×

সারাদেশ

সিংগাইর

শাকিল হত্যাকাণ্ডের দুই মাস পর আদালতে মামলা

Icon

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের আঠালিয়া গ্রামের শাকিল নিহতের ঘটনায় যে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছিল, এবার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তার অবসান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত শাকিলের পরিবারের দাবি, তাকে (শাকিল) ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত শাকিল ওই গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।

অবশেষে ঘটনার দুই মাস পর নিহতের বড় বোন রাশেদা বেগম বাদী হয়ে দুজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন বলে গতকাল শনিবার দুপুরে নিহতের পরিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মামলার আসামিরা হলেন একই গ্রামের মৃত ফজল শেখের ছেলে মকবুল (২৫) ও মৃত বরকত মুন্সির ছেলে মঞ্জুরুল ইসলামসহ (২৫) অজ্ঞাত ৪-৫ জন। মামলাটি মানিকগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক আমলে নিয়ে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আগামী ৭ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদির আইনজীবী জহিরুল ইসলাম বলেন, গত ৬ জুন মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগে জানা যায়, নিহত শাকিল প্রতিবেশী জান্নাতিকে প্রেমে পর বিয়ে করেন। জান্নাতির পরিবার বিয়ে মেনে নেয়নি। দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ মিটাতে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয় আসামি মকবুল ও মঞ্জুরুল। সুযোগ নিয়ে তারাসহ অজ্ঞাত আরো দুইজন ঈদুল ফিতরের দিন গত ১১ এপ্রিল দুপুর দেড়টার দিকে শাকিলকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়। হেমায়েতপুর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের জায়গীর ও ভূমদক্ষিণ বাসস্ট্যান্ডের মাঝামাঝি চলন্ত সিএনজির মধ্যে শাকিলকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে মকবুল ও মঞ্জুরুল। এ সময় শাকিল চিৎকার করতে থাকে। একপর্যায়ে ওই সড়কের বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষে সিএনজি উল্টে যায়। সিএনজিতে থাকা অজ্ঞাত দুই আসামি পালিয়ে যায়। কিন্তু আসামি মকবুল ও মঞ্জুরুল মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে ঘটনাস্থল থেকে উধাও হয়। আশপাশের লোকজন নিহত শাকিলকে সাভারে হেমায়েতপুর জামাল ক্লিনিকে ভর্তি করলে বাদির পরিবার ও তার আত্মীয়স্বজনরা দুর্ঘটনার সংবাদ পান। মামলার বাদী রাশেদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, গত রোজার ঈদের দিন আমার ভাইকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসামিরা মদ্যপান অবস্থায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।

পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করলেও সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে এমন খবরে আমরা লাশ ময়নাতদন্ত করতে দেইনি। ঘটনার দুই দিন পর হত্যার আসল রহস্য জানতে পারি। পরে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলা সঠিক তদন্তে নিহতের লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের দাবিও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে মামলার আসামি মকবুল বলেন, ঈদের নামাজ পড়ে সিএনজি নিয়ে আমরা ঘুরতে বের হই। দুপুরের দিকে আমাদের গ্রামের জলিলের ভিটা থেকে শাকিল আমাদের সিএনজিতে ওঠে। এরপর মোটরসাইকেলের সঙ্গে সিএনজির সংঘর্ষে জায়গীর এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানেই শাকিলের মৃত্যু হয়। অন্য আসামি মঞ্জুরুল হক বলেন, আমি সিএনজির চালক ছিলাম। পূর্ব দিক থেকে আসা মোটরসাইকেল সিএনজির সঙ্গে মুখোমুখি লেগে যাওয়ার উপক্রম হয়। ওই মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে গিয়ে সিএনজি উল্টে গিয়ে শাকিল মারা যায়। তাকে হত্যা করা হয়নি বলে অভিযুক্তদ্বয়ের দাবি। তবে সবাই মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে মকবুল ও মঞ্জুরুল স্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়ারুল ইসলাম বলেন, মামলার সঠিক তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App