×

সারাদেশ

আইন অমান্য করে চলছে ইঞ্জিনচালিত নৌযান

বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজের জীববৈচিত্র্য হুমকিতে

Icon

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজের জীববৈচিত্র্য হুমকিতে

এম. রমজান আলী, রাউজান (চট্টগ্রাম) থেকে : দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে ইঞ্জিনচালিত নৌযান। হালদা নদীকে বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণা করেছে সরকার। ২০২০ সালের ২১ ডিসেম্বর এই ঘোষণা করা হয়। এতে বলা হয়, হালদায় ‘রুই জাতীয় মাছের প্রাক-প্রজনন এবং প্রজনন মৌসুম (মার্চ-জুলাই) ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলতে পারবে না।

তারপরেও সরকারের ঘোষণাকে পাত্তা না দিয়ে নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলছে। এ ব্যাপারে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ নিষ্ক্রিয় থাকায় প্রশ্ন উঠেছে। যেভাবে নৌযান চলছে, তা, অব্যাহত থাকলে মা মাছ ও ডলফিনের ক্ষতিসহ নদীর জীববৈচিত্র্য আরো হুমকির মুখে পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। স্থানীয়রা জানান, ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ)’র হালদা প্রকল্পের তিনটিসহ বেশ কয়েকটি ইঞ্জিনচালিত নৌযান অবাধে চলাচল করছে। এতে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে নদীর রাউজান ও হাটহাজারী অংশের ডিম আহরণকারীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

তারা বলছেন, আইডিএফের তিনটিসহ বেশ কয়েকটি নৌযান চলাচল করছে। অথচ আমরা বৈঠা বেয়ে নৌকা চালিয়ে ডিম সংগ্রহসহ নদী পারাপার হচ্ছি। এদিকে প্রকল্পের সঙ্গে নৌযান চলার কোনো সম্পর্ক নেই এবং তিনটি নৌযান চলাচলের জন্য জেলা প্রশাসক ও মৎস্য বিভাগ অনুমতি দিয়েছে বলে জানান আইডিএফ হালদা প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ আন নুর। তিনি আরো বলেন, নদী পারাপারে এবং প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগকে সহযোগিতায় তিনটি ইঞ্জিনচালিত নৌযান ব্যবহৃত হয়। আমরা ২০১৬ সালে হালদা প্রকল্প শুরু করে তিনটি নৌযান নামিয়ে ছিলাম এ নদীতে। গত ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়েছে।’

ডিম সংগ্রহকারী কামাল উদ্দিন বলেন, ‘ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা কেউ মানছে না। এ নৌকার পাখায় মা-মাছ ও ডলফিন আঘাত পেয়ে মারাও যায়। তাই ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচলের বিরুদ্ধে কঠোর প্রদক্ষেপ নেয়াটা জরুরি হয়ে পড়েছে।’

এ প্রসঙ্গে রাউজান উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘হালদায় ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচল ও মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা আছে। আইডিএফের নৌযানের অনুমতির ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।’ হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, হালদা নদীকে ১২টি শর্তে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করা হয়। ইঞ্জিনচালিত নৌযান মাছের প্রজনন চক্রকে মারাত্মকভাবে ক্ষতি করছে। তাই হালদায় কার্পজাতীয় মাছের প্রজননকে নিরাপদ ও উৎপাদন বাড়াতে সরকারি গেজেটের ১২ নাম্বার শর্তটি হলো- মাছের ‘প্রাক-প্রজনন ও প্রজনন মৌসুমে (মার্চ-জুলাই) ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচল করতে পারবে না। প্রজনন মৌসুমে মা মাছ শারীরিকভাবে দুর্বল থাকে। এই সময় ইঞ্জিনচালিত নৌযানের পাখার আঘাতে মাছের শারীরিক ক্ষত, ডিম নষ্ট ও এমনকি মাছের মৃত্যুও হয়। এখন এটা অমান্য করে ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলায় মা মাছ, হালদায় থাকা ডলফিনের ক্ষতির পাশাপাশি নদীর জীব-বৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। সেই সঙ্গে ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলায় মাছের প্রজনন স্থান ধ্বংস হয়, পলি সৃষ্টির মাধ্যমে পানির গুণাবলি নষ্ট হয় ও নৌযানের ইঞ্জিনের শব্দ ও কম্পনের ফলে মাছ চাপ অনুভব করে ও স্বাভাবিক আচরণ পরিবর্তন হয়ে যায়। হালদা নদীর কার্পজাতীয় মাছের প্রজননকে নিরাপদন ও অতিবিপন্ন প্রজাতির গাঙ্গেয় ডলফিন এবং জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচল বন্ধ করা উচিত।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, ‘হালদায় ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচলের বিষয়ে এই মুহূর্তে নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। আইডিএফের ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচলের অনুমতি আছে কিনা তা আমার জানা নেই।’

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App