×

সারাদেশ

সুপারি গাছের খোলে তৈরি পরিবেশবান্ধব তৈজসপত্র

Icon

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সুপারি গাছের খোলে তৈরি পরিবেশবান্ধব তৈজসপত্র

এন এ রবিউল হাসান লিটন, বোদা (পঞ্চগড়) থেকে : বোদা পৌর শহরের শিমুলতলী এলাকায় সুপারি গাছের খোল দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ওয়ান টাইম তৈজসপত্র। পরিত্যক্ত সুপারির খোল দিয়ে গোলাকার বাটি, গোলাকার প্লেট, চৌকোণা প্লেট, লাভ প্লেট, চামুচ, ট্রেসহ ৮ ধরনের তৈজসপত্র তৈরি করছে ইকো বিডি গ্রিন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। পরিবেশবান্ধব এসব তৈজসপত্র ঢাকা ও চট্টগ্রামে রপ্তানি করছে প্রতিষ্ঠানটি। কারখানায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে অনেক নারী-পুরুষের।

সরজমিন দেখা গেছে, সুপারির খোল দিয়ে তৈজসপত্র তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। মাত্র এক মিনিটের মধ্যেই গোলাকার বাটি, গোলাকার প্লেট, চৌকোণা প্লেট, লাভ প্লেট, চামুচ, ট্রেসহ ৮ ধরনের তৈজসপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। কারখানার শ্রমিকরা বলছেন, প্রথমে খোলগুলোকে পাতা থেকে আলাদা করা হয়। তারপর খোলগুলোকে নিমপাতা ও লেবুর রস যুক্ত পানিতে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখা হয়। এরপর ব্রাস দিয়ে পরিষ্কার করে জীবাণুমুক্ত করে আধাঘণ্টা রোদে শুকিয়ে নেয়া হয়। এরপর পাতার খোল ছাঁচের মেশিনে বসিয়ে ৬০ থেকে ৭০ ডিগ্রি তাপ এবং চাপ প্রয়োগ করা হয়।

ইকো বিডি গ্রিনের পরিচালক ফরিদুল আলম হিরু বলেন, ক্ষতিকর প্লাস্টিকের ওয়ানটাইম তৈজসপত্রের পরিবর্তে সুপারি গাছের খোল দিয়ে তৈরি তৈজসপত্র স্বাস্থ্যকর এবং পরিবেশবান্ধব। আমাদের তৈরি তৈজসপত্রগুলো শক্ত, সুন্দর ও সহজে পরিবহনযোগ্য। এই তৈজসপত্রের সবচেয়ে ভালো দিক হলো, এটি ব্যবহারের পর ফেলে দিলে পচে জৈব সার হয়। তিনি আরো বলেন, প্লাস্টিকের পণ্যের তুলনায় দাম একটু বেশি হলেও পরিবেশ সুরক্ষায় এর বিকল্প নেই। বাজারে দিন দিন এই পণ্যের চাহিদাও বাড়ছে। প্রতি পিস ৭ টাকা থেকে ১৫ টাকার মধ্যে বিক্রি করা হয়। ইকো বিডি গ্রিনের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল আলম সেলিম বলেন, স্বল্প পরিসরে প্রতিষ্ঠানটি চালু করে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। আগামীতে এর আকার বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে। এখানে নারী পুরুষ মিলিয়ে ৫০ জন লোকের কর্মসংস্থান করতে পেরেছি। বর্তমানে জেলায় চাহিদা কম হলেও এনজিওরা এই তৈজসপত্র কিনছেন। এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রামে রপ্তানি হচ্ছে।

এলাকার সুপারি চাষিরা জানায়, পঞ্চগড়ে ব্যাপক আকারে সুপারি চাষ হয়। চাষিরা তাদের বাড়ির আনাচে কানাচে গড়ে তুলেছেন বাগান। এসব বাগানে সংগৃহীত সুপারি দেশের নানা প্রান্তে রপ্তানি হয়। সুপারি গাছের পাতাসহ এক সময় লাল হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। হাজার বছর ধরে পাতাসহ খোল রোদে শুকিয়ে চাষিরা জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করে আসছেন। বর্তমানে এই খোল দিয়ে তৈজসপত্র বানিয়ে রীতিমতো চমকে দিয়েছে ইকো বিডি নামের ওই প্রতিষ্ঠান। খোলগুলো প্রতি পিস দুই থেকে আড়াই টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

বোদা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার নজির জানান, এটা নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। সুপারির খোল দিয়ে তৈরি তৈজসপত্রের দেশ ছাড়া বিদেশেও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এসব পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App