×

সারাদেশ

সৈয়দপুরে কুরবানির জন্য প্রস্তুত সাড়ে ৮ হাজার পশু

Icon

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি : ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় কুরবানির জন্য ৬ হাজারের মতো পশুর চাহিদা রয়েছে। কিন্তু খামারি ও গ্রামাঞ্চলে গৃহস্থ পরিবারগুলো প্রস্তুত করেছে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার পশু; যা উপজেলার চাহিদা মিটিয়েও আশপাশের জেলা-উপজেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে নিশ্চিত করেছেন সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

স্থানীয় খামারিরা জানান, ঈদ এগিয়ে আসায় খামারে খামারে গরু-ছাগলের বেচাকেনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় ক্রেতা ছাড়াও বাইরের পাইকাররাও পশু কিনছেন। তবে পশুখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় পশুর দামে এর প্রভাব পড়েছে। গত বছরের তুলনায় আকারভেদে পশুর দাম ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এখন কুরবানির বাজার ধরতে খামারি ও গ্রামগঞ্জের গৃহস্থ পরিবারগুলো পশু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলার পশুর হাটে গরু-ছাগলের আমদানি দিন দিন বাড়ছে। সৈয়দপুর প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলায় কুরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৬ হাজার। এর বিপরীতে প্রস্তুত করা হয়েছে সাড়ে ৮ হাজার পশু। যা চাহিদার চেয়ে আড়াই হাজার বেশি। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাইরেও পশু সরবরাহ করা যাবে।

সূত্রমতে, সৈয়দপুর উপজেলায় ছোট-বড় নিবন্ধিত গরুর খামার রয়েছে ৭টি, ছাগল ও ভেড়ার খামার রয়েছে ৩টি। অনিবন্ধিত গরু ও ছাগলের খামার রয়েছে বিস্তর। এর বাইরেও শহর ও উপজেলার গ্রামাঞ্চলের গৃহস্থ পরিবারের বাড়িতে পর্যাপ্ত গরু, ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

খামারিরা বলছেন, ঈদ উপলক্ষে পর্যাপ্ত দেশি জাতের গরু ও ছাগল পালন করা হয়েছে। তবে পশুখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরু-ছাগল পালনে খরচ অনেক বেড়েছে। এতে পশুর বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। তারা আরো বলেন, যে সংখ্যক দেশি গরু-ছাগল প্রস্তুত করা হয়েছে, তাতে এগুলো দিয়েই কুরবানির চাহিদা মিটবে। এ অবস্থায় ছোট-বড় খামার টিকিয়ে রাখতে চোরাই পথে যাতে ভারতীয় পশু ঢুকতে না পারে, সেদিকে প্রশাসনের নজর রাখার দাবি জানান তারা।

সৈয়দপুর শহরের বাঁশবাড়ী এলাকার ইউসুফ ডেইরি ফার্মে গিয়ে দেখা যায়, গরু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারের লোকজন। পৃথক পৃথক খাটালে দেশি জাতের গরু ও ছাগলের পরিচর্যা করা হচ্ছে। খামারে রোগবালাই মুক্ত করতে স্প্রে করা হচ্ছে কীটনাশক। এ ফার্মের স্বত্বাধিকারী তরুণ উদ্যোক্তা রোটারিয়ান জামিল আশরাফ মিন্টু বলেন, আমার খামারে কুরবানির জন্য ২০০ দেশি প্রজাতির গরু ও ছাগল প্রস্তুত করা হয়েছে। দাম কী রকম জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার খামারে ৬০ হাজার থেকে ৪ লাখ টাকা দামের গরু আছে। ছাগলের দাম ১০ হাজার টাকা থেকে ৩০ হাজার পর্যন্ত রয়েছে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ১৫০টি গরু-ছাগল বিক্রি করেছি। ঈদ আসতে আসতে সব পশুই বিক্রি হয়ে যাবে। পশু কিনতে প্রতিদিনই ক্রেতার আগমন বাড়ছে। তিনি আরো বলেন, পশুখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরু পালনে খরচ অনেক বেড়েছে। গরুগুলোকে প্রতিদিন দুই বেলা ভুট্টা, খৈল, ব্রান্ড, কাঁচা ঘাস, গমের ভূসি ও খড় খাওয়ানো হয়। গোসল করানো হয় প্রায় প্রতিদিনই। পশুর থাকার জায়গা পরিষ্কার রাখা হয় প্রতিনিয়ত। এছাড়া গরমের কারণে সার্বক্ষণিক ফ্যান চালিয়ে পরিবেশ ঠিক রাখতেও হচ্ছে। সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল কুমার রায় বলেন, গরু ও ছাগলকে দানাদার খাদ্য ও কাঁচা ঘাস খাওয়ানোর জন্য খামারি ও গৃহস্থ পরিবারকে নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভিটামিন খাওয়াতেও বলা হচ্ছে। তবে গরুকে নিষিদ্ধ কোনো রাসায়নিক ও হরমোন ওষুধ খাওয়ানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে এবং তা মনিটরিং করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App