×

সারাদেশ

সুগন্ধা-বিষখালি নদীতে রাতের আঁধারে বালু তোলার মহোৎসব

Icon

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি (শহর) থেকে : ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার সুগন্ধা ও বিষখালি নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। দুই নদীর বিভিন্ন তীরে রাত হলেই ডজন ডজন ড্রেজার দিয়ে চলছে অবাধে বালু উত্তোলন। যার ফলে নদীভাঙন তীব্র হচ্ছে। গিলে খাচ্ছে ফসলি জমি আর মানুষের বসতবাড়ি। নদীর তীরবর্তী মানুষরা ভাঙন-আতঙ্কে দিন পার করছেন।

জানা গেছে, নলছিটি পৌর এলাকার অনুরাগ-সংলগ্ন সুগন্ধা নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন চলছে। রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত চলে এই বালু উত্তোলন। ফলে এই এলাকায় নদীভাঙন তীব্র হচ্ছে। অন্যদিকে উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়নের চরইসলামাবাদ-সংলগ্ন বিষখালি নদী থেকে সন্ধ্যা হলেই ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চলে। আবার রাত পোহাবার আগেই তারা চলে যায়। এ যেন ‘মরার উপর ফোড়ার ঘা’। এমনিতেই এসব এলাকায় বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন প্রবল আকার ধারন করে। তার উপর অবাধে বালু কাটার ফলে ভাঙন আরো তীব্র হয়। রানাপাশার চরইসলামাবাদ এলাকায়ই তৈরি করা হয়েছে মুজিব কেল্লা। বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পরতে পারে সরকারি এই স্থাপনা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম মন্টু জানান, দীর্ঘদিন ধরে পাশের উপজেলার একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় একটি চক্র নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। সন্ধ্যা হলেই ৭ থেকে ৮টি ড্রেজার দিয়ে দেদারসে বালু উত্তোলন চলে। তাই এখন বিষখালি নদী-সংলগ্ন চর এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের ঘরবাড়ি ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। বালু উত্তোলনের ফলে নদীর দুই তীরে ভাঙনের তীব্রতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।

তিনি আরো বলেন, এর প্রতিকার চেয়ে গত ২৪ এপ্রিল স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে একটি অভিযোগ লিখিতভাবে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী বরাবরে দাখিল করেছিলাম। এর পরেও বালু উত্তোলন থামেনি।

পৌর এলাকার বাসিন্দা ইশরাক মাহমুদ বলেন, আমাদের অনুরাগ গ্রামের শতশত পরিবার তাদের ঘরবাড়ি নদীতে হারিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। আমরাও একাধিকবার বাড়ি হারিয়ে নতুন বাড়ি তৈরি করেছি। এখন নদী থেকে আমাদের ঘরের দূরত্ব সামান্য কয়েক মিটার। বিগত সময়ে নদীভাঙনের তীব্রতা কম হলেও নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙন আবারো বেড়েছে। রাত হলেই এক ডজন ড্রেজার নদীর দুই পাশ থেকে বালু উত্তোলন করে। আবার রাত পোহাবার আগেই সটকে পড়ে। এ নিয়ে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলেও তাতে তারা কর্ণপাত করে না। আমাদের গ্রামে এরকম শতশত ভুক্তভোগী আছে যারা একাধিক বার নদীতে তাদের বাড়িঘর বিলীন হতে দেখেছেন আবার অনেকে ভিটামাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। তাই আমরা প্রশাসনের কাছে নদী থেকে ড্রেজারে দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার কোনো সুযোগ নাই। এরকম যদি হয়ে থাকে তাহলে আমরা খুব শীঘ্রই বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App