×

সারাদেশ

মাদারীপুর

মহাসড়ক যেন ময়লার ভাগাড় দুর্ভোগে পথচারী

Icon

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মহাসড়ক যেন ময়লার ভাগাড় দুর্ভোগে পথচারী

জাহাঙ্গীর আলম, মাদারীপুর থেকে : মাদারীপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ৩টি স্থানে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। এতে মহাসড়ক পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। এদিকে ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীসহ এই সড়ক দিয়ে চলাচলরতদের। এ ব্যাপারে একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে কোনো প্রতিকার না পেয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

সরজমিন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাদারীপুর পৌরসভার আধুনিক বর্জ্যব্যবস্থাপনা না থাকার ফলে পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে মস্তফাপুর ইউনিয়নের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ব্যস্ততম সড়কের পাশে। পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড থেকে ৩৫ টন বর্জ্য বের হয়। কিন্তু বিপুল পরিমাণ এই বর্জ্য ফেলার জন্য পৌরসভার নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় ভাগাড় বা ডাম্পিং স্টেশন করা সম্ভব হয়নি। তাই কয়েক বছর ধরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মস্তফাপুর ইউনিয়নের বড়মোহের এলাকায় পৌর মেয়র খালিদ হোসেনের নিজস্ব জমিতে ময়লা ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দেখা যায়, ২৪ ফুট চওড়া ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বেশ কিছু জায়গা ময়লার ভাগাড়ের দখলে। ময়লার দুর্গন্ধে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচলরতদের। ময়লার দুর্গন্ধ বাতাসের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের বসতবাড়িতে। শুধু মাদারীপুর পৌরসভার ময়লাই নয় রাজৈর ও কালকিনি পৌরসভার ময়লাও ফেলা হয় এই মহাসড়কে। দেশের অন্যতম ব্যস্ত মহাসড়ক হিসেবেই পরিচিত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক। এই মহাসড়কের মাদারীপুরের ৪৮ কিলোমিটার অংশে কমপক্ষে ৩টি স্থানে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। মাদারীপুর, কালকিনি, রাজৈর পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনাও এই মহাসড়কে ফেলা হয়। এর ফলে সড়কের নাজেহাল অবস্থা। প্রতিদিন কয়েক হাজার গাড়ি চলাচল করে এই এক লেন সড়ক দিয়ে; যার ফলে একদিকে ঘটছে দুর্ঘটনা অন্যদিকে পানি ও বাতাস দুষিত হয়ে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। মহাসড়ক থেকে ময়লা-আবর্জনা সরাতে বার বার তাগিদ দিলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

মস্তফাপুরের বাসিন্দা মিঠু দরজি বলেন, দুর্গন্ধের কারণে এখানে থাকাই দায়। নাক মুখ চেপে চলাচল করতে হয়। পৌর মেয়রের কাছে আমাদের দাবি, ময়লার ভাগাড়টি এখান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নিন।

হযরত আলী নামে আরেকজন বাসিন্দা বলেন, ‘লোকালয়ে মধ্যে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে আমরা বহু অনুরোধ করেছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।’

মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মুনীর আহমদ বলেন, খোলা স্থানে বর্জ্য ফেলার কারণে ওই এলাকার মানুষের বিভিন্ন রকমের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান বলেন, আধুনিক বর্জব্যবস্থাপনার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যে ময়লা ফেলার জন্য পৌরসভারকে ৫ একর জমি দেয়া হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App