×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

সারাদেশ

পরিবারে আনন্দের বন্যা

লিবিয়ায় জিম্মি ৪ শ্রমিক উদ্ধার

Icon

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মো. মাজেম আলী মলিন, গুরুদাসপুর (নাটোর) থেকে : লিবিয়ায় থাকা নাটোরের গুরুদাসপুরের চার প্রবাসী শ্রমিক জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। বাংলাদেশ সময় গতকাল রবিবার সাড়ে ১১টায় লিবিয়ার স্থানীয় প্রশাসন জিম্মিদশা থেকে তাদের উদ্ধার করেছে।

এ সময় লিবিয়ার স্থানীয় প্রশাসন অপহরণকারী চার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন লিবিয়ার ও দুজন বাংলাদেশের। তারা চার শ্রমিককে অপহরণ করে নির্যাতনের ভিডিও পাঠায় দেশে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে এবং ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না পাঠালে শ্রমিকদের মেরে ফেলার হুমকি দেয় অপহরণকারীরা

প্রবাসী চার শ্রমিকের পরিবারের বরাত দিয়ে গুরুদাসপুর থানার নির্বাহী কর্মকর্তা (ওসি) মো. উজ্জল হোসেন জিম্মি অবস্থায় থাকা চার শ্রমিকের উদ্ধার ও অপহরণকারী চার ব্যক্তির গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাওয়া সোহানের মা রুলি বেগম বলেন, গত ২ জুন তার ছেলেসহ প্রতিবেশী আরো তিন যুবককে লিবিয়ায় অপহরণ করা হয়। তারপর তাদের নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। সন্তানদের এ পরিস্থিতিতে মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনিসহ অন্য তিন যুবকের পরিবারের সদস্যরা।

লিবিয়ায় চার শ্রমিকের জিম্মি হওয়ার খবর দেশীয় গণমাধ্যমে বেশ গুরুত্ব সহকারে প্রচার করা হয়। ইতোমধ্যে শ্রমিকদের পবিারের পক্ষ থেকে চার লাখ টাকা জোগাড় করা হয়। সেই টাকা অপহরণকারীদের কাছে পাঠানোর জন্য শ্রমিকদের পরিবারের লোকজন গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গুরুদাসপুরের একটি স্থানীয় বেসরকারি ব্যাংকের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লিবিয়া থেকে রুলি বেগমের মোবাইলের ইমো নম্বরে তার ছেলে সোহান একটি ভিডিও বার্তা পাঠান। সেখানে সোহান বলে, আব্বা আমাদের লিবিয়ার স্থানীয় প্রশাসন অপহরণকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার করেছে। তোমরা চিন্তা করো না। আমরা এখন নিরাপদে আছি।

এ কথা শোনার পর ব্যাংকে না গিয়ে সোজা বাড়িতে ফিরে আসেন। এমন খুশির খবরে প্রাণ পায় পরিবারের লোকজন। তিনি দেশের সরকার, গণমাধ্যম ও লিবিয়া প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। অন্য শ্রমিক বিদ্যুতের মা বিউটি বেগম বলেন, তার স্বামী অনেক আগে থেকেই লিবিয়ায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরবর্তী সময়ে তার ছেলেসহ প্রতিবেশী তিন যুবক মিলে শ্রমিকের কাজ নিয়ে লিবিয়ায় যান। তার ছেলেসহ চার শ্রমিক অপহরণের শিকার হন। অপহরণের পর থেকেই পরিবার ও স্বজনদের আহাজারি থামছিল না।

গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় তার স্বামী তাকে কল করে জানায় তার ছেলেসহ চারজনকেই লিবিয়ার স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার করেছে। রাতেই তার স্বামীর কাছে হয়তো ফিরে যাবে তার সন্তানসহ চার যুবক।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. উজ্জল হোসেন বলেন, ঘটনার পর থেকেই তিনি এ বিষয়ে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন। নাটোর পুলিশ সুপারের নির্দেশে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে থানা পুলিশ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছে।

উল্লেখ্য যে, প্রায় দুই বছর আগে বিয়াঘাট চরপাড়া গ্রামের মো. শাজাহান প্রাং এর ছেলে মো. সোহান প্রাং (২০), মো. তয়জাল শেখের ছেলে মো. সাগর হোসেন (২৪), মৃত-শুকুর আলীর ছেলে নাজিম আলী (৩২) ও ইনামুল ইসলামের ছেলে মো. বিদ্যুৎ হোসেন (২৬) লিবিয়াতে কাজের জন্য যান। পরিবারগুলো জমি বন্ধকসহ ধারদেনা করে সন্তানদের লিবিয়ায় পাঠান।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App