসব মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে তরুণরা, যার মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীও। ছোটখাটো মাদক সেবনকারী ও বিক্রেতা ধরাও পড়ছে। সবশেষ গত ২৬ জুন ভোর ৫টার দিকে উপজেলার বড়কান্দা ইউনিয়নের রামপুর ফরাজিকান্দি গ্রামের মৃত রমিজ উদ্দিনের ছেলে মো. আরিফ হোসেনকে (৩৫) ১০ পিস ইয়াবাসহ আটক করে থানাপুলিশ। পর তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

সরজমিন অনুসন্ধান করে জানা যায়, উপজেলার স্থলপথ ও নৌপথ দিয়ে অবাধে ঢুকছে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থান হচ্ছে ভাটেরচর নতুন রাস্তা, ছিনাই ও পাড়ারবন্দ। তবে এসব রাস্তা দিয়ে মাদকের চালান এলেও ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বিক্রি হয় মাদকদ্রব্য এবং ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেন মাদক কারবারিরা। বিশেষ করে এ উপজেলার মানিকারচর বাজারসহ আশপাশে মাদক কারবারিদের কয়েকটি আস্তানা রয়েছে। এছাড়া শাহেরা লতিফ মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পিছনে প্রায়ই সন্ধ্যার পরে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা। এখানে বিভিন্ন সময় লোক দেখানো অভিযান হলেও প্রতিবারই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় মাদক কারবারি ও সেবনকারীরা। এছাড়া রামপুর, সেননগর, রাধানগর, চন্দনপুর, সাতানী এলাকা ও পাড়ারবন্দ নদীপথসহ বেশ কয়েকটি স্থানে মাদকসেবীদের অবাধ বিচরণ লক্ষ করা যায়। অভিযোগ রয়েছে, এখানকার প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে। যার কারণে স্থানীয়রা এ বিষয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না।

গোপনে বিভিন্ন এলাকার একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় হেরোইনে আসক্তের সংখ্যা কমবেশি থাকলেও বর্তমানে এ উপজেলায় ইয়াবা এবং গাঁজা জাতীয় নেশায় আসক্তের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। তবে অবাক করার বিষয় হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে কিছু গাঁজা জব্দ হলেও ইয়াবা জব্দের ঘটনা নামমাত্র। সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময়ে থানা পুলিশের অভিযানে ছোটখাটো কিছু মাদক কারবারি এবং মাদকসেবী আটক হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে মূলহোতারা। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে মেঘনা উপজেলা এক সময় মাদকের স্বর্গ রাজ্যে পরিণত হবে বলে মনে করছে সচেতন মহল। এতে এ এলাকার যুব সমাজ মাদকে ঝুঁকে পড়বে। পাশাপাশি বেড়ে যাবে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ প্রবণতা।

সূত্র আরও বলছে, অদৃশ্য শক্তি বলে মাদক কারবারিদের একটা বড় অংশ ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। অনেকে ধারণা করছেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন পন্থায় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে আর ধরা পড়ছে ছোটখাটো কিছু মাদকসেবী। প্রকৃতপক্ষে এখন স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নড়েচড়ে বসলেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে মাদকসেবীদের এবং লাগাম টানা সম্ভব হবে মাদক কারবারিদের।

এ বিষয়ে মেঘনা থানার ওসি মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন ভোরের কাগজকে বলেন, এ এলাকায় আগে থেকেই আমি মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স ঘোষণা দিয়ে আসছি। অতএব মাদক যারা সেবন করে বা ব্যবসা করে, এমনকি তাদের কেউ যদি সহযোগিতাও করে তাহলে সে যে-ই হোকনা কেন আমি তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব। তাছাড়া সাংবাদিক ও এলাকার সচেতন ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করছি। আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা পেলে তাদের প্রতিহত করা সম্ভব।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App