×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

সারাদেশ

ভূমধ্যসাগরে প্রাণ গেল রায়পুরার দুই যুবকের

থামছে না সাগরপথে মানবপাচার লিবিয়ায় সক্রিয় চক্র

Icon

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি : লিবিয়ায় থেকে সাগরপথে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার যুবকদের ইতালি পাঠাচ্ছে একটি চক্র। এ চক্রের একজন রায়পুরার রাকিব মিয়া। অনিরাপদ যাত্রায় অনেকের মৃৃত্যু হলেও বন্ধ হয়নি চক্রটির মানবপাচার। তাদের ফাঁদে পা দিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে মারা গেলেন রায়পুরার দুই যুবক।

জানা গেছে, লিবিয়া থেকে ইউরোপের দেশ ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে রায়পুরার দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত যুবকরা হলেন উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর নগর গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার ছেলে ইসতিয়াক হাসান ইমরান (৩২) এবং উপজেলার চান্দেরকান্দি পশ্চিমপাড়া এলাকার সৌদি প্রবাসী ওসমান মিয়ার ছেলে ফয়সাল আবেদিন (২৩)। এর মধ্যে ইমরান মুছাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার উপজেলার মুছাপুর ও চান্দেরকান্দি ইউনিয়নে মৃত যুবকদের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, গত ১৮ জুন ইতালির দক্ষিণ উপকূলে অভিবাসন প্রত্যাশীদের বহনকারী দুটি নৌকা ডুবে যায়। এর একটিতে ছিলেন ইমরান। এতে তিনিসহ ১১ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিশুসহ ৬০ জন নিখোঁজ আছেন।

এছাড়া ১৮ দিন আগে সাগর পথে ইতালি রওনা দেন ফয়সাল আবেদিন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানায় তার পরিবার।

ইসতিয়াক হাসান ইমরানের মৃত্যুর সংবাদটি তার ভাই আরমান আহমেদকে মুঠোফোনে জানান দালাল রাজিব মিয়া।

দালালের বরাত দিয়ে আরমান বলেন, ডুবে যাওয়া নৌকার পাটাতনের নিচে ইমরানসহ ১২ জন ছিলেন। ইতালির উপকূলে প্রবেশের পর তেলের ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণ হলে নৌকার ভেতরে পানি ঢুকে যায়। এ সময় বাইরে থেকে পাটাতন আটকানো ছিল। সেখানে স্ট্রোক করে ইমরানের মৃত্যু হয়। নৌকাটিতে তখন ৬২ অভিবাসন প্রত্যাশী ছিলেন।

আরমান আরো জানান, লিবিয়া প্রবাসী দালাল রাজিব মিয়ার সঙ্গে ইমরানের ১৫ লাখ টাকায় ইতালি যাওয়ার চুক্তি হয়েছিল। সাগর পথে বিদেশ যাত্রায় অমত ছিল তার পরিবারের। কিন্তু ইমরানের জেদ ছিল ইতালি যাবেন। লিবিয়ায় একটি গেমঘরে দুই মাস বন্দি ছিলেন। সেখানে পর্যাপ্ত খাবার ও পানি দেয়া হয়নি। শেষ গত ১৬ জুন তার ভাইকে পাঠানো একটি খুদে বার্তায় ইমরান বলেন, ‘আজকে গেম দেয়া হবে। বাবা-মাকে দোয়া করতে বলিস।’ ফয়সাল আবেদিনের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, তিনি রায়পুরা সরকারি কলেজে পড়াশোনা করতেন। স্বপ্ন ছিল ইতালি যাবেন। গত বছর পরিবারের কাউকে না জানিয়ে উপজেলার বেগমাবাদ এলাকার লিবিয়া প্রবাসী রাকিব মিয়া নামে এক দালালের মাধ্যমে লিবিয়া পাড়ি জমান তিনি। চুক্তি অনুযায়ী লিবিয়া পৌঁছে দালালকে ৬ লাখ টাকা দেয় ফয়সালের পরিবার। বাকি ৪ লাখ টাকা ইতালি পৌঁছানোর পর দেয়ার কথা ছিল।

গত বুধবার ফয়সাল আবেদিনের মৃত্যুর সংবাদটি ফোনে পরিবারকে জানান সৌদি প্রবাসী তার এক নিকটাত্মীয়। খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে ভাইরাল হয়। সেই পোস্ট থেকে জানা যায়, লিবিয়ার বেনগাজী শহরের তলময়দা সাগর তীরে দুটি মরদেহ ভেসে আসে। এর মধ্যে একজনের পাসপোর্ট উদ্ধার করে স্থানীয় কোস্টগার্ড। উদ্ধার হওয়া ওই পাসপোর্টটি ছিল ফয়সাল আবেদিনের। তার মরদেহ বর্তমানে স্থানীয় আল মারজা হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। ফয়সাল আবেদিনের মা শিল্পী বেগম বলেন, ঢাকা যাওয়ার কথা বলে দালালের মাধ্যমে দুবাই গিয়ে আমাকে ফোন দেয় ফয়সাল। ইতালি নেয়ার ব্যাপারে দালাল রাকিব আমাদের সঙ্গে কোনো আলাপ করেননি। গত ১৮ দিন আগে ফয়সাল ফোনে জানায় সে ইতালি রওয়া দিচ্ছে। এরপর থেকে তার মোবাইল বন্ধ।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ফয়সালের মৃত্যুর সংবাদটি মিথ্যা বলে দাবি করেন সিফাত নামে একজন লিবিয়া প্রবাসী। গত বুধবার দুপুরে ফয়সালের চাচা মুজিবর রহমানের সঙ্গে ফোনালাপের সময় এ কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, আপনার ভাতিজা গ্রিসে আছে। পরে যোগাযোগ করবে। ফোনে কথা বলিয়ে দিতে ওই ব্যক্তিকে অনুরোধ করেন মুজিবর। সিফাত বলেন, বিকালে যোগাযোগ করিয়ে দেবেন। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজিব মিয়া ও রাকিব মিয়া নামে দুই দালাল দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়া বসবাস করছেন। সাগর পথে ইতালি পাঠাতে অভিবাসন প্রত্যাশী ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১২-১৫ লাখ টাকা নেয় দালাল চক্রটি। অভিবাসন প্রত্যাশীদের ইতালি পাঠানোর আগে লিবিয়ার গেমঘরে বন্দি করে রাখা হয়। সেখানে তাদের দেয়া হতো না পর্যাপ্ত খাবার ও পানি। টাকা আদায় শেষ হলে নৌকায় করে সাগর পথে পাঠানো হতো ইতালি।

অনিরাপদ যাত্রায় সাগরে ডুবে অনেকে মারা গেলেও থামেনি দালালদের কর্মকাণ্ড। রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের রামনগরের বাসিন্দা রাজিব মিয়া। দেশে তার বৃদ্ধ বাবা-মা থাকলেও তাদের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ নেই রাজিবের।

একই উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের বেগমাবাদ এলাকার বাসিন্দা রাকিব মিয়া। তিনিও ইতালি লোক পাঠান। তাদের কথা মতো দেশে থাকা পরিবার ও প্রতিনিধিদের কাছে টাকা পৌঁছে দিতেন ইতালিতে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা।

রায়পুরা থানার ওসি সাফায়েত হোসেন পলাশ বলেন, এ ব্যাপারে নিহত দুজনের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হাসান জানান, সাগর পথে ইতালি যাওয়ার পথে মৃত্যু হয়ে এমন তথ্য জানা নেই। তবে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App