×

সারাদেশ

আটোরিকশা থেকে শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

Icon

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সুরেশ চন্দ্র রায়, মানিকগঞ্জ থেকে : শিবালয়ের বরংগাইল সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডের চালকদের কাছ থেকে শ্রমিক নেতারা জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আটোচালকদের অভিযোগ, দব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির বাজারে বর্তমান যে আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় শ্রমিক নেতারা জোরপূর্বক আদায় করছেন চাঁদা। এটি মরার পর খাঁড়ার ঘা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন ও জেলা মিশুক, বেবিট্যাক্সি, ট্যাক্সিকার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিক সমিতি সম্মেলিতভাবে ঘিওর উপজেলা ঐক্য পরিষদ উপকমিটির অনুমোদন প্রদান করেন। অনুমোদন পাওয়ার পর থেকেই উপকমিটির নেতারা চাঁদাবাজি শুরু করেন। অটোরিকশা স্ট্যান্ডের আধিপত্য পুনরুদ্ধারে নতুন সাবকমিটি জোর চেষ্টা চালাচ্ছে আর পুরাতন কমিটি তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হয়ে উঠেছে মরিয়া। পূর্বে এই অটোস্ট্যান্ডে অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে কোনো চাঁদা আদায় করা হতো না। কিন্তু নতুন কমিটি এসেই অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে জোর করে চাঁদা আদায় করায় পুরাতন কমিটি এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। এ নিয়ে দুই কমিটির মধ্যে বিরাজ করছে টানটান উত্তেজনা ও চাপা ক্ষোভ। এখানে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির কারণে দুপক্ষের মধ্যে ঘটতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা।

অটো রিকশাচালক নবীন, হাসান, সাইফুল, আতিকুল, আরিফ, হিরুসহ অনেকে বলেন, বর্তমানে তাদের রোজগার আগের চেয়ে অনেক কম। সংসার চালানো বেশ কষ্টসাধ্য। ঈদে নিজেরা জামাকাপড় না নিলেও বাচ্চাদের দিতেই হয়। এর মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন কমিটির চাঁদাবাজি। শ্রমিক নেতাদের টাকা না দিলে স্ট্যান্ড থেকে একজন যাত্রীও নিতে দেয় না। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

বরংগাইল হাল্কা যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানান, বড় গাড়ির নেতারা সম্প্রতি একটি সাবকমিটি দিয়ে অটোরিকশা থেকে শুরু করে সব ছোট গাড়ির ওপর কর্তৃত্ব করার চেষ্টা করছে। তারা জোর করে ছোট গাড়ি থেকে চাঁদাবাজি করছে। এই কমিটি সম্পূর্ণ অবৈধ।

নতুন উপকমিটির সভাপতি আব্দুল বারেক জানান, প্রথমে অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে বিশ টাকা করে নেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা বিশ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এখন ১০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। এই টাকা নেয়ার বিষয়ে আপনাদের জেলা কমিটি এবং পুলিশ প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, গত ২৩ মে কমিটির অনুমোদন পেয়েই তারা কাজ শুরু করেছেন। এখনো এ বিষয়ে তাদের জানানো হয়নি।

জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বাবুল সরকার জানান, অটোরিকশা থেকে টাকা নেয়ার কোন সুযোগ নেই। যদি নতুন সাবকমিটির নেতারা কোনো অটোচালকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকেন প্রমাণের ভিত্তিতে ওই কমিটি বাতিল করে দেয়া হবে বলে জানান তিনি। জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন জানান, বাস, মিনিবাস, কোচ ও মালিক সমিতির নেতারা যৌথভাবে এখানে ঐক্য পরিষদের একটি উপকমিটি দিয়েছেন। এই কমিটি বাস, মিনিবাস, ট্রাক ও কোচের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। উপকমিটির অনুমোদন এনে এরা এখানে চাঁদাবাজি শুরু করেছেন। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয়টি অনতিবিলম্বে লিখিতভাবে জেলা পর্যায়ে প্রেরণ করে যথাযথ প্রতিকার চাওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকুমার বিশ্বাস দৈনিক ভোরের কাগজকে জানান, এখান থেকে টাকা উত্তোরনের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি দেখার জন্য তদন্ত ওসিকে এখনই নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App