×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

সারাদেশ

হরিরামপুর

ভাঙন আতঙ্কে পদ্মাপাড়ের মানুষ

Icon

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ভাঙন আতঙ্কে পদ্মাপাড়ের মানুষ

সুরেশ চন্দ্র রায়, মানিকগঞ্জ থেকে : মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরবর্তী মালুচি, মালুচি পশ্চিমপাড়া, কুশেরচর, কোর্টকান্দি ও বাগমারা এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নতুন করে নদী ভাঙন আতঙ্কে পদ্মাপাড়ের কয়েক হাজার মানুষের ঘুম হারাম। স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছরে পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে ১৩টি মৌজার ১২টি মৌজাই পদ্মায় বিলীন হয়েছে। ভাঙনে এ ইউনিয়নের ৭০-৭৫ ভাগ জমিই রাক্ষসী পদ্মার পেটে চলে গেছে। গত দুই বছরে পদ্মার ভাঙনে কোর্টকান্দি, মুহম্মদপুর ও বৌদ্ধকানির শত শত বিঘা জমি ও বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। একমাস আগে নদীতে পানি বাড়ায় উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের কোটকান্দি থেকে মালুচী ঘাট এলাকায় ভাঙনে বহু ফসলি জমি ঠাঁই নিয়েছে নদীগর্ভে।

সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, নদী তীরবর্তী এক কিলোমিটার কৃষিজমির অনেক জায়গায় ফাটল ধরেছে। মালুচী গ্রামের অনেক বসতবাড়ি প্রচণ্ড ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে। এ গ্রামের বাসিন্দা হাসেন আলী বলেন, আমার ১২ বিঘা জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ১৪-১৫ বছর আগে নতুন করে পশ্চিম মালুচি গ্রামে বাড়ি করেছি, তাও এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে। একই গ্রামের গোপাল সরদার বলেন, একবার নদীতে ভাঙার পর বাড়ি করেছি। এ বাড়িও পদ্মাপাড়েই। যে কোনো সময় ভাঙতে পারে। এ এলাকার পদ্মা তীরে আগে কখনো জিও ব্যাগ ফেলা হয়নি। তাই দ্রুত জিও ব্যাগ না ফেললে এই ইট সোলিং রাস্তাসহ পুরো এলাকা নদীতে চলে যাবে।

স্থানীয় বাসিন্দা নোয়াব আলী বলেন, কুশিয়ারচর পশ্চিমপাড়া পর্যন্ত জিও ব্যাগ পড়লেও আমাদের এ দিকটায় জিও ব্যাগ ফেলা হয়নি। শিবালয় উপজেলার শুরুর পয়েন্ট এ জিও ব্যাগ পড়লেও মাঝখানে ফেলা হয়নি।

কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী বনি ইসলাম রূপক বলেন, ‘পদ্মার ভাঙনে ১৩টি মৌজার ১২টি মৌজাই নদীগর্ভে। এখন শুধু গৌড়বোরদিয়া মৌজা বাকি আছে। গত দুই বছরে কোর্টকান্দি, মুহম্মদপুর ও বৌদ্ধকানিতে পদ্মার ভাঙনে শত শত বিঘা জমি ও বাড়িঘর বিলীন হয়েছে। এ বছর কোটকান্দি ওসমানের বাড়ি থেকে মালুচি ঘাট পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কুশিয়ারচর বিল্লাল মেম্বাবের বাড়ি পর্যন্ত জিও ব্যাগ পড়লেও তারপর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার এখনো কোনো জিও ব্যাগ পড়েনি। এ বছর কোটকান্দি এলাকায় জিও ব্যাগও নদীতে ধসে পড়ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহরিয়ার রহমান বলেন, ভাঙনের ঝুঁঁকিতে থাকা কাঞ্চনপুরের মালুচি এলাকার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দীন বলেন, হরিরামপুরের বেশির ভাগ এলাকায় জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। কাঞ্চনপুরের কোর্টকান্দি থেকে মালুচি ঘাট পর্যন্ত প্রায় ৭০০ মিটার, কাঞ্চনপুরে ৫০০ মিটার এবং আজিমনগর, সুতালড়ী ও লেছড়াগঞ্জ চরাঞ্চলে ৫০০ মিটার করে নদী তীরবর্তী এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App