×

সারাদেশ

মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ

নির্বাচনী পোস্টারে নিষিদ্ধ পলিথিন

Icon

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 নির্বাচনী পোস্টারে নিষিদ্ধ পলিথিন

সাইমুম সাব্বির শোভন, জামালপুর থেকে : ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তৃতীয় ধাপে প্রতীক বরাদ্দের দিন থেকেই মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলায় শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। নির্বাচনকে ঘিরে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। প্রচারণার অংশ হিসেবে দুই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ছেয়ে গেছে প্রার্থীদের ব্যানার ও পোস্টারে। আর রোদ-বৃষ্টিতে পোস্টার যেন নষ্ট না হয় সেজন্য এসব পোস্টার মোড়ানো হয়েছে নিষিদ্ধ পলিথিনে। এদিকে নিষিদ্ধ পলিথিনে মোড়ানো পোস্টার পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিবেশের কথা চিন্তা না করে পোস্টার যেন নষ্ট না হয় সেজন্য অতিরিক্ত টাকা খরচ করছে প্রার্থীরা। প্রার্থীদের এমন কাণ্ডে হতবাক সাধারণ ভোটারা। এক্ষেত্রে প্রার্থীদের আরো সচেতন থাকা উচিত ছিল বলে মনে করছেন তারা। পরিবেশ রক্ষার্থে এসব পলিথিনে মোড়ানো পোস্টার নির্বাচনের পর পুনঃব্যবহার করাসহ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তাদের।

মাদারগঞ্জ উপজেলার শ্যামগঞ্জ কালীবাড়ী এলাকার বাসিন্দা সজীব ইসলাম বাবু বলেন, বিগত নির্বাচনগুলোতে আমরা দেখেছি পলিথিনে মোড়ানো এসব পোস্টার ড্রেন, নদী-নালায় ফেলা হয়েছে; যা আমাদের পরিবেশকে দূষণ করেছে। এগুলো যেন রিসাইকেলিং করা হয়। নির্বাচন অফিস যেন এসব দেখে। সাযযাদ হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কয়েকজন প্রার্থী পলিথিনে মোড়ানো পোস্টার সারা মাদারগঞ্জে ছড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা চাই যাতে পরিবেশ সুন্দর থাকুক। এর জন্য নির্বাচন কমিশন এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।

মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী বাজার এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনে মাত্র একজন প্রার্থীই বিজয়ী হবেন। কিন্তু প্রার্থীরা পরিবেশ ও জনগণের কথা চিন্তা না করে কীভাবে পলিথিনে মোড়ানো পোস্টার এভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছে পরিবেশের মধ্যে তার আমার বোধগম্য নয়।

জামালপুরের বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর বলেন, আমরা জনপ্রতিনিধিদের সুদূর প্রসারী চিন্তার ধারক-বাহক মনে করি। এখন এরা যদি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন ও প্লাস্টিক ব্যবহার করে। চেয়ারে বসার আগেই আমরা এ ধরনের আচরণ লক্ষ্য করছি। এই অবস্থা আমরা কোনোভাবে মেনে নিতে পারছি না। আশা করছি, প্রার্থীরা তার দক্ষতা, যোগ্যতা, দূরদর্শিতা প্রমাণ করবে নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে।

এ বিষয়ে প্রার্থীরা কথা না বললেও বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শানিয়াজ্জামান তালুকদার। তিনি বলেন, যদি কেউ প্লাস্টিকে মুড়িয়ে পোস্টার টানানো বা ঝুলানোর কাজ করে সেটা বেআইনি হবে। আমাদের নজরে আসলে আচরণবিধি অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তবে আমরা প্রার্থীদের প্রতীক গ্রহণের সময় বলে দিয়েছি পোস্টার ঝুলানোর সময় যেনো প্লাস্টিকে না মোড়ানো হয়।

উল্লেখ্য, পুরো জেলায় ছাপাখানা রয়েছে ৩২টি। সেখানে এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার পোস্টার ছাপানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App