×

সারাদেশ

হোসেনপুরে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালে বিলুপ্ত হচ্ছে দেশি মাছ

Icon

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মোহাম্মদ জাকির হোসেন, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) থেকে : নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে অবাধে মাছ ধরায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে দেশি প্রজাতির মাছ। এক সময় মাছে ভাতে বাঙালি বলা হলেও এখন আর সে কথার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। কারেন্ট জাল কেনাবেচা ও বাজারজাত করা নিষিদ্ধ থাকলেও এ বিষয়ে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় সারা দেশের মতো হোসেনপুর উপজেলায় সর্বত্রই এ জাল দিয়ে মাছ শিকারের কারণে বিলুপ্ত হচ্ছে দেশি প্রজাতির মাছ। এখন চলছে বর্ষাকাল, আর বর্ষাকাল মানেই পানিতে চারদিক থৈ থৈ। খালে-বিলে বর্ষার নতুন পানিতে দেখা মেলে দেশীয় প্রজাতির নানা জাতের মাছ। তবে বর্ষা এলেও হোসেনপুরের খালে-বিলে তেমন দেখা মিলছে না দেশি মাছের। বিপজ্জনক চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহারে খালে-বিলে কমে যাচ্ছে এসব দেশি প্রজাতির মাছ।

জানা যায়, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বেশির ভাগ এলাকা খাল-বিলের দখলে। বর্ষা হলেই এসব খাল-বিল পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। আর এ সময় নতুন পানিতে দেশি প্রজাতির নানা জাতের মাছ ধরত মৎস্য শিকারিরা। গত ১০ বছর আগেও এ উপজেলায় মাছ ধরার জন্য চাই, পোলো, ঠেলা জাল, বরশি ইত্যাদি ফাঁদ দিয়ে মাছ শিকার করা হতো। দেশি ফাঁদে মাছ ধরায় মাছের বংশ বিস্তারে কোনো প্রভাব পড়ত না। তবে বর্তমানে চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকার করায় মাছের বংশ বিস্তার ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

গত কয়েক দিনে সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অসাধু শিকারিরা নিজেদের খাওয়া ও বিক্রির জন্য কারেন্ট জাল এবং চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করছেন। এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহার করা এক মৎস্য শিকারি জানান, এ জালে যে কোনো মাছের পাশাপাশি সাপ, ব্যাঙসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী ধরা পড়ে। খালে-বিলে নতুন পানি এলেই তারা এ জাল ব্যবহার করেন বলেও জানান তিনি।

সূত্রমতে, কয়েক দশক আগেও এ উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় আড়াইশ প্রজাতির মিঠাপানির মাছ ছিল। মনুষ্যসৃষ্ট বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতায় এসব মাছের অনেক প্রজাতি এখন আর চোখে পড়ে না। বর্ষা মৌসুমে নদী, খাল, বিল থেকে কারেন্ট জাল দিয়ে ব্যাপক হারে ডিমওয়ালা মাছ ধরার কারণে দেশি মিঠা পানির মাছের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা মৎস্যজীবী লীগ নেতা মুসলেহ উদ্দিন মুসলিম জানান, গত ১০-১৫ বছর আগেও মাছ ধরার চাই ব্যবহার করে ২-৩ ঘণ্টায় যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যেত তা দিয়ে দুবার তরকারি খাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে খালে-বিলে মাছ নেই। কারেন্ট জাল ও চায়না জালে সব মাছ ধরা পড়ে যায়। ফলে মাছের বংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে না।

দেশি প্রজাতির মাছের হারিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মমতাজ জিন্নাত সাগর বলেন, বিভিন্ন কারণেই দেশি প্রজাতির মাছ হারিয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে মানুষের সচেতনতার অভাবও রয়েছে। হারিয়ে যাওয়া দেশি মাছ রক্ষায় এখন ব্যাপক গবেষণা হচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন জানান, এ উপজেলায় গভীর খাল-বিলের সংখ্যা কম। এছাড়া শুকনো মৌসুমে এগুলোতে পানি না থাকায় দেশি প্রজাতির মাছ কমে যাওয়ার একটি কারণ। অভিযানের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জালের ব্যাপারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে এগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App