×

সারাদেশ

পরিবেশ আইন অমান্য

রাউজানে ৩০০ বছরের পুরনো পুকুর ভরাট

Icon

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রাউজানে ৩০০ বছরের  পুরনো পুকুর ভরাট

এম. রমজান আলী, রাউজান (চট্টগ্রাম) থেকে : রাউজানে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অমান্য করে ভরাট করা হচ্ছে ৩০০ বছরের পুরনো একটি পুকুর। উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শেখপাড়া গ্রামে অবস্থিত পুকুরটি ভরাট করছেন মো. এরশাদ নামে এক প্রবাসী।

ওই এলাকার বয়োবৃদ্ধ আবদুল গণি বলেন, পুকুরটি প্রায় তিন শতাধিক বছর আগে খনন করা হয়েছিল। এই পুকুরকে ঘিরে একটি ইতিহাসও আছে। আমার বাপ-দাদার মুখে শুনেছি ৩০০ বছর আগে পুকুরটি খনন করেছিলেন ওয়াহেদ মিয়া ফকির নামে এক আধ্যত্মিক সাধক পুরুষ। খননের পর পানি না উঠায় পুকুরের তলায় মোমবাতি-আগরবাতি জ¦ালিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন। পরবর্তীতে পুকুরে পানি উঠেছিল, সে পানি কখনো শুকাতে দেখিনি। পুকুরটির চারদিকে ঘাট নির্মাণ করে ওই এলাকার অনেক পরিবার দৈনন্দিন কাজে পুকুরের পানি ব্যবহার করে আসছিলেন বলে দাবি তার। তবে যৌথ মালিকানাধীন এই পুকুরটির এক অংশীদার পুকুরের একাংশ ভরাট করায় হতাশ স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ওয়ার্ডের ৪ নম্বর সড়কটি সম্প্রতি নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। উদ্বোধনের আগেই পুকুর ভরাট কাজে অতিরিক্ত মাটিবোঝাই ট্রাক ব্যবহার করে সড়কটির ক্ষতিসাধন করছে।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গা ভরাট বা অন্য কোনোভাবে শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। যদি কেউ এই আইন ভঙ্গ করে তাদের দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

সরজমিন পরিদর্শনে গিয়ে জানা যায়, তিন শতাধিক বছরের পুরনো পুকুরটি ভরাট করছেন প্রয়াত রফিকুল ইসলাম চৌধুরীর মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী ছেলে মো. এরশাদ। পুকুর ভরাটের দায়িত্ব নিয়েছেন স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মো. আরবান। একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত মো. এরশাদ বলেন, আমি পুকুর ভরাট করছি না, পুকুরের পাড় ভেঙে যাওয়ায় তা মেরামত করেছি। আমি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনুমতি নিয়েই পুকুরের পাড় ভরাট করছি।

পাহাড়তলী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী প্রথমে পুকুরপাড় ভরাট করা হচ্ছে বলে দাবি করলেও পরবর্তীতে তিনি বলেন, আমাদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই তিনি পুকুরটি ভরাট করছেন। পুকুরে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ায় আমরা অনুমতি দিয়েছি। সড়ক ক্ষতির বিষয়ে আমাকে কেউ অভিযোগ করেনি।

এ প্রসঙ্গে রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অংগ্যজাই মারমা বলেন, পাহাড়তলী ইউনিয়নে পুকুর ভরাটের বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অমান্য করে পুকুর ভরাট করা অন্যায়। আমি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে জেনে আপনাকে জানাব।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App