×

সারাদেশ

রংপুর অঞ্চলে কৃষি শ্রমিকের সংকট পূরণ করছেন নারীরা

Icon

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুর অঞ্চলে কৃষি শ্রমিকের সংকট পূরণ করছেন নারীরা

শেখ জাহাঙ্গীর আলম শাহীন, লালমনিরহাট : রংপুর অঞ্চলে কৃষি শ্রমিকের তীব্র সংকট পূরণ করছে নারী শ্রমিকরা। পুরুষের সঙ্গে সমান তালে ধান কাটেন তারা। তবে মজুরি বৈষম্যের শিকার নারী শ্রমিকরা। তীব্র গরমে পুরুষের সঙ্গে তালমিলিয়ে কাজ করলেও মজুরি পায় পুরুষের অর্ধেকের একটু বেশি। রংপুরের প্রতিটি গ্রামে চলছে ধান কাটার ভরা মৌসুম। এ বছর ধান কাটা মৌসুমে পড়েছে তীব্র গরম। চড়া পারিশ্রমিক দিয়েও ধান কাটার কাজ করতে চায় না শ্রমিকরা। কোনো কোনো গ্রামে চড়া মূল্যেও ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। দিন হাজিরার চেয়ে চুক্তিতে ধান কাটতে শ্রমিকরা আগ্রহী। এতে তাদের বাড়তি আয় হয়। চুক্তিতে ধান কাটতে শ্রমিকরা ভোরবেলা থেকে শুরু করে একটানা সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে। এতে তাদের দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয়। এমনিতে কৃষি শ্রমিকের দৈনিক হাজিরা লালমনিরহাট জেলাসহ উত্তরাঞ্চলে পাঁচ থেকে ছয়শ টাকা। তবে নারী শ্রমিকে বেলায় উল্টো। নারী শ্রমিক পুরুষের সমান কাজ করে পায় আড়াই থেকে তিনশ টাকা।

রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে অর্থনৈতিকভাবে অনেক পিছিয়ে। এখানে শ্রমিকের সংখ্যাও অনেক বেশি। যাদের বিশাল একটি অংশ নারী। তাই কৃষি শ্রমের বাজারে এসব জেলায় নারী শ্রমিকদের দেখা যায়। প্রতিটি গ্রামের পাশে বিশাল দোলায় থাকে। সেখানে ধান চাষ হয়। ফসলের মাঠগুলোতে প্রায় এক সঙ্গে সেচ নির্ভর বোরো ধান রোপণ ও কাটা হয়ে থাকে। বোরো ধান আধাপাকা কাটতে হয়। বেশি পেকে গেলে শীষ থেকে ধান জমিতে ঝরে পড়ে। তাই কৃষক ধান পেকে গেলে দ্রুত ধান কাটতে মরিয়া হয়ে উঠে। সেচ নির্ভর এই ধানের চাষ হওয়ায়, একই সঙ্গে সব জমিতে ধানের চারা রোপণ করে থাকে। এতে সেচ, পরিচর্যা, কীটনাশক প্রয়োগ করতে সুবিধা হয়। তাই প্রতিটি দোলার ধান প্রায় একই সঙ্গে পাকতে শুরু করে। কাটতেও হয় একসঙ্গে। বোরো মৌসুমে ধান কাটা মারাইয়ের কাজ জোরালোভাবে চলে মাত্র ২০-২৫ দিন। এই সময় আবার দেশের হাওড় অঞ্চলেও ধান পাকে। এ সময় উত্তরের জেলাগুলো থেকে বগুড়া, ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোতে ধান কাটতে যায়। তাই রংপুরের বিভিন্ন জেলায় ধান কাটার পুরুষ শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দেয়। তবে আশার কথা এই শ্রমিক সংকটের সমাধানে নারী কৃষি শ্রমিকরা এগিয়ে এসেছে। নারী শ্রমিকরা তীব্র গরমেও খোলা মাঠে ধান কাটতে নেমে পড়েছে। কিন্তু নারী শ্রমিকরা কঠোর পরিশ্রম করেও ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সোবাহান জানান, রংপুর অঞ্চলে এক সময় ধান কাটা শ্রমিকের কোনো অভাব ছিল না। অভাবের তাড়নায় ধান কাটার শ্রমিকরা কম দামে অগ্রিম শ্রম বিক্রি করে দিত। বরং কাজের সন্ধানে দক্ষিণাঞ্চলে শ্রমিকরা ধান কাটতে যেত। এখন রংপুর অঞ্চলে ধান কাটা মাড়াইয়ের শ্রমিক পাওয়া যায় না। কৃষি কাজে কায়িক শ্রম অনেক বেশি, তাই এই শ্রমে কেউ আসতে চায় না। দেশের প্রতিটি গ্রামে এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ইউনিয়ন পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার জন্য কলেজ রয়েছে। শিক্ষার হার বেড়েছে। শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম শারীরিক শ্রম করতে আগ্রহী নয়। তারা তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, গামেন্টর্স, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও নানা ধরনের বেসরকারি ব্যক্তি মালিকানা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে আগ্রহী।

পারভিন সুলতানা নামে এক এনজিও কর্মকর্তা জানান, রংপুরের গ্রামে উন্নয়ন চিত্র পাল্টে গেছে। সব কাজে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। তবে এখনো নারীরা শ্রমের মজুরিতে বৈষম্যে স্বীকার। উপপরিচালক ও আয়ন ব্যয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুজ্জামান জানান, মজুরি বৈষম্য শুধু লালমনিরহাটে নয়, সারাদেশের চিত্র এটা। এই মজুরি বৈষম্য দূরীকরণে রংপুরে সচেতনতামূলক কর্মসূচি শ্রমকল্যাণ দপ্তরের রয়েছে। তবে লালমনিরহাটে এ বিষয়ে কোনো কর্মসূচি আপাতত নেই।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App