×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

সারাদেশ

‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ খচিত স্মার্টকার্ড বিতরণে সিইসি

নির্বাচন-গণতন্ত্রের মাধ্যমে দেশ যেন উন্নত রাষ্ট্র হতে পারে

Icon

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধে যে ত্যাগ করতে হয়েছে, তা পৃথিবীর ইতিহাসে অসামান্য একটা আখ্যান। তবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুরোপুরি অর্জন হয়নি। আমরা মুক্তি চেয়েছিলাম, গণতন্ত্র চেয়েছিলাম, সুশাসন চেয়েছিলাম। যে মূল্যবোধ নিয়ে ৩০ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন, তাদের একটা প্রত্যাশা ছিল। তাই নির্বাচনের মাধ্যমে, গণতন্ত্রের মাধ্যমে, সুশাসনের মাধ্যমে এবং আর্থিক উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ যেন বিশ্ব পরিমণ্ডলে একটি আদর্শিক উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।

গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ খচিত স্মার্টকার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্য নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

সিইসি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য অপরিসীম। পৃথিবীর অনেক রাষ্ট্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অথবা সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে। পলাশীর যুদ্ধটাও যুদ্ধ। তবে সেটা ছিল লজ্জার যুদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা হরণ হয়েছিল। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ গৌরবের, সম্মানের। আর যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন তারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আপনারা জানেন। ’৫২, ’৬৯, ’৭০ এবং ’৭১ ধাপে ধাপে চূড়ান্ত অর্জন হয়েছিল। ৭ মার্চের একটি ভাষণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন। তারপর ২৫ মার্চের কালরাতে যে বর্বর হামলা চালানো হয়েছিল, এরপর আমাদের যুবকরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা আপনাদের খুব বেশি সম্মানিত করতে পারিনি বরং আমরাই সম্মানিত বোধ করছি। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম আপনাদের দেখবে না। মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা, যে মূল্যবোধ, মুক্তিযুদ্ধের যে ঝান্ডা, এটা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে সঞ্চালিত করতে হয়। আমরা-আপনারা মিলে সেটা করব।

সিইসি আরো বলেন, আপনাদের কার্ডের সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধা লেখা থাকবে। এটা আমাদের আনন্দ দিচ্ছে। আপনারা থাকবেন না। কিন্তু আপনাদের সন্তানদের কাছে আপনার নাতি-নাতনিদের কাছে এটা আর্কাইভ হয়ে থাকবে। কখনোই হারাবেন না। এটা কিন্তু বীরত্বের একটি স্মারক।

নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব খান মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা জাতির সূর্য সন্তান। আপনারা বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক একটি দেশের অবস্থান করে দিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, আপনাদের যে সম্মান দিতে পেরেছি, তা আপনাদের সম্মানের তুলনায় অনেক কম। এই বিষয় গত কমিশন থেকে শুরু হয়েছে। আজ হাতে তুলে দিতে পেরে আমরা গৌরাবান্বিত।

নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান বলেন, বিলম্ব হলেও এই কর্মসূচিটা হয়েছে, তার জন্য আমি আনন্দিত, পরিতৃপ্ত। আমি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান।

মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে রাখার জন্য বর্তমান সরকার অনেক কাজ করেছে। নির্বাচন কমিশন মুক্তিযোদ্ধাদের এই কার্ড দিয়েছে। তারা শুধু সম্মানটুকু পেতে চায়। এইটাই তাদের দাবি, বেশি না।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার জাবেদ আলী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করার মাধ্যমে কমিশনও সম্মানিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইশরাত চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার আসার পর মুক্তিযোদ্ধারা হারানো গৌরব ফিরে পেতে শুরু করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এনআইডিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা লেখা অনেক বড় উদ্যোগ। এখানে অনেকে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর কথা বলেছেন, এই বিষয়ে কাজ প্রক্রিয়াধীন। দ্রুতই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App