×

সারাদেশ

কুলাউড়ায় সরকারি গাছ বিক্রি করলেন প্রধান শিক্ষক!

Icon

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আব্দুল কুদ্দুস, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) থেকে : কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বড় আকারের একটি ক্রস মেহগনি গাছ বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকার সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে গত ১৩ মে এলাকাবাসীর পক্ষে কয়েক ব্যক্তি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগ, ম্যানেজিং কমিটি এবং বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নে অবস্থিত টিলাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে। গত ৫ মে দুপুরে ঝড়ে বিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে সীমানা প্রাচীরের ভেতর ঘেঁষে থাকা বড় আকারের উঁচু ক্রস বেলজিয়াম গাছ উপড়ে পড়ে। এতে প্রাচীরের কিছু অংশের ক্ষতি হয়। তাছাড়া বিদ্যুৎ লাইনের উপর গাছের ডালপালা পড়ে যায়। রাস্তা চলাচলেও মানুষের বিঘœ ঘটে। মুঠোফোনে বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে স্থানীয়রা জানালে তিনি (প্রধান শিক্ষক) কমিটির সভাপতিকে ঘটনাস্থল দেখে আসার অনুরোধ করেন। কমিটির সভাপতি আমির আলী খান সেখানে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন। তিনি শ্রমিকদের মাধ্যমে গাছের ডালপালা কেটে স্তূপ করে রাখতেও প্রধান শিক্ষককে বলেন। অভিযোগ রয়েছে, কমিটির কাউকে না জানিয়ে প্রধান শিক্ষক পরদিন রাতে গাছের গোড়ালি, ডালপালাসহ পুরো গাছ টুকরো করিয়ে বিক্রি করে দেন। স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন, ক্রস বেলজিয়াম গাছের বয়স অন্তত ২৫ বছর, উচ্চতা প্রায় ৩০ ফুট হবে। এর বাজারদর ৪০ হাজার টাকা বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এলাকাবাসীর কয়েকজন বলেন, বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরে কাজ করা শ্রমিকরা রাত প্রায় সাড়ে ৮টার দিকে পিকআপের মাধ্যমে গাছ নিয়ে যায়।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক নেপাল কান্ত ভৌমিক বলেন, ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ায় কাঁচা বাউন্ডারি ফেটে যায়। তাছাড়া বিদ্যুৎ লাইনের উপর ডালপালা পড়ে যাওয়ায় এবং রাস্তায় মানুষের চলাচলে বিঘœ ঘটায় সভাপতিকে জানিয়ে গাছ কাটা হয়। সম্ভবত এখানে রাজমিস্ত্রিরা এগুলো নিয়ে গেছে। আমিও বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখি কাটা গাছের কোনো অংশ সেখানে নেই।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমির আলী খান বলেন, মূলত ঝড়েই গাছটি উপড়ে পড়ে। বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে ডালপালা কেটে স্তূপ করে রাখতে প্রধান শিক্ষককে বলছিলাম। পরে কী হলো আমি কিছুই জানি না। আমার সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইফতেখায়ের হোসেন ভূঁইয়া গতকাল রবিবার সকালে বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App