×

সারাদেশ

তেঁতুলিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

চিকিৎসক সংকটে ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা

Icon

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জাবেদুর রহমান জাবেদ, তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) থেকে : তেঁতুলিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। এখানে নেই কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং মেডিকেল অফিসার। তাই ফার্মাসিস্ট দিয়েই চলছে বহিঃবিভাগের চিকিৎসাসেবা। হাসপাতালে জরুরি বিভাগে রোগী এলেই তাদের পাঠিয়ে দেয়া হয় জেলা সদরসহ অন্যান্য হাসপাতালে।

পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্যমতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০০৫ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, মেডিকেল অফিসার, জুনিয়র কনসালটেন্ট ও সহকারী সার্জনসহ ২৮টি পদ রয়েছে। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ মেডিকেল অফিসার আছে মাত্র ৬ জন। এর মধ্যে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভার.) পদে একজন নিয়োজিত। বর্তমানে আবাসিক মেডিকেল অফিসারসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসের পদ শূন্য। এর মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট ইএনটি, সার্জারি, চক্ষু, মেডিসিন, অর্থোপেডিক, কার্ডিওলজি, এনেসথেসিয়া, শিশু, যৌন ও চর্ম এবং সহকারী সার্জন ইএমও, প্যাথলোজি, এনেসথেসিয়া, এমও (হোমিও/আয়ুর্বেদিক) চিকিৎসকের পদ কয়েক বছর ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে দুজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের পাশাপাশি ফার্মাসিস্ট দিয়ে জরুরি বিভাগ ও আন্তঃবিভাগে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। তথ্য মতে, প্রতিদিন বহিঃবিভাগে গড়ে ৩ শতাধিক রোগী এবং জরুরি বিভাগে ৫০ থেকে ১০০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। এর মধ্যে বেশির ভাগ রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে আবার প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অন্যত্র পাঠানো হয়। জরুরি বিভাগে আসা রোগীর মধ্যে ২০ থেকে ২৫ জন আন্তঃবিভাগে ভর্তি থাকেন। কিন্তু পর্যাপ্ত বেড না থাকায় অনেক ভর্তি রোগীকে বারান্দার মেঝেতে চিকিৎসাসেবা নিতে হয়। অনেক মা ও শিশু রোগীর চিকিৎসাসেবা নিতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

এছাড়া হাসপাতালটিতে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার (ওটি) থাকলেও গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, এনেসথেশিয়া চিকিৎসক, সার্জারি চিকিৎসক না থাকায় অনেক গর্ভবতী মহিলাকে চিকিৎসাসেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে নানা সংকটের মধ্যেই বর্তমান সিভিল সার্জন ডাক্তার মোস্তফা জামান চৌধুরী পঞ্চগড়ে যোগদানের পর থেকেই এ উপজেলার গর্ভবতী মাসহ সার্জারি রোগীর মধ্যে আশার আলো জ্বালিয়েছে। গত নভেম্বর থেকে তেঁতুলিয়া হাসপাতালে এখন পর্যন্ত প্রতি মাসে একদিন অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন।

এছাড়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে নেই কোনো এমবিবিএস ডাক্তার। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতেও মেডিকেল অফিসার না থাকায় চিকিৎসাসেবা পেতে বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয়রা। ২ লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল এ হাসপাতালটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অভাবে স্বাস্থ্যসেবা মুখ থুবড়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডাক্তার মোস্তফা জামান চৌধুরী বলেন, আমাদের জনবল সংকট শুধু তেঁতুলিয়া হাসপাতালেই নয়, জেলার অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও রয়েছে। বিষয়টি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও সমাধানের কোনো ব্যবস্থা হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে সীমিত জনবল দিয়েই আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App