×

সারাদেশ

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সহীন মধ্যনগর উপজেলা

সাপের দংশনে চিকিৎসা ছাড়াই মৃত্যুর আশঙ্কা

Icon

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সাপের দংশনে চিকিৎসা  ছাড়াই মৃত্যুর আশঙ্কা

রাসেল আহমদ, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) থেকে : মধ্যনগরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আধুনিক চিকিৎসার সুযোগের অভাবে সাপের দংশনে বিনা চিকিৎসায় প্রাণ হারানোর আশঙ্কা করছেন উপজেলাবাসী। দূরত্বজনিত কারণে পাশের ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সময়মতো পৌঁছাতে না পারার ফলে সাপের দংশনে ওঝা ও স্থানীয় ফার্মেসিই মধ্যনগরবাসীর একমাত্র ভরসা।

জানা গেছে, মধ্যনগর বাংলাদেশের একমাত্র উপজেলা, যেখানে নেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ২২২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলার ১৪৭টি গ্রামের দেড় লাখ মানুষের চিকিৎসার জন্য নেই সরকারি বা বেসরকারি কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক। উপজেলার চারটি ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য দুটি মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্র এবং দুটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্র রয়েছে। তবে এগুলোর কোনোটিতেই এমবিবিএস ডাক্তার নেই। নেই রোগ নির্ণয়ের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও। সর্দি-কাশি, জ¦র, মাথাব্যথার চিকিৎসা ছাড়া আর কিছুই হয় না এখানে। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগ যুগ ধরে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে মধ্যনগর অঞ্চলের জনগণের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। এ পরিস্থিতিতে উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

উপজেলার মধ্যনগর সদর ইউপির চেয়ারম্যান সঞ্জীব রঞ্জন তালুকদার টিটু বলেন, সম্প্রতি দেশব্যাপী সাপের ব্যাপক উপদ্রব দেখা দিয়েছে। বর্ষাকালে স্বাভাবিকভাবেই হাওরাঞ্চলে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। এ জন্য জরুরি ভিত্তিতে মধ্যনগরের দুটি মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্র এবং ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে এমবিবিএস ডাক্তার পদায়ন ও পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা প্রয়োজন। এছাড়া উপজেলার বাসিন্দাদের চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপনের দাবি জানান তিনি। বংশীকুণ্ডা বাজারের তালুকদার ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী এবিএম জুয়েল তালুকদার বলেন, মধ্যনগর উপজেলায় চিকিৎসার সুব্যবস্থা না থাকায় সাপের কামড়ে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুঝুঁকির বিষয়টি মানা যায় না। উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হয় পাশের ধর্মপাশা উপজেলা থেকে।

ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুবীর সরকার বলেন, ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম রয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যে আরো ৫০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম সরবরাহ হবে এ হাসপাতালে। ফলে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহজেই সাপে দংশনের রোগীদের চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হবে।

তিনি আরো বলেন, সাপের দংশনের শিকার রোগীদের ক্ষেত্রে বিষাক্ত সাপের দংশন কিনা, তা নিশ্চিত হয়ে চিকিৎসা শুরু করতে হয়। বিষাক্ত সাপের দংশন হলে পলিভ্যালেন্ট অ্যান্টিভেনম দেয়া হয়। আর হাইপারসেনসিটিভিটি রিঅ্যাকশন যেন না হয়, সে জন্য আগে অ্যাড্রেনালিন দিতে হয়। একটু পরপর প্রেশার মাপার পাশাপাশি ইউরিন আউটপুটও দেখতে হয়। ফলে এমবিবিএস ডাক্তার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়া এ রোগীর চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অতীশ দর্শী চাকমা বলেন, এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পার্শ্ববর্তী ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। এছাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে ডাক্তার পদায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আহম্মদ হোসেন মুঠোফোনে ভোরের কাগজকে বলেন, মধ্যনগর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে এখনো ধর্মপাশা উপজেলা থেকে পৃথক করা হয়নি। তাই সাপের কামড়ে অ্যান্টিভেনম নিতে ধর্মপাশা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হবে। সেখানে (ধর্মপাশা) অ্যান্টিভেনম ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। মধ্যনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মধ্যনগরে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপনের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে। এ বিষয়ে স্থান নির্বাচন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যেই এই প্রস্তাবনা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে সম্মতি নিয়ে প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে সব কিছু মিলিয়ে মধ্যনগরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম চালু হতে আরো বছর তিনেক সময় লাগতে পারে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App