×

সারাদেশ

চরাঞ্চলের কৃষিপণ্য বহনে একমাত্র ভরসা ঘোড়াগাড়ি

Icon

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চরাঞ্চলের কৃষিপণ্য বহনে একমাত্র ভরসা ঘোড়াগাড়ি

গৌতম সরকার, কাউনিয়া (রংপুর) থেকে : রংপুরের কাউনিয়ায় ঘোড়াগাড়ি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের যোগাযোগের ক্ষেত্রে চরের জাহাজ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বিভিন্ন চরে ঘোড়াগাড়ির ব্যাপক ব্যবহারের ফলে কর্র্র্ম সংস্থানের নব দিগন্তের সূচনা হয়েছে।

সরজমিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন তিস্তা নদী বেষ্টিত ১৭টি চরাঞ্চলের গ্রামের চর ঘুরে দেখা গেছে এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় একমাত্র বাহন হিসেবে স্থান করে নিয়েছে পরিবেশ বান্ধব ঘোড়ারগাড়ি। বালু আর মরা তিস্তার শাখা নদীর রাস্তাসহ কাঁদা রাস্তায় যেখানে ভ্যান, রিকশা, ট্রলি, ট্রাক যেতে পারে না সেসব রাস্তার জনপ্রিয় বাহন হিসেবে ঘোড়াগাড়ির কদর বেড়েছে। উপজেলার শস্য, ধান, পাট, আলু, বাদাম, ভুট্টা, পিয়াজ, মরিচ, ডাল এসব অর্থকারী ফসল চরাঞ্চলেই বেশি উৎপাদন হয়। কৃষকের উৎপাদিত ফসল হাটে নিয়ে যেতে না পারায় কম দামে ফড়িয়া দালালদের কাছে বাধ্য হয়েই চরেই বিক্রয় করতে হতো। বর্তমানে ঘোড়ারগাড়ি চালু হওয়ায় কৃষক এখন তার উৎপাদিত ফসল হাটে নিয়ে গিয়ে ন্যায্য দামে বিক্রয় করছে। কাউনিয়ায় এসব চরাঞ্চলে প্রায় ৪ শতাধিক ঘোড়াগাড়ি রয়েছে।

কাউনিয়ায় থানা রোডে হারাগাছ ইউপির চর নাজিরদহ গ্রামের ঘোড়াগাড়ি চালক জিল্লুর রহমান জানায় এক সময় তার সংসার চলত না, খেয়ে না খেয়ে দিন কাটিয়েছে পরিবার পরিজন নিয়ে। ঘোড়াগাড়ি চালান শুরুর পর থেকে তার সংসারে এখন তেমন অভাব নেই। পল্লীমারী একতা গ্রামের ঘোড়াগাড়ি চালক গনি মিয়া জানায়, প্রায় ৫ বছর থেকে সে ঘোড়াগাড়ি চালায়, তার দৈনিক আয় ৭ থেকে ৮ শত টাকা, তবে আলুর মৌসুমে আয় আরো বেশি হয়।

ঘোড়াগাড়ির ব্যাপারে হারাগাছ ইউপি চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ জানান তার ইউনিয়নে দেড় শতাধিক ঘোড়াগাড়ি আছে। বালাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আনছার আলী জানান তার ইউনিয়নে ৫০ থেকে ৬০টি ঘোড়াগাড়ি আছে। টেপামধুপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম জানান তার ইউনিয়নে শতাধিক ঘোড়া গাড়ি আছে, শহীদবাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আ. হান্নান জানান তার ইউনিয়নে ৩৫ থেকে ৪০টি ঘোড়াগাড়ি রয়েছে। আজ থেকে বছর চার পাঁচ আগেও এ উপজেলায় ঘোড়া দেখা যেত না, এখন প্রায় গ্রামে ঘোড়া গাড়ি হয়েছে। সেই সঙ্গে ঘোড়া গাড়ি যোগাযোগের জন্য চরাঞ্চলের জাহাজ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে এবং কর্ম সংস্থানের নব দিগন্তের সৃষ্টি হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App