×

সারাদেশ

লন্ডন থেকে ডিগ্রি নিয়েছেন আইনে

সীতাকুণ্ডে ছাগল ও দুম্বা খামারে সফল আদনান

Icon

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নন্দন রায়, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) থেকে : সীতাকুণ্ডে দুম্বা ও ছাগলের খামার করে সফলতা পেয়েছেন লন্ডন থেকে ডিগ্রি নেয়া আদনান চৌধুরী। তিনি সীতাকুণ্ড উপজেলার দক্ষিণ ভাটিয়ারী গ্রামের ব্যবসায়ী আজম চৌধুরীর ছেলে। ২০১৫ সালে লন্ডনে আইন বিষয়ে লেখাপড়া শেষ করে ডিগ্রি নিয়ে দেশে আসেন তিনি। আদনান চৌধুরী বলে, ২০১৯ সালে আমি কুরবানির জন্য চারটি ছাগল কিনি। দাঁত না উঠায় সেখান থেকে দুটি ছাগল কুরবানি না দিয়ে রেখে দিই। কিছু দিন পর একটি মেয়ে ছাগল অসুস্থ হয়ে গেলে ডাক্তার দেখাই। ডাক্তার জানান, ছাগলটি বাচ্চা দিবে, তাই একটু অসুস্থ হয়েছে। দুটি ট্যাবলেট খাওয়াতে বলে ছেড়ে দেন। এর এক মাস পরেই ছাগলটি দুটি বাচ্চা প্রসব করে। তখন আমার মনে হলো কোনো ঝামেলা ছাড়াই ছাগল বৃদ্ধি পেল। সেই থেকে আমি ছাগল পালন শুরু করি। যার কাছ থেকে প্রথমে ছাগল নিয়েছিলাম তার সঙ্গে যোগাযোগ করে আরো কয়েকটা কিনে নিই। এভাবে বাড়তে থাকে ছাগলের সংখ্যা।

তিনি আরো বলেন, করোনার পর গাজীপুরে বেড়াতে গিয়ে দুম্বা দেখতে পাই। পরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দুম্বাও কিনে পালন শুরু করি। দেশীয় জাতের কিছু ছাগলসহ আফ্রিকার কালাহারি ও বোয়ের, দক্ষিণ আফ্রিকার দরপার, ইন্ডিয়ার বারবারি, কাশ্মিরের কাশ্মিরি জাতের ছাগল এবং মধ্যপ্রাচ্য ও তুরস্কের হারলি কুইন পারসেইন ও আওয়াসি জাতের দুম্বা পালন করছি খামারে। আমি তিন ধরনের খাবার খাওয়াই তাদের। ভুট্টা ভাঙা চনা ভাঙা মিশিয়ে, সাইলেস ও সবুজ ঘাস পাতা। কুরবানি উপলক্ষে ১০টি ছাগল ৭ লাখ টাকা ও চারটি দুম্বা প্রতিটি আড়াই লাখ টাকা করে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। বিক্রিযোগ্য আরো চারটি দুম্বা রয়েছে, যার প্রতিটির মূল্য দেড় লাখ টাকার উপরে।

বর্তমানে আদনানের খামারে ১০০ ছাগল ও ৪০টি দুম্বা এবং একটি ভেড়া রয়েছে বলে জানান। খামার দেখাশোনায় ১৬ জন কর্মচারী সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত রয়েছে। আদনান বলেন, খামার গড়ে আমি মনে করি এতে কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়েছে এবং দেশে পশু খাদ্যের জোগানও অনেকাংশে বাড়াতে সক্ষম হচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, আমার খামার দেখতে দূরদূরান্ত থেকে অনেক বেকার যুবক আসেন এবং তারাও অনুপ্রাণিত হয়ে নিজ এলাকায় ছাগল বা দুম্বা পালনের খামার করার ইচ্ছা পোষণ করে যান। আমি তাদের সফলতা কামনা করি।

খামারের ম্যানেজার সোহেল বলেন, বাইরের কোনো ভাইরাস যাতে খামারে প্রবেশ করতে না পারে সেভাবে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করি এবং খামারের বর্জ্য পরিবেশসম্মতভাবে আমরা সংরক্ষণ করি তাই খামারের সুনাম ছড়াচ্ছে চারদিকে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App