×

সারাদেশ

শতাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অধ্যক্ষের প্রতারণা

Icon

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চরফ্যাসন (ভোলা) প্রতিনিধি : শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের না জানিয়ে গোপনীয়ভাবে নিজের মাদ্রাসায় শতাধিক শিক্ষার্থীর ভর্তি আবেদন সম্পন্ন করেছেন মাওলানা ইয়াকুব আলী নামে এক অধ্যক্ষ।

দীর্ঘ সময় এটি তিনি চালিয়ে আসছেন। তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। ভুক্তভোগীদের মধ্যে পাঁচ শিক্ষার্থী চরফ্যাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অধ্যক্ষের অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় উপজেলা ইউএনওর অফিসে লিখিত অভিযোগ করা হয়।

অভিযুক্ত শিক্ষক ভোলা জেলার চরফ্যাসন উপজেলার ‘করিমজান মহিলা কামিল (এম.এ) মাদ্রাসা’-এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত। ওই পাঁচ শিক্ষার্থী উপজেলার স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে সদ্য দাখিল পাশ করেছেন। এক শিক্ষার্থী বলেন, মাওলানা ইয়াকুব আলী আমাদের বাড়িতে এসে আমার কাছে আমার দাখিল পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর চেয়েছেন। কিন্তু আমি কোনো তথ্য দেইনি। আমি ২৮ মে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি আবেদন করতে গেলে জানতে পারি যে, আমার ভর্তি আবেদন সম্পন্ন করা হয়েছে। পরে জানতে পারি আমার আবেদন তার মাদ্রাসা থেকে সম্পন্ন করা হয়েছে। অথচ এ বিষয়ে আমার বা আমার অভিভাবকের কোনো অনুমতি নেননি তিনি। আমার এসব গোপনীয় কাগজপত্র আমার মাদ্রাসায় সংরক্ষিত থাকার কথা। তাহলে কীভাবে তার হাতে গেল? তার বিরুদ্ধে ইউএনওর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

সূত্রে জানা গেছে, একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদন শুরুর দিন থেকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে না জানিয়ে গোপনীয়ভাবে নিজস্ব মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে মাদ্রাসা প্রথম পছন্দ তালিকায় নির্ধারণ করে ভর্তি আবেদন করেছেন মাওলানা ইয়াকুব আলী। এই শিক্ষার্থীর মতো শতাধিক শিক্ষার্থীর ভর্তি আবেদন একইভাবে শেষ করেছেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের সত্যতা জানতে গত বুধবার সকালে মাদ্রাসা গিয়ে দেখা যায় যে, মাওলানা ইয়াকুব আলী কয়েকটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর দাখিল পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ডের ফটোকপির ভিন্ন ভিন্ন বান্ডিল তার টেবিলের ড্রয়ার থেকে বের করেন একজন শিক্ষার্থীর তথ্য জানাতে। এ সময় শতাধিক শিক্ষার্থীর দাখিল পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ডের কপিও সংরক্ষণ করতে দেখা যায় তাকে।

এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে মাওলানা ইয়াকুব আলী কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। কৌশলে বিষয় এড়িয়ে যান।

ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে ইউজার আইডি ও পিন নম্বর শিক্ষার্থীদের কাছে ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে মোবাইলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নওরীন হক।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App