×

সারাদেশ

উপজেলা নির্বাচন : টিআইবির বিশ্লেষণ

দ্বিতীয় ধাপের ৭১% প্রার্থী ব্যবসায়ী, কোটিপতি ১১৬

Icon

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : চলমান চার ধাপের উপজেলা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ১৬০টি উপজেলায় ৭০ দশমিক ৫১ শতাংশ চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং ৬৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ব্যবসায়ী। প্রথম ধাপে এই হার ছিল যথাক্রমে ৭০ শতাংশ ও প্রায় ৬৭ শতাংশ। এছাড়া উভয় ধাপের প্রার্থীদের অধিকাংশই ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী’। সব পদের প্রার্থী মিলিয়ে দ্বিতীয় ধাপে কোটিপতির সংখ্যা ১১৬।

দুর্নীতিবিরোধী বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানিয়েছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ২০২৪-এর দ্বিতীয় ধাপের প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণের তথ্য তুলে ধরতে গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে টিআইবি।

হলফনামা বিশ্লেষণে বলা হয়, ১০ বছরে একজন চেয়ারম্যানের আয় বেড়েছে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৩৩৬ শতাংশ, ৫ বছরে বৃদ্ধির এই হার সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৯০০ শতাংশ। অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৬৬৬ শতাংশ আর স্ত্রী ও নির্ভরশীলদের সম্পদ বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৯৬৮ শতাংশ। একজন সংসদ সদস্যের অস্থাবর সম্পদ বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৫ শতাংশ থাকলেও, একজন চেয়ারম্যানের ক্ষেত্রে এই হার সাড়ে ১১ হাজার শতাংশের বেশি। ফলে পাঁচ বছরে অস্থাবর সম্পদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের পেছনে ফেলেছেন উপজেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা।

বিশ্লেষণ দেখা যায়, ৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ প্রার্থী কোটিপতি। প্রথম ধাপের তুলনায় দ্বিতীয় ধাপে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় তিন গুণ। তবে প্রায় ২৫ শতাংশ প্রার্থীর ঋণ কিংবা দায় রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৩১০ দশমিক ৯৪ কোটি টাকা ঋণ আছে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর। প্রার্থীদের ১৩ দশমিক ১৩ শতাংশ বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত। টিআইবি জানিয়েছে- সার্বিকভাবে প্রার্থীদের ৪২ দশমিক ৪৯ শতাংশের আয় সাড়ে তিন লাখ টাকার নিচে দেখানো হয়েছে। এই হার করযোগ্য নয়। আর ১০ শতাংশ প্রার্থীর আয় দেখানো হয়েছে সাড়ে ১৬ লাখ টাকার বেশি। তবে চেয়ারম্যান ও অন্য প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আয়বৈষম্য লক্ষ্য করা গেছে।

চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রায় ২৩ দশমিক ৬২ শতাংশের আয় সাড়ে ১৬ লাখ টাকার ওপরে, যা অন্যান্য প্রার্থীর ক্ষেত্রে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। আবার চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রায় ২১ শতাংশের আয় সাড়ে তিন লাখ টাকার নিচে থাকলেও অন্য প্রার্থীদের ৫৩ শতাংশ। অর্থাৎ চেয়ারম্যান পদে অপেক্ষাকৃত ধনীরা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। দ্বিতীয় ধাপে ১৬০টি উপজেলার মধ্যে ১৫৭টির প্রার্থীদের হলফনামা নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করেছে, বাকি তিনটি প্রকাশ করা হয়নি। প্রার্থীদের হলফনামায় দেয়া আট ধরনের তথ্যের বহুমাত্রিক ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে টিআইবি।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে ৭০ শতাংশই ব্যবসায়ী। তাদের হলফনামায় দেয়া তথ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যতটুকুই আছে, তাতে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা গেছে। রাজনীতির সঙ্গে সম্পদ বৃদ্ধির একটি যোগসূত্র দেখা যাচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App