×

সারাদেশ

মিষ্টি আঙুর চাষে সফল শ্রীপুরের যুবক সবুজ

Icon

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মিষ্টি আঙুর চাষে সফল শ্রীপুরের যুবক সবুজ

নাসির উদ্দিন জর্জ, শ্রীপুর (গাজীপুর) থেকে : গাজীপুরের লাল মাটিতে আঙুর আবাদ করে ফলিয়ে সফলতা পাওয়া যায় তা প্রমাণ করলেন শ্রীপুরের যুবক সবুজ। তার ফল বাগানে মাচা তৈরি করে তিনি সুপার সনিকা জাতের আঙুর চাষ শুরু করেন। প্রথমবার পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় বছরখানেক আগে ২৫টি আঙুর গাছ লাগালেও ২১টি গাছে ফলন এসেছে। গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে আঙুর। তার বাগানে আঙুরের আকার এবং ফলন ভালো হওয়ায় আশপাশের এলাকা থেকে কৃষকরা আঙুর চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তার বাগানের আঙুর বিদেশ থেকে আমদানি করা আঙুরের তুলনায় বেশি রসালো, মিষ্টি ও সুস্বাদু হবে বলে তিনি আশা করছেন। শখের বসে চাষ করে সফল হলে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

জানা যায়, বিদেশি ফল আঙুর দেশে চাষ করলে টক হয় এমন ধারণাকে বদলে দিতে ইউটিউবে দেখে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরের যোগীহুদা গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদের কাছ থেকে আঙুরের চারা সংগ্রহ করে আবাদ শুরু করেন সবুজ।

সরেজমিন সাতখামাইর (পশ্চিমপাড়া) গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল এলাকা নিয়ে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা। বাগানে প্রবেশ করতেই সুতা দিয়ে মাচা তৈরি করে আঙুর চাষ করেছেন। তার ফল বাগানে ঢুকতেই দেখা মেলে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে রসালো আঙুর। বাগানের সব কাজের তদারকি করেন সবুজ নিজে। আঙুরের পাশাপাশি মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন। সবুজের বাগানে কমলা, কুল, পেয়ারা, পেঁপে, চায়না কমলা, কলা, করমচা ও আম চাষ করেন। তার বাগান দেখতে প্রতিদিন ছুটে আসছে চাষি ও দর্শনার্থীরা।

বাগানের কাজে সাহায্য করা সাইফুল ইসলাম বলেন, দেশ থেকে অনেক মানুষ বিদেশে যায় ফলের বাগান বা আঙুর বাগানে কাজ করতে। আমি কখনো কল্পনাও করতে পারিনি যে আঙুরের বাগানে কাজ করব। এই আঙুর খেতে খুব রসালো এবং মিষ্টি হবে মনে হচ্ছে।

আঙুর চাষি সবুজ মিয়া বলেন, ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যোগীহুদা গ্রামের কৃষকের কাছ থেকে আঙুর চারা সংগ্রহ করি। রোপণের সাত মাসের মাথায় ফলন পাওয়ার কথা থাকলেও তার বাগানে আঙুরের ফলন আসে ১০ মাসে। পরিচর্যায় ঘাটতির কারণে ফলন আসতে তিন মাস দেরী হয়েছে বলে দাবি তার। তিনি আরো বলেন, আমার মতো আরো উদ্যোক্তা আঙুর চাষে এগিয়ে এলে বাইরে থেকে দেশে লাখ লাখ টন আঙুর আনতে হবে না। এই আঙুর চাষ করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করতে পারব। কৃষি বিভাগ ও সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষে সফল হওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

আঙুর চাষ সম্পর্কে তিনি বলেন, চৈত্র, বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসে আঙুরের চারা রোপণ করলে প্রথম বছরেই ফল পাওয়া যাবে। আর যদি আরো দেরিতে লাগাই তাহলে ফল কম আসবে। একেবারেই সহজ পদ্ধতিতে আঙুর চাষ করা যায়। জমিতে ৭-৮ ফুট উচ্চতার পিলার লাগবে। চারা লাগনোর সময় খেয়াল রাখতে হবে এক লাইন থেকে আরেক লাইনের ৯ ফুট দূরত্ব এবং এক গাছ থেকে আরেক গাছের দূরত্ব ৬ ফুট রাখতে হবে। এভাবে রোপণ করলে ফলন ভালো হবে। চারা লাগানোর আগে জৈব সার, টিএসপি ও জিপ সার দিয়ে যেখানে চারা লাগানো হবে সেখানে ভালোভাবে খুঁড়ে সার দিতে হবে। চারা লাগানোর পর ১০-১২ দিন ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। একবার ফল আসা শুরু করলে নিয়মিত পরিচর্যায় অনেক দিন ধরে আঙুর পাওয়া সম্ভব।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, আঙুর একটি উচ্চমূল্য ফল। আমাদের দেশে আঙুরের চাষ নেই বললেই চলে। শ্রীপুরের মাটি আঙুর চাষের জন্য উপযুক্ত।

সাতখামাইর (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের যুবক সবুজ প্রাথমিকভাবে আঙুর চাষ করে দেখিয়েছে। তাকে সার ব্যবস্থাপনা ও ওষুধ প্রয়োগের ব্যাপারে কৃষি বিভাগ সবসময় তার পাশে থেকে পরামর্শ দিয়ে আসছে। যদি আঙুরের মান ভালো হয় তা হলে কৃষকদের নিয়ে আঙুর চাষে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেব। সে লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App