×

সারাদেশ

ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যায় যত্রতত্র জাহাজ নোঙর, বাড়ছে দুর্ঘটনা

Icon

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

তোফাজ্জল হোসেন শিহাব, মুন্সীগঞ্জ থেকে : প্রশাসনের নির্দেশ তোয়াক্কা না করে মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ নৌরুটে ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যার মাঝনদী দখল করে একাধিক সিমেন্ট ফ্যাক্টরির কয়েক হাজার জাহাজ এলোমেলোভাবে নোঙর করে রাখা হয়েছে। ফলে সংকুচিত হয়ে পড়েছে এই নৌপথ। এতে বিঘœ ঘটছে নৌযান চলাচলে। সেসঙ্গে অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে নৌচ্যানেল। এতে ধলেশ্বরী-শীতলক্ষ্যায় ঘটছে একের পর এক নৌদুর্ঘটনা। প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। এদিকে নৌপথ সরু হওয়ার কারণে দুর্ঘটনা বাড়লেও তা দেখার যেন কেউ নেই। জেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে জাহাজগুলোর এলোমেলো নোঙর বন্ধে সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়নে কোনোও পদক্ষেপ নেই।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময় ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে নদীতে মনিটরিং করা হচ্ছে। নৌপথ স্বাভাবিক রাখতে এলোপাথাড়ি নোঙর করা জাহাজগুলোকে একাধিকবার মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানার আওতায় আনা হচ্ছে। সরজমিন গত কয়েকদিন ধরে দেখা যায়, ধলেশ্বরী-শীতলক্ষ্যা নদীর মাঝ অংশে সিমেন্ট ফ্যাক্টরির কয়েক হাজার ক্লিংকারবাহী ও সিমেন্টবাহী জাহাজ দিনের পর দিন ফ্যাক্টরির সামনে নদীতে নোঙর করা থাকে। এদিকে কয়েক বছরের ব্যবধানে এই নৌরুটে ঘটেছে একাধিক দুর্ঘটনা। দুই বছর আগে এখানে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় সাবিত আল হাসান নামে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবে প্রাণ হারান ৩৪ জন যাত্রী। ২০২২ সালের ২১ মার্চ এমভি রূপসীর সঙ্গে একই রুটে চলাচলকারী অন্য একটি লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে একটি লঞ্চ ডুবে ১১ জন যাত্রী মারা যায়। বারবার এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটলেও নৌযান ফেডারেশন, বিআইডব্লিউটিএ, জেলা প্রশাসন থেকে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ সচেতন মহলের। এই রুটের লঞ্চ চালকরা জানান, আমাদের দিনের বেলায় লঞ্চ চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। জাহাজগুলো এলোমেলো নোঙরের কারণে অনেক সমস্যা হয়। অনেক দুর্ঘটনা ঘটলেও ফ্যাক্টরি মালিকরা কোনো পদক্ষেপ নেয় না। আমরা বললেও শোনে না। এ বিষয়ে প্রশাসনের জোর পদক্ষেপ নিতে হবে। যাত্রীদের অভিযোগ, ইচ্ছা করেই মাঝ নদীতে নোঙর করে জাহাজগুলো। রাতের বেলায় অনেক কষ্ট করে যাতায়াত করতে হয়। নৌপথ নিরাপদ রাখতে বিষয়টি প্রশাসনের আমলে নেয়া দরকার। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ জাহাজ শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সবুজ শিকদার জানান, এই নৌরুটে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে যা কাম্য নয়। তাছাড়া লঞ্চ মাস্টারগুলো পারদর্শী নয় এবং লঞ্চগুলোও ফিটনেসবিহীন। ফ্যাক্টরির জাহাজগুলোকে নির্দিষ্ট স্থানে নোঙরের জন্য জায়গা নির্ধারণের জন্য বলা হয়েছিল। সে নির্দেশনা এখন কাগজে-কলমেই। বিআইডব্লিউটিএ (নারায়ণগঞ্জ) ডেপুটি ডিরেক্টর (ট্রাফিক) বাবু লাল বৈদ্য জানান, জাহাজগুলোকে নোঙর করার জন্য সীমানা নির্ধারণ সোনারগাঁ সীমাধীন (শম্ভুপুরা) এলাকায় করা হয়েছিল। আমরা গত বছর সার্ভেও করেছি। দপ্তরে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। এখন উপর মহল বিষয়টি দেখভাল করবে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবুু জাফর রিপন ভোরের কাগজকে জানান, আমরা এলোপাথাড়ি নোঙর করা জাহাজগুলোকে একাধিকবার মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের জরিমানা করেছি। আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। তারপরেও কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ এদেরও নজর দেয়া দরকার। তবে নৌপুলিশের নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা জানান, সব সিমেন্ট ফ্যাক্টরির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ বিষয়ে মিটিং করা হয়েছে। নৌযান চলাচলে যেন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না সেজন্য জাহাজগুলোকে নির্দিষ্ট স্থানে নোঙর করার জন্য বলা হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App