×

সারাদেশ

বাজার দর প্রায় ২ হাজার ৫শ কোটি টাকা

নাটোরে চাহিদার চেয়ে দ্বিগুণ কুরবানির পশু

Icon

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নাটোরে চাহিদার চেয়ে দ্বিগুণ কুরবানির পশু

কাগজ প্রতিবেদক, নাটোর : আসন্ন কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে এবার নাটোরে চাহিদার দ্বিগুণ প্রায় ৫ লাখ পশু লালন পালন করেছে খামারিরা। যার বাজার দর প্রায় ২ হাজার ৫শ কোটি টাকা। জেলার চাহিদা মিটিয়েও প্রায় আড়াই লাখ কুরবানির পশু দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা যাবে।

গত বছরের তুলনায় এবার পশু খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় পশু পালনে খরচ বেশি বেড়েছে। এ কারণে লাভের পরিমাণও কম হবে বলে মনে করছেন খামারিরা। আর অবৈধ পথে যদি পাশের দেশ ভারত থেকে গরু আসে, তাহলে নির্ঘাত তাদের লোকসানে পড়তে হবে। গবাদি পশু মোটা-তাজাকরণের কাজ নির্বিঘেœ চালিয়ে তারা যাতে লাভবান হতে পারেন এবং তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেয়া সহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার বাড়ানোর পদক্ষেপ সরকার নেয়, এই দাবি জানিয়েছেন খামারিরা। কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবারের মতো এবারো জেলার গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম ও নাটোর সদরসহ বিভিন্ন স্থানে কুরবানির পশু লালন পালন করেছেন খামারিরা। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ১৮৪১০টি খামারে প্রায় ৫ লাখ গরু লালন পালন করা হয়েছে। জেলার চাহিদা প্রায় আড়াই লাখ। নাটোরের খামারিরা প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানোর মাধ্যমে গবাদি পশু পালন করায় দেশজুড়েই রয়েছে এই গরুর ব্যাপক চাহিদা।

তাদের অধিকাংশ পশু বিক্রি করতে কোথাও যেতে হয় না। বরং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা খামারে এসে পছন্দের কুরবানির পশু কিনে নিয়ে যান। রেকায়েত আলী, কেতাব আলী, মনোয়ার মুজাহিদসহ খামারিরা বলেন, তাদের পশুগুলোকে প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে বড় করা হয়েছে। এজন্য তাদের গরুগুলো কখনো হাটে বিক্রি করতে নিয়ে যেতে হয়নি। এখানকার গরু পছন্দসই হওয়ায় ঢাকা, চিটাগাং, রংপুর, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের খামারে গরু কিনতে আসেন ক্রেতারা। জেলার খামারগুলোতে শাহিওয়াল, গামা, নেপাল গ্রিড, হলিসথিজিয়ান, রাজস্থানীসহ বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। কোনো কোনো খামারে ৪ মাসের বাচ্চা থেকে ১২শ কেজির পূর্ণ বয়স্ক গরু রয়েছে।

খামারিরা আশা করছেন, সরকার গো খাদ্যের দাম কমানোর ব্যবস্থা করবে এবং ভারত ও মায়নমার থেকে গরু যাতে আসতে না পারে তার দিকে দৃষ্টি রাখবে। সানোয়ার হোসেন নামের এক খামারির ম্যানেজার বলেন, ড্রিমল্যান্ড ক্যাটল অ্যান্ড ডেইরি ফার্মে যে গরুগুলো রয়েছে, সেগুলোগুলোকে দেশীয় খাবার খাইয়ে মোটা-তাজা করা হয়। কোনো স্ট্রেরয়েড ইঞ্জেকশান বা ফিড বা মাল্টি ভিটামিন খাওয়ানো হয় না। ফলে তাদের খামারে ৪/৫ বছরের পুরাতন গরু রয়েছে। যেখানে ৪০ ডিগ্রি প্লাস টেম্পারেচার তাতেও তাদের গরুগুলোর কোনো ক্ষতি হয় না। এ কারণেই তাদের গরুর চাহিদাও বেশি। তারেক মিয়া নামের এক পাইকেরি ক্রেতা বলেন, তিনি প্রতি বছরেই নাটোরের খামার থেকে গরু কিনে নিয়ে যান। এসব খামারে কম ও বেশি দামের গরু পাওয়া যায়। এ ছাড়া প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গুরু বড় করায় চাহিদা বেশি। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জেলা গরু মোটা-তাজা করণে বিখ্যাত। জেলায় এবার ১৮৪১০টি খামারে কুরবানির ঈদের জন্য প্রাকৃতিক খাদ্য খাইয়ে প্রায় ৫ লাখ গরু মোটা-তাজা করা হয়েছে। এসব গরুর বাজার মূল্য প্রায় ২ হাজার ৫শ কোটি টাকা। জেলায় প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৪২টি গরুর চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্ট গরু দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাবে। নিরাপদ খাদ্য তৈরিতে খামারিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এছাড়া যে উদ্দেশ নিয়ে খামারিরা গরু পালন করেছেন, তা যাতে ব্যাহত না হয়ম সেজন্য জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে খামারিদের সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App