×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

সারাদেশ

শ্রীপুরে পোল্ট্রি বর্জ্য থেকে তৈরি বায়োগ্যাসের চাহিদা বাড়ছে

Icon

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

শ্রীপুরে পোল্ট্রি বর্জ্য থেকে তৈরি বায়োগ্যাসের চাহিদা বাড়ছে

নাসির উদ্দিন জর্জ, শ্রীপুর (গাজীপুর) থেকে : শ্রীপুর পৌরসভার লোহাগাছ এলাকায় পোল্ট্রি খামারের বিষ্ঠা থেকে উৎপাদিত হচ্ছে বায়োগ্যাস। আর এই বায়োগ্যাসের মাধ্যমে শতাধিক চুলা ব্যবহার করছে স্থানীয়রা। ঝুঁকিমুক্ত হওয়ায় ওই প্লান্টের আশপাশে ঝুলছে বায়োগ্যাস সরবরাহের পাইপ। প্রায় তিন বছর ধরে বায়োগ্যাস দিয়ে রান্নার কাজ করছেন তারা। বর্তমানে লোহাগাছ এলাকার প্রায় ১০০ পরিবার বায়োগ্যাসের সুবিধা ভোগ করছেন। কোনো বাড়িতে একটি আবার কোনো বাড়িতে দুটি করে ১৩০টির বেশি চুলা ব্যবহার হচ্ছে। সিলিন্ডার গ্যাসের চেয়ে অনেকটা ঝুঁকিমুক্ত এবং কম মূল্যে সরবরাহের কারণে বায়োগ্যাস ব্যবহারকারী পরিবারের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে।

জানা যায়, লোহাগাছ এলাকায় রাফিন পোল্ট্রি খামারের বর্জ্যরে দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হওয়ায় একসময় বিপাকে পড়েছিলেন খামারের মালিক মোস্তাফিজুর রহমান। খামারের সেই বর্জ্যই এখন আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসীর জন্য। বর্জ্য থেকে উৎপাদন হওয়া বায়োগ্যাস জ¦ালানি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে এলাকার বাসাবাড়ির ১৩০টি পরিবারে। বায়োগ্যাস প্লান্টে ব্যবহৃত বর্জ্যরে উচ্ছিষ্ট অংশ ব্যবহার হচ্ছে মাছের খাবার ও কৃষি জমির জৈব সার হিসেবে।

এতে একদিকে রক্ষা হচ্ছে পরিবেশ, অন্যদিকে সাশ্রয় হয়েছে জ¦ালানি খরচ। শুধু নিজের বাসাবাড়িতে নয়, মাসিক ১ হাজার টাকায় গ্রাহকদের বাসাবাড়িতে গ্যাসের সংযোগ দিচ্ছেন মোস্তাফিজুর রহমান। এতে প্রতি মাসে অতিরিক্ত এক লাখ টাকা লাভ হচ্ছে তার। পাশাপাশি গ্যাসের সুবিধা পাচ্ছেন এলাকাবাসী।

বায়োগ্যাস ব্যবহারকারী আব্দুল লতিফ বলেন, মুরগির বিষ্ঠার গ্যাস দিয়ে রান্না করা যায়। অন্যান্য সিলিন্ডার গ্যাসের মতোই। আগে প্রতি মাসে ৮০০ টাকা গ্যাস ভাড়া দিতে হতো। এখন দুই মাস ধরে ৯০০ টাকা দিতে হচ্ছে। বর্তমানে সিলিন্ডার এলপিজি গ্যাসের যে চড়া মূল্যে, তার চেয়ে বায়োগ্যাস আমরা সহজেই এবং সূলভ মূল্যে পাচ্ছি। এ গ্যাস ব্যবহারে আমাদের সময়, টাকা এবং ঝুঁকিমুক্তসহ সব দিক দিয়ে সাশ্রয় হচ্ছে।

গৃহিনী খোরশেদা বেগম জানান, বাজারের বোতলের গ্যাসের চেয়ে এই গ্যাস অনেক ভালো। বেশিক্ষণ জ¦লে। বাজারের বোতলের গ্যাস নির্দিষ্ট সময় পর শেষ হয়ে যায়। এ গ্যাস আমরা ২৪ ঘণ্টা সার্ভিস পাই। বোতল গ্যাসের চেয়ে এ গ্যাসের মূল্যও কম এবং সাশ্রয় বেশি। বায়োগ্যাসের মাধ্যমে মুরগির খামারে বাচ্চা তাপ দেয়া, বাসার রান্নার কাজে ব্যবহার, জৈব সার উৎপাদন ও জেনারেটরের মাধ্যমে বাতিও জ¦ালাতে পারছি আমরা। এতে খরচ ও ভোগান্তি দুটোই কমেছে।

রাফিন পোল্ট্রি ফার্মের ব্যবস্থাপক কাউসার আহমেদ জানান, আমাদের এ প্লান্ট থেকে ১৩০টি চুলায় গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। গত তিন বছর ধরে আমরা এ সুবিধা দিচ্ছি। আমাদের পরিকল্পনা আছে, আরো ৭০ থেকে ৮০টি চুলায় সরবরাহ করার।

রাফিন পোল্ট্রি খামারের মালিক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি ১৯৯৯ সাল থেকে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। প্রথম আমি ২০০ মুরগি নিয়ে ব্যবসা শুরু করি। তখন মুরগির বিষ্ঠা নিয়ে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হই। এ বিষ্ঠা দিয়ে একটা কিছু করতে হবে। তখন ইটকলের মাধ্যমে ছোট একটা প্লান্ট পাশ করাই। প্রথম দিকে উৎপাদিত গ্যাস আমার ফার্মের কর্মচারীদের রান্নার কাজে ব্যবহৃত হতো। পরে দেখলাম এটার সুযোগ সুবিধা ভালোই। পরে গত তিন বছর আগে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫০ ঘন মিটারের প্লান্ট করি। প্রথমে এলাকার ৭৬টি বাসা-বাড়িতে সংযোগ দেই। সংযোগ দেয়ার পর প্রথমদিকে যারা ব্যবহার করছে তারা সবাই এটার প্রতি খুব খুশি। এ বায়োগ্যাসের প্রতি উদ্ভুদ্ধ হয়ে আশপাশের লোকজনও আমার কাছ থেকে বায়োগ্যাসের সংযোগ নেয়।

তিনি আরো জানান, প্রথমে আমি সংযোগ ফি ১ হাজার টাকা এবং মাসিক ৮০০ টাকা নেই। বর্তমানে প্রতি মাসে ৯০০ টাকা নিচ্ছি। আমি তাদের ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস সরবরাহ করছি। দিন দিন গ্যাসের প্রেসার ভালো থাকায় এবং আমার কাছ থেকে ভালো সার্ভিস পাওয়ায় এলাকার সবাই এ সংযোগ দেয়ার দাবি জানায়।

পরে তাদের অনুরোধে আমি আরো ৭৬টি লাইন করে সর্বমোট ১৩০টি বাসা-বাড়িতে বায়োগ্যাসের সংযোগ দিয়েছি। ভবিষ্যতে আশপাশের আরো বাসাবাড়িতে গ্যাসের সংযোগ দেয়ার ইচ্ছে আছে। সব মিলিয়ে আমার টার্গেট ২০০ পরিবারের মধ্যে বায়োগ্যাস সরবরাহ করা।

শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন আলী আকবর বলেন, যাদের হাঁস, মুরগির বিষ্ঠা বা গরুর খামার রয়েছে তারা বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট করছে। তাদের দিয়ে আশপাশের মানুষ উপকৃত হচ্ছে।

আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাস লিমিটেড। কিন্তু হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা থেকে উৎপাদিত গ্যাস আনলিমিটেড ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এতে প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর চাপ কমছে। জৈব সার উৎপাদন ও বিকল্প জ¦ালানি হিসেবে গ্যাস ও বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে খামারিদের বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App