×

সারাদেশ

যমুনার চরাঞ্চলে কুরবানির জন্য প্রস্তুত ৮ হাজার পশু

Icon

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মো. আব্দুল কুদ্দুস, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে : আর মাত্র কয়েক দিন পরই ঈদুল আজহা। আর ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে শাহজাদপুর উপজেলার যমুনার দুর্গম চরাঞ্চল সোনাতনী ইউনিয়নের দুর্গম চরের বিভিন্ন গ্রামের ছোট ছোট খামারে দেশি ও বিদেশি জাতের প্রায় ৮ হাজার ষাঁড় গরু প্রস্তুত করেছেন খামারিরা। যার আনুমানিক বিক্রয় মূল্য প্রায় ১১২ কোটি টাকা। দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করছেন তারা।

স্থানীয় পশুর হাটগুলোর পাশাপাশি এগুলো রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার কুরবানির পশুর হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছেন তারা। বাড়তি লাভের আশায় খামারের পাশাপাশি বাড়িতে বাড়িতে পশুর বাড়তি যতেœ পালন করেছেন খামারি ও প্রান্তিক কৃষকরা। খামারিরা স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগে দেশি ও বিদেশি জাতের ফ্রিজিয়ান, শাহীওয়াল, দেশি সংকর, অস্ট্রেলিয়ান, জার্সিসহ বিভিন্ন জাতের ষাঁড় বাছুর কিনে মোটাতাজা করছেন। মাত্র ৬-৮ মাসে ষাঁড় বাছুর পালন করে কুরবানির ঈদে বিক্রি করে সব খরচ বাদ দিয়েও লাভ করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন খামারিরা।

সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার যমুনার দুর্গম চরাঞ্চল সোনাতনী ইউনিয়নের দুর্গম চর বানতিয়ার, কুরসী, ধিতপুর, ছোট চানতারা, বড় চানতারাসহ বিভিন্ন গ্রামে প্রতিটি বাড়িতেই ২ থেকে ৫টি করে গরু মোটাতাজা করেছেন। ধিতপুর গ্রামের এক দিনমজুরের স্ত্রী শায়লা খাতুনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমার থাকার জন্য টিনের একটা ছাপড়া ঘর আছে। ওখানেই ৪ ছেলেমেয়ে নিয়ে কোনো রকম মাথা গুঁজে বসবাস করছি। এ বছর ২টি ষাঁড় গরু পালন করেছি। মাঠের কাঁচা ঘাস আর সামান্য কিছু দানাদার খাবার খাইয়ে গরু দুটি বড় করেছি। আল্লাহ যদি ভালোভাবে বিক্রি করতে দেয় তাহলে প্রায় ৪ লাখ টাকা বেচতে পারব। গরু বিক্রির টাকা দিয়ে ২টি ষাঁড় বাছুর কিনে আগামী কুরবানির সিজনে বড় বানাইয়া বেচব। আর বাকি টাকা দিয়ে একটা ভালো করে ঘর বানিয়ে ছেলেমেয়ে নিয়ে থাকব। এই দুর্গম চরে শায়লার মতো অনেকেই ষাঁড় গরু পালন করে লাভের টাকা দিয়ে বিভিন্ন চাহিদা পূরণের স্বপ্ন দেখছেন। এই দুর্গম চরের মানুষ মাঠে কৃষিকাজ বা বাড়ির অন্যান্য কাজের পাশাপাশি গরু মোটাতাজা করে অতি অল্প সময়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে। সম্পূর্ণ দেশীয় খাবার খাইয়ে পশু পালন করছেন তারা। এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. বিল্লাল হোসেন জানান, আসন্ন কুরবানি ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার যমুনার দুর্গম চরাঞ্চল সোনাতনী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ছোট ছোট খামারে দেশি ও বিদেশি জাতের প্রায় ৮ হাজার গবাদিপশু মোটাতাজা করেছেন খামারিরা। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১১২ কোটি টাকা। আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজা করার কাজে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে খামারিদের প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা প্রদানের মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App