×

সারাদেশ

রাজধানীর লা ভিঞ্চি হোটেল ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে আগুন

Icon

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় কারওয়ান বাজারে লা ভিঞ্চি হোটেল ও ধোলাইখালে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের শাখায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার এ ঘটনা দুটি ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগা লা ভিঞ্চি হোটেল লাগোয়া কারওয়ানবাজার কাঁচাবাজারের একাংশ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের দৃঢ়তায় আগুন বাজারে ছড়াতে পারেনি। আর মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের শাখায় কাগজপত্র পুড়লেও ভল্টের কোনো ক্ষতি হয়নি। যদিও ব্যাংটিকে আগুন লাগার পর উৎকণ্ঠায় পড়েন অনেক গ্রাহক। ভল্ট রক্ষায় পুলিশও মোতায়েন করা হয়।

ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার লিমা খানম জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লা ভিঞ্চি হোটেলের রুমে এ ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলে। শর্টসার্কিট থেকে হোটেলটির নিচ তলায় জেনারেটর রুমে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এতে ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে ১০ লাখ টাকার মালামাল। আগুন বাজারে ছড়িয়ে পড়লে ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। এর আগেই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

হোটেলটির বিপরীত পাশের ভবনের নিরাপত্তাকর্মী বাবু মিয়া জানান, সকালে আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আমাদের ভবনের ফায়ার ব্যবস্থাপনা পরীক্ষা করছিলাম। এর মধ্যেই হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন পার্শ্ববর্তী ভবনের ওই জেনারেটরটি চালু হলে অনেক কালো ধোঁয়া বের হতে দেখি। কী হয়েছে সেটা দেখার জন্য সামনের দিকে এগিয়ে যাই। তখন আগুন দেখে আমাদের ভবনের পানির লাইন থেকে পাইপ লাগিয়ে দ্রুত নেভানোর ব্যবস্থা করি। ফায়ার এক্সটিংগুইশার বের করে সেগুলো ব্যবহার করি। আশপাশের মানুষকেও ডাক দিই। এরপর ফায়ার সার্ভিসের একাধিক টিম আসে। সবার চেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। বাবু মিয়া বলেন, এর আগে কয়েকবার অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষণ নিয়েছি। তবে এবার সেই প্রশিক্ষণ হাতে-কলমে বাস্তবায়নের সুযোগ পেলাম।

আগুনে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়ে লা ভিঞ্চি হোটেলের স্টোর কিপার হাসান বলেন, খুবই ছোট আগুন ছিল। কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আমাদের এখানে জেনারেটর ছাড়া আর কোনো কিছু ছিল না। টিনের চালা ঘরে শুধু জেনারেটরটিই ছিল। জেনারেটর পোড়েনি। শুধু ঘরের উপরের টিন এবং সিলিং পুড়েছে।

এদিকে বেলা পৌনে ১১টার দিকে ধোলাইখালে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বৈদ্যুতিক গোলযোগে লাগা আগুনে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুনে ব্যাংকের কিছু কাগজপত্র পুড়ে গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, ধোলাইখাল হাজী ইসলাম স্টিল মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় মিচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকেই প্রথমে আগুন লাগে। আগুন দেখে স্থানীয়রা ছোটাছুটি করতে থাকে। আবার কেউ জীবনের ঝুঁঁকি নিয়েই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। ব্যাংকটির ওই শাখায় গচ্ছিত আছে এলাকার অসংখ্য ব্যবসায়ীর পুরো জীবনের সঞ্চয়। তাই শঙ্কা আর উৎকণ্ঠা দেখা যায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে। স্থানীয়রা জানান, ভবন ঘেঁষা বিদ্যুতের ট্রান্সমিটার থেকেই আগুনের সূত্রপাত। মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে যায় ব্যাংকের ভেতর। ভবনটির ওপরের চার তলায় আবাসিক ভবন থাকায় আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা দেখা যায় বাসিন্দাদের মাঝে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিটের প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় প্রায় ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ডিউটি অফিসার লিমা খানম বলেন, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে আগুনে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তদন্তে জানা যাবে।

এদিকে ব্যাংকের ভল্টে টাকা থাকায় কর্মকর্তাদের মধ্যেও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। ভল্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের সহায়তা চায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। পরে পুলিশ ব্যাংকের ভবনটি ঘিরে রাখে। ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, আগুনে ব্যাংকের কিছু নথিপত্র পুড়ে গেছে। এছাড়া আসবাবপত্র, পর্দাসহ কিছু জিনিসপত্র পুড়েছে। এছাড়া বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আগুনের সময় উৎসুক জনতার ভিড় হয়। এই সুযোগে ভল্ট অরক্ষিত হতে পারে, তাই পুলিশি সহায়তা চাওয়া হলে পুলিশ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সুরঞ্জনা সাহা বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পরপরই ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। ব্যাংকের ভল্টে টাকা রয়েছে বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায়। টাকার নিরাপত্তাসহ ব্যাংকের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পুলিশ সদস্যরা সেখানে পাহারায় ছিলেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App