×

সারাদেশ

নির্বাচনের ডিউটি কিনে নিতে হয় আনসার সদস্যদের!

Icon

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নুুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া থেকে : কুষ্টিয়ায় জাতীয় ও উপজেলা নির্বাচনে আনসার (ভিডিপি) সদস্যদের ভোটকেন্দ্রে ডিউটি নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জনপ্রতি ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা দিতে হয়। তাতে গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সদ্য সমাপ্ত জেলার দুটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলা আনসার অ্যাডজুটেন্ট, উপজেলা আনসার, ভিডিপি কর্মকর্তারা প্রায় ৪ কোটি টাকার বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশের পাশাপাশি নিয়মিত আনসার, মহিলা ও পুরুষ ভিডিপি সদস্য ১০ জন করে রাখা হয়। উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তার মাধ্যমে গ্রাম ও ওয়ার্ড পর্যায়ে শিক্ষিত, স্বশিক্ষিত যুবক, যুবতী. মাঝ বয়সি পুরুষ ও নারী সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ভিডিপি সদস্য হিসেবে অন্তভুর্ক্ত করা হয়। এদের মধ্য থেকে দেশের যে কোনো পরিস্থিতিতে বন্যা, ঝড়, নির্বাচনের সময়ে পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ভিডিপি সদস্যরা তাদের সহযোগিতা করবেন। কুষ্টিয়া জেলায় ৫টি পৌরসভা ৬টি উপজেলার ৬৬টি ইউনিয়নে ৬১৪টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। গেল ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গত ৮ মে থেকে শুরু হয়েছে উপজেলা নির্বাচন। এ দুই নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা ডিউটি নিতে জনপ্রতি ১৫শ থেকে ২ হাজার ৫শ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম জমা দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দুই দফায় সমাপ্ত জাতীয় ও উপজেলা নির্বাচনে আনসার ভিডিপি কর্মকর্তারা শুধু ডিউটি দিয়েই বাণিজ্য করেছেন প্রায় ৪ কোটি টাকা। যদিও অভিযোগকে অস্বীকার করেছেন জেলা আনসার কর্মকর্তারা। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চত্বরে নির্বাচনীসামগ্রী সংগ্রহ ও কর্মস্থল বুঝে নিতে আসা আনসার সদস্য আব্দুল বারেকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, পিসি-এপিসির মাধ্যমে নির্ধারিত টাকা অগ্রিম দিয়ে নাম তালিকাভুক্তি কনফার্ম করতে হয়েছে। এসব টাকা আনসার অফিসের ভাতাভোগী ৫ জন আনসার সদস্য জেসমিন, ঈশিতা, আবুল কালাম, সাইদুর রহমান ও মাসুম বিল্লাহ উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের মাধ্যমে বড় কর্মকর্তাদের কাছে চলে যায়। সদর উপজেলার উজানগ্রামের বাসিন্দা আনসার সদস্য রুবিনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, এক-দুই দিন ডিউটি করে যদি কিছু টাকা আসে তাহলে তো সংসারে একটু আয় হয়। সেজন্যই সবাই আসে। কত টাকা দেবে এখনো বলেনি। আগেই তো ১৫শ টাকা দিয়ে নাম লেখাতে হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এসব বন্ধ হওয়া দরকার। কাজ করব আমি, কষ্ট করব আমি, সেই টাকার ভাগ অন্য লোককে দিতে হবে কেন। উপজেলা চত্বরে কথা হয় ভাতাভোগী আনসার সদস্য ঈশিতা খাতুনের। তিনি টাকার বিনিময়ে প্রশিক্ষণের তালিকা করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এখানে আমার কিছু নেই। আমাদের মোস্তাফিজুর স্যারের কিছু কাজ আমি করে দিচ্ছি মাত্র। এ সময় তিনি স্বীকার করে বলেন, তিনি যে কাজটি করছেন সেই কাজ মোট ৫ জন ভাতাভোগী সদস্যদের দিয়ে স্যারেরা করান। একই কথা বলেন, অপর আনসার সদস্য জেসমিন আক্তার। টের পেয়ে অপর তিন সদস্য গা-ঢাকা দেন সদর উপজেলা চত্বরে সমবেত তিন হাজার আনসার সদস্যের ভিড়ে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলে, এসব অভিযোগ বানোয়াট ও মিথ্যা। যারা ডিউটি না পেয়ে বঞ্চিত হয়েছে তারাই এই ধরনের উল্টাপাল্টা অভিযোগ দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী কুষ্টিয়ার জেলা কমান্ড্যান্ট প্রদীপ চন্দ্র দত্ত বলেন, বিধি বহির্ভূত কোনো কাজ করার সুযোগ আনসারে নেই। এ ধরনের শোনা কথার অভিযোগ আমার কানে এসেছে। তবে এ বিষয়ে আমি কারো কাছ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখা হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তি যেই হোন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App