×

সারাদেশ

মেহেরপুরে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বিয়েবিচ্ছেদ

Icon

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মর্তুজা ফারুক রুপক, মেহেরপুর থেকে : বুকভরা আশা আর স্বপ্ন নিয়ে সংসার শুরু করলেও সবক্ষেত্রে ধরা দিচ্ছে না সুখপাখি। কখনো কখনো মেহেদীর রং মোছার আগেই ভেঙে যাচ্ছে অনেকের সংসার। আবার কখনো ৮-১০ বছর একসঙ্গে থেকেও হচ্ছে না মনের মিল। ফলে বিচ্ছেদেই সমাধান খুঁজছে কেউ কেউ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় সংসারের বন্ধন দুর্বল হচ্ছে ক্রমেই। যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে মানুষ। ভালো লাগা, ভালোবাসাও যাচ্ছে কমে। ফলে বাড়ছে বিয়েবিচ্ছেদের মতো ঘটনা।

গত এক দশকে বদলে গেছে তালাকের ধরন। আগে ৭০ শতাংশ তালাকের ঘটনা ঘটত স্বামীর পক্ষ থেকে। কিন্তু এখন তালাকের ঘটনায় নারীরা পুরুষের চেয়ে এগিয়ে গেছে। বর্তমান সময়ে প্রায় ৮০ শতাংশ বিচ্ছেদ হচ্ছে নারীর পক্ষ থেকে।

জেলা নিবন্ধন অফিসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে মেহেরপুর জেলায় মোট দুই হাজার একশ বিয়ের পাশাপাশি এক হাজার ১২৯টি তালাক নিবন্ধিত হয়েছে। এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরে সদর উপজেলায় ৮০২টি বিয়ের বিপরীতে ৯৭৪টি তালাক, মুজিবনগর উপজেলায় ৫৫২টি বিয়ের বিপরীতে ২৩৩টি বিচ্ছেদ এবং গাংনী উপজেলায় ৭৪৬টি বিয়ের বিপরীতে ৭২২টি তালাক নিবন্ধিত হয়। পাশাপাশি রয়েছে প্রচুর অনিবন্ধিত বাল্যবিয়ে এবং তালাক। যার কোনো কাগজপত্র নেই।

বিভিন্ন ম্যারেজ রেজিস্ট্রারের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বর্তমানে তালাকের কারণ হিসেবে যৌতুক ও শারীরিক নির্যাতন তেমন একটা নেই। গত ২-৩ বছরে তালাকনামায় যে কারণগুলো দেখানো হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো সোশ্যাল মিডিয়া যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টিকটকের অতিরিক্ত আসক্তি, স্ত্রীর পিতা-মাতার স্বামীর পরিবারে বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অযাচিত হস্তক্ষেপের প্রবণতা, সঠিকভাবে স্ত্রীর ভরণপোষণ করতে না পারা, যৌন অক্ষমতা এবং স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের অনৈতিক পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া।

এ ব্যাপারে কথা বললে মেহেরপুর সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল আমিন ধুমকেতু জানান, সামাজিক অবক্ষয়, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবাধ বিচরণ, পরিবারের তদারকি না থাকা, অথবা একতরফা মূল্যায়ন ইত্যাদি কারণে সাধারণত বিয়েবিচ্ছেদ বাড়ছে। প্রায় একই রকম মন্তব্য করেন মানবাধিকার কর্মী ও হেল্প ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক দিলারা জাহান। তিনি জানান, উদ্বেগজনক হারে মেহেরপুরে বিয়েবিচ্ছেদের ঘটনা বাড়ছে। নি¤œবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত সবখানেই তালাকের ঘটনা ঘটছে। দিলারা আরো জানান, গ্রামাঞ্চলে বেশির ভাগ মেয়েদের প্রাপ্ত বয়স হওয়ার আগেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হচ্ছে। কিছুদিন যেতে না যেতেই মনোমালিন্য শুরু হয়, পরে বিচ্ছেদে গিয়ে ঠেকে। এই সংখ্যাটা এখন অনেক। এছাড়া অল্প বযসে প্রেম-ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়া, পরিবারের অমতে গিয়ে বিয়ে, এগুলো আসলে বেশিদিন টেকে না। মোহ কমে গেলে ভালোবাসাও কমে যায়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App