×

সারাদেশ

গ্রেপ্তার ২ জনের আদালতে স্বীকারোক্তি

ঈশ্বরদীতে তপু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

Icon

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি : ঈশ্বরদীর তপু হত্যাকাণ্ডে জয়নাল আবেদিন জয় (২০) ও ঈশা খালাশি (১৯) নামে ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঈশ্বরদী থানাপুলিশ। মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে দ্ব›েদ্বর জেরে রুমে আটকে ভয়ভীতি দেখাতে গিয়ে উত্তেজিত হয়ে বন্ধু তপু হোসেনকে (১৪) হত্যা করা হয় বলে স্বীকার করেছেন গ্রেপ্তারকৃতরা। গত সোমবার সন্ধ্যায় তারা তপু হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। গ্রেপ্তারকৃতদের দেয়া তথ্যমতে হত্যার সঙ্গে মো. সোহেল (২২) নামে আরেকজন জড়িত রয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা করছে। জয়নাল আবেদিন জয় পাবনার আতাইকুলা থানার দুবলিয়া এলাকার জিয়াউর রহমানের ছেলে। তিনি ঈশ্বরদী সাঁড়া মাড়োয়ারী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র এবং মশুড়িয়া পাড়ার অরণ্য ছাত্রাবাসের ৩০৫ নম্বর রুমে থাকতেন। জয়ের নামে আতাইকুলা থানায় হত্যা মামলা রয়েছে। ঈশা খালাশি ঈশ্বরদীর মশুড়িয়া পাড়ার রাজন খালাশির ছেলে। ঈশা নিহত তপুর বন্ধু এবং প্রতিবেশী। হত্যার সঙ্গে জড়িত পলাতক মো. সোহেল রাজশাহীর বাঘার চক রাজাপুর এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। তিনিও অরণ্য ছাত্রাবাসে থাকতেন এবং ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র। এছাড়া তিনি ঈশ্বরদীর জনৈক দলিল লেখকের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। স্থানীয় ও তপুর বন্ধুদের সূত্রে জানা যায়, দুই বন্ধু তপু হোসেন ও ঈশা খালাশি এক সঙ্গেই চলাফেরা করতেন। অরণ্য ছাত্রাবাস তাদের এলাকায় হওয়ায় সোহেলের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। এই সোহেলের মাধ্যমে পরে জয়ের পরিচয় হয়। তারা সকলেই পার্শ্ববর্তী মাতৃছায়া ছাত্রাবাসের মালিক মো. আলি হোসেন হাসুর দোকানে বসে আড্ডা দিতেন। অন্যদিকে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আগে থেকেই তপুর বাবা আবুল কাশেমের সঙ্গে মাতৃছায়া ছাত্রাবাসের মালিক ও দোকানদার হাসুর বিরোধ চলে আসছিল। এর সঙ্গে হাসুর দোকানে বসে ছেলের আড্ডা দেয়ার বিষয়টি নিয়ে হাসুর সঙ্গে বিরোধ তীব্র হয়। তপু নিখোঁজের ৪ দিন আগে তাকে কেটে টুকরো টুকরো করার হুমকিও দেন হাসু ও তার মা রেনু বেগম।

এদিকে দোকানে আড্ডা দেয়া ও ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের খণ্ডকালীন পিয়নের চাকরি করার সুবাদে মাতৃছায়া ছাত্রাবাসের মালিক হাসুর সঙ্গে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের ছাত্র ও অরণ্য ছাত্রাবাসের সোহেলের সুসম্পর্ক তৈরি হয়। অন্যদিকে মাদকাসক্ত ও আগে থেকেই হত্যা মামলায় অভিযুক্ত জয় ছাত্রাবাসের ভাড়ার টাকাসহ বেশ কিছু টাকা ঋণ করেন। এসব কারণে নিহত তপুর বাবা হাসুকে হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেন।

ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, হত্যায় যারা জড়িত তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এজন্য অন্যদের আসামি করা হয়নি।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ আলম জানান, হত্যাকারীরা তপুকে প্রথমে জিম্মি করে পরিবারের কাছে থেকে অর্থ আদায় করতে চেয়েছিল। কিন্তু তপু জোড়াজুড়ি করায় তাকে হত্যা করেছে বলে গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে স্বীকার করেছে। তদন্ত করে হত্যায় তিনজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাই মামলায় হাসু ও তার মাকে আসামি করা হয়নি। পলাতক আসামি সোহেলকে গ্রেপ্তারের পর যদি নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায় তখন হত্যার পেছনে আরো কোনো কারণ আছে কিনা তা পরিষ্কার হওয়া যাবে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, নিখোঁজের সাত দিন পর ট্রাংকের ভেতর থেকে তপু হোসেন (১৪) নামের এক কিশোরের টুকরা করা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শনিবার সন্ধ্যায় শহরের মশুরিয়া পাড়ায় একটি মেসের কক্ষে রাখা ট্রাংকের ভেতর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App