×

সারাদেশ

রৌমারী

ব্রিজের নির্মাণকাজে ধীরগতি দুর্ভোগে ৪০ হাজার মানুষ

Icon

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ব্রিজের নির্মাণকাজে ধীরগতি  দুর্ভোগে ৪০ হাজার মানুষ

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার নটান পাড়া হয়ে বড়াইবাড়ি সীমান্তের চুলিয়ারচর রাস্তায় হাসপাতালসংলগ্ন বিজিবি ক্যাম্পের পূর্ব পাশে আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণকাজের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও কাজ সমাপ্ত হয়নি। দীর্ঘদিনেও ব্রিজের কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যথাসময়ে ব্রিজের নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ।

উপজেলার হাসপাতালসংলগ্ন বিজিবি ক্যাম্পের পূর্ব পাশে কুড়ার উপর ব্রিজ নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে উপজেলার রৌমারী থেকে চুলিয়ারচর পর্যন্ত ২২টি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ উপজেলা শহরের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে এলাকার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার সরজমিন জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ অবহেলায় পড়ে থাকার কারণে এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, ডাইভারশন ব্রিজটি নিম্নমানের হওয়ায় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ।

এলজিইডির প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজ প্রকল্পের আওতায় ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৪৭৭ টাকায় টেন্ডার হয় ব্রিজটি। এটি ভেঙে নতুন ব্রিজ নির্মাণে ঠিকাদারের অবহেলায় চুলিয়ারচর, কলাবাড়ি, বারবান্দা, নামা বারবান্দা, সাত ইজলামারী, গোয়াল গ্রাম, ফুলবাড়ি, ভুন্দুরচর, সাত ইছাকুড়ি ও নটান পাড়াসহ উপজেলা শহরে আসতে ২২ গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। স্থানীয়রা বলছেন, ব্রিজটি জনগুরুত্বপূর্ণ, অথচ ঠিকাদারের অবহেলায় কাজের ধীরগতি হওয়ায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, রৌমারী হাসপাতাল ও বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন পূর্ব পাশে কুড়ার উপর ব্রিজ নির্মাণে এলজিইডির ৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্দে মেসার্স দুর্গা এন্টারপ্রাইজ টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি পায়। পরে রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রবিনের কাছে সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজটি বিক্রি করে দেন ঠিকাদার শ্যামল।

পরে তার কাছ থেকে ব্রিজের কাজের সব দায়িত্ব বুঝে নিয়ে বর্তমান কাজ করছেন রাশেদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। সাব-ঠিকাদার গত বছর মে ও জুন মাসে ব্রিজটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের পদক্ষেপ নিলেও বিভিন্ন অজুহাতে বর্তমানে ব্রিজ নির্মাণের কাজ ধীরগতিতে চলছে।

সূত্রে আরো জানা যায়, এলজিইডির বরাদ্দে ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ডাইভারশন ব্রিজ নির্মাণ করে দেয়ার কথা থাকলেও তা না দিয়ে হালকাভাবে কাঠের ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। দায় এড়াতে নড়বড়ে কাঠের সাঁকো নির্মাণ করে দেন ঠিকাদার। বর্তমানে কোনো উপায় না পেয়ে ঠিকাদারের নির্মিত নড়বড়ে কাঠের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে রৌমারী সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, ব্রিজের কোনো কাজই হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে বহু সময় লাগবে। তিনি বলেন, কাঠের ব্রিজ দিয়ে পার হতে ভয় লাগে, বড় বড় তারকাটা বের হয়ে আছে। যে কোনো সময় মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। আমি সরকারের দৃষ্টি কামনা করছি জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হউক।

স্থানীয় বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিবর রহমান অভিযোগ করে বলেন, এই ব্রিজের কাজের কোনো গতি নেই। রৌমারী বাজারে যেতে একমাত্র ভরসা ছিল ব্রিজটি। কাঠের একটা ব্রিজ নির্মাণ করেছে তার উপর দিয়ে পার হতে গা কাপে।

রৌমারী সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে দাবি করছি দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ব্রিজের কাজ সম্পন্ন করা হোক।

সাব-ঠিকাদার রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, নানা সমস্যার কারণে কাজের সমস্যা হয়েছে, তবে কাজ চলমান রয়েছে।

ঠিকাদার শ্যামলের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা প্রকৌশলী মুনসুর বলেন, এই কাজগুলো জেলা থেকে মনিটরিং করা হয়। আমরা সহযোগিতা করি মাত্র। বিস্তারিত জানার জন্য জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুজ্জামানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App