×

সারাদেশ

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা

সাতক্ষীরা-ঝালকাঠিতে গুলিবর্ষণ অগ্নিসংযোগ ভাঙচুর, আহত ৯

Icon

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ ডেস্ক : ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে সাতক্ষীরার আশুাশুনি উপজেলা ও ঝালকাঠির সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার সহিংসতায় বাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, গুলিবর্ষণ ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৯ জন। এছাড়া এ ঘটনায় ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের খবরে-

সাতক্ষীরা: আশাশুনিতে উপজেলা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় কমপক্ষে ২০টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলা-পাল্টা হামলায় আহত হয়েছেন ৫ জন। আহতদের মধ্যে ২ জনকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ এ পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গত মঙ্গলবার রাতে ও গতকাল বুধবার সকালে এসব ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরাজিত চেয়ারম্যানপ্রার্থী শাহ নেওয়াজ ডালিম বলেন, বিজয়ী চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিমের কর্মী-সমর্থকরা মিলন পারভেজের নেতৃত্বে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পিরোজপুর গ্রামের রিপন হোসেনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। পরে একই গ্রামের আনোয়ারুল ইসলাম, সাইফুল ইসলামের বাড়িসহ কমপক্ষে ৫টি বাড়ি তছনছ করে সন্ত্রাসীরা।

গতকাল সকালে বিচ্ছিন্ন হামলায় ভাঙচুর করা হয় গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের আনোয়ারুল ইসলাম, কাদাকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দীপঙ্কর সরকার দ্বীপ, তেতুলিয়া গ্রামের সাইফুর রহমান, লিটন সরদার, প্রতাপ নগরের আব্দুস সামাদসহ কমপক্ষে ২০ জনের বাড়ি। এছাড়া প্রতিপক্ষের হাতুড়িপেটায় গুরুতর আহত হয়েছেন চেউটিয়া গ্রামের আনিসুর রহমান ও তোয়ারডাঙ্গা গ্রামের ইমরান হোসেনসহ কমপক্ষে ৫ জন। বিজয়ী প্রার্থী মোস্তাকিমের দাবি, এটা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা নয়। এটি আসলে মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এদিকে ডালিমের কর্মী-সমর্থকরা গুনাকরকাটি গ্রামের মোশাররফ হোসেন, গদাইপুর গ্রামের আব্দুসসামাদ ও ইউপি চেয়ারম্যান জগদীশ সানার বামন ডাঙ্গার বাড়ি ভাঙচুর করেছে।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মতিউর রহমান সিদ্দিকী বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। ঝুঁঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সহিংসতার ঘটনায় পিরোজপুর গ্রামের আব্দুর রহমান, আবুল কালাম আযাদ, জাহাঙ্গীর হোসেনসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় আলাদা আলাদা মামলা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি : সদর উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় অগ্নিসংযোগ, গুলিবর্ষণ ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে ৪ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার সকালে সদর উপজেলার শেখেরহাট ইউনিয়নের রাজপাশা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগে বুধবার রাতে মানপাশা গ্রামের ব্যবসায়ী কে এস জাহিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও দুই রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার উত্তর মানপাশা গ্রামে দোয়াত কলম প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান হোসেন খানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ব্যবসায়ী কে এস জাহিদের বাড়ির প্রধান ফটকে অগ্নিসংযোগ ও দুই রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। আত্মরক্ষার্থে জাহিদ তার লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে ফাঁকা গুলি করেন। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হননি। রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে বুধবার সকালে দুপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় ৪ জন আহত হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য গুরুতর অবস্থায় ২ জনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেন। আহতরা হলেন- আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী খান আরিফুর রহমানের কর্মী সদর উপজেলার রাজপাশা গ্রামের দিলু মজুমদারের ছেলে মুন্না মজুমদার (২০), শামসুল হকের ছেলে রাসেল (৩২)। এবং কাপ-পিরিচ প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল আমিন খান সুরুজের কর্মী একই এলাকার হুমায়ুন কবির শেখের ছেলে মাহমুদ শেখ (২৭) ও হৃদয় শেখ (২৫)। ব্যবসায়ী কে এস জাহিদ বলেন, আমি দোয়াত কলম প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান হোসেন খানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলাম। এজন্য হয়তো আমার ওপর কেউ ক্ষিপ্ত ছিল। আমার বাড়ির প্রধান ফটকে অগ্নিসংযোগ ও গুলি ছোড়া হয়েছে।

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, কে এস জাহিদের বাড়িতে রাতে আমরা গিয়েছিলাম। দুপক্ষের হামলায় ৪ জন আহত হয়েছেন। আহতরা সদর হাসপাতাল ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পৃথকভাবে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App