×

সারাদেশ

মাস্তান-বাবুর দাম ২২ লাখ

Icon

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

এস এম রফিকুল আলম, নওয়াপাড়া (যশোর) থেকে : বর্তমানে গরু পালন করে শুধু পুষ্টির চাহিদাই পূরণ নয়, আর্থিক লাভের মুখ দেখছেন গরুর খামারিরা। প্রতি বছর গরুর সমারোহে কোরবানির হাট চাঙা হয়ে ওঠে। ক্রেতাদের নজর কাড়ে মোটা-তাজা, নাদুস-নুদুস ও বিশালদেহী গরু। চমক সৃষ্টি ও বাজার বাজিমাত করতে গরুর নামও রাখা হয় বাহারি ধরনের।

অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের ডাঙ্গা মশিয়াহাটি গ্রামে মনোরঞ্জন পাড়ের একটি খামার আছে। এ খামারের দুটি গরুর নাম মাস্তান ও বাবু। ফ্রিজিয়ান জাতের মাস্তানের ওজন এখন ১৫০০ কেজি। দাম হাঁকা হচ্ছে ১৪ লাখ টাকা। বাবু নামের সাইওয়াল জাতের ষাঁড়টির ওজন সাড়ে ৯০০ কেজি। এর দাম হাঁকা হচ্ছে ৮ লাখ টাকা। এলাকায় দুগ্ধগাভি পালনে মনোরঞ্জন পাড় সফল খামারি হিসেবে যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছেন।

খামারি মনোরঞ্জনের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, তিনি ১৪-১৫ বছর ধরে গরু লালন-পালন করছেন। তার খামারে ৬টি গরু আছে। তার মধ্যে দুটি গাভি, একটি বকনা ও একটি এঁড়ে বাছুর এবং দুটি ষাঁড়। ষাঁড় দুটির নাম মাস্তান ও বাবু। এদের কাঁচা ঘাস, ভুট্টা, ভুসি, খড় আর খুদের ভাতের মতো দেশীয় খাবার খাইয়ে বাড়-বাড়ন্ত করা হয়েছে। মাস্তান ও বাবুর পেছনে প্রতিদিন খাবার খরচ হিসেবে ব্যয় হয় দেড় হাজার টাকা। মনোরঞ্জন পাড়ে বলেন, ‘মাস্তান ও বাবুর মায়ের নাম লক্ষ¥ী। ১৩-১৪ বছর আগে গ্রামের এক কৃষকের কাছ থেকে প্রায় তিন হাজার টাকায় ল²ীকে কিনে ছিলাম। সেটি এখন পর্যন্ত ১১টি বাছুর দিয়েছে। ল²ীই জন্ম দিয়েছে মাস্তান ও বাবুকে। মাস্তান উচ্ছৃঙ্খল স্বভাবের। বাবু শান্ত, ভদ্র, নরম। কুরবানির ঈদে বেচার প্রস্তুতি নিচ্ছি। তার বিশ্বাস ভালো দামই পাবেন। ক্রেতারা তার বাড়িতে কেনার জন্য আসছেন। মাস্তান ১১ ফুট লম্বা, উচ্চতা ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি। ওজন ৩৮ মণের মতো। দাম চাইছি ১৪ লাখ টাকা। বাবুর ওজন সাড়ে ২২ মণ; দাম চাইছি ৮ লাখ টাকা। দাম কিছু কম হলেও মাস্তান ও বাবুকে বেচে দেব।

এখন পর্যন্ত গরু দুটির দাম উঠেছে ১৪ লাখ টাকা। মনোরঞ্জন পাড়ের ছেলে অনিক পাড়ে বলেন, ‘আমরা চাই, ক্রেতারা সরাসরি এসে গরু দুটি দেখে পছন্দ করে দাম বলুক। আমরা কাক্সিক্ষত দাম পেলেই বেচে দেব। অনিক আরো বলেন, মাস্তানকে ভুট্টা, গম সিদ্ধ, খৈল, খুদের কুঁড়া আর পর্যাপ্ত কাঁচা ঘাস খাইয়ে বড় করেছি। ফ্রিজিয়ান জাতের মাস্তানের বয়স সাড়ে চার। অন্যদিকে বাবুর বয়স তিন বছর। প্রাকৃতিক পরিবেশেই তারা বড় হয়েছে। কোনো ফিড কিংবা ইনজেকশন দেয়া হয়নি। ষাঁড়ের গোবর দিয়ে আমরা জ্বালানির জন্য ঘুটে তৈরি করি। মাছের ঘেরে খাবার হিসেবে ব্যবহার করি। গরু পালন করতে অনেক বেশি খরচ হচ্ছে। সরকারিভাবে এখনো আমি কোনো কিছু পাইনি। তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আমার খামার দেখে গেছেন’।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এলাকার সবচেয়ে বড় গরু মাস্তান এ কথা চাউর হয়ে পড়ায় প্রতিদিন লোকের ভিড় লেগে রয়েছে। অনেক দূর থেকে লোকজন দেখতে আসছে।

মনোরঞ্জন পাড়ের খামারিতে দেখা যায়, ষাঁড় দুটি দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে আসা লোকের ভিড়।

অনিক পাড়ে তাদের উদ্দেশে বলেন, আমার মতো আপনারাও উদ্যোক্তা হতে পারেন। দুই-চারটা গরু দিয়ে শুরু করতে পারেন। এতেই সফল খামারি হওয়া সম্ভব।

অভয়নগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবুজর সিদ্দিকী বলেন, ‘গত বছর ওই এলাকায় গিয়ে ষাঁড়গুলো দেখে এসেছি। তখন মাস্তানের ওজন ছিল এক হাজার ২৫০ কেজি। এবার বেড়ে যাওয়ার কথা। দামও বেশি পাবে বলে আশা করছি। গরুগুলোও ভালো স্বাস্থ্যবান। সরকারি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য। খামারটি অনেক সম্ভাবনাময়। সরকারি সহায়তা পেলে আরো ভালো করতে পারবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App