×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

সারাদেশ

বাঘায় আ.লীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

Icon

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক, রাজশাহী ও বাঘা প্রতিনিধি : জেলার বাঘা উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুগ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল, বাঘা পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আক্কাস আলীসহ অন্তত অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে।

গতকাল শনিবার সকালে উপজেলা পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া গুরুতর আহত আশরাফুল ইসলাম বাবুল ও রফিকুল ইসলামকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, শনিবার বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে বাঘা পৌর মেয়র আক্কাস আলীর সীমাহীন দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে। অপরদিকে একই দিন সকাল ১০টায় উপজেলা সচেতন নাগরিকদের ব্যানারে বাঘা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কতিপয় ব্যক্তি দলিল লেখক সমিতির নামে ক্রেতার কাছ থেকে জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে।

সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদের সামনে আওয়ামী লীগের ব্যানারে আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে মানববন্ধনে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস সরকার বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় উপজেলা সচেতন নাগরিকদের ব্যানারে বাঘা পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আক্কাস আলী ও পাকুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলাম মেরাজের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল যাচ্ছিল। এ সময় দুপক্ষ মুখোমুখি হলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে পুলিশ টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ সময় সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

রফিকুল ইসলাম জানান, আমি মানববন্ধন কর্মসূচিতে যাওয়ার সময় আমার ওপর হামলা করে এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, এমপিপক্ষের স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দীন পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আক্কাস আলী গ্রুপের মধ্যে পূর্ব শত্রæতার জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াহিদ সাদিক কবীর জানান, প্রশাসনকে অবগত করে উপজেলা পরিষদের সামনে দলীয় লোকজন নিয়ে আমরা পৌর মেয়র আক্কাস আলীর দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছিলাম। এ সময় পৌর মেয়র আক্কাস আলীর নেতৃত্বে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ অনেক নেতাকর্মী আহত হয়।

পাকুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান, মিরাজুল ইসলাম মেরাজ জানান, উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কতিপয় ব্যক্তি দলিল লেখক সমিতির নামে ক্রেতার কাছ থেকে জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রতিবাদে সচেতন নাগরিকের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে যাওয়া সময় তাদের ওপর হামলা করে। এর আগে মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে বলে দাবি করেছেন মেরাজ।

বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, কত রাউন্ড টিয়ারশেল ছাড়া হয়েছে এবং ককটেল বিস্ফোরণের হিসাব পরে জানা যাবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App