×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

সারাদেশ

এবারো শিক্ষক পেল না মধ্যনগরের দুই স্কুল

Icon

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রাসেল আহমদ, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) থেকে : মধ্যনগর উপজেলার চামরদানী ইউনিয়নের দরাপপুর ও দক্ষিণ আমজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় দুজন শিক্ষক দিয়েই চলছে ওই বিদ্যালয় দুটির শিক্ষা কার্যক্রম। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষাবঞ্চিত হয়ে ঝড়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। স¤প্রতি উপজেলার ১০টি বিদ্যালয়ে ১০জন সহকারী শিক্ষককে পদায়ন করা হলেও এই দুটি বিদ্যালয়ের শূন্য পদে কোনো সহকারী শিক্ষককে পদায়ন করা হয়নি। এ নিয়ে বিদ্যালয় দুটির শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। জানা যায়, মধ্যনগর উপজেলার শিক্ষা বিভাগের কার্যক্রম পাশের ধর্মপাশা উপজেলা থেকে পরিচালিত হয়। ধর্মপাশা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্যনগর উপজেলায় ৮৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে শূন্য রয়েছে প্রধান শিক্ষকের ২৮টি ও সহকারী শিক্ষকের ৪৬টি পদ। মধ্যনগর উপজেলায় নিয়োগ পাওয়া ১০ জন সহকারী শিক্ষক গত ২ মে সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগদান করেন। পরে গত ৬ মে ওই ১০ জন সহকারী শিক্ষককে মধ্যনগর, দাতিয়াপাড়া, জয়পুর, দুলাশিয়া, খালিশাকান্দা, বলরামপুর, দুগনই, দাতিয়াপাড়া লায়েছ ভূঁইয়া, জলুষা শাহাপুর ও মাটিয়ারবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে একজন করে সহকারী শিক্ষককে পদায়ন করা হয়েছে। দরাপপুর বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষক রাখি রানী সরকার বলেন, এই বিদ্যালয়টিতে পাঁচজন শিক্ষকের পদ রয়েছে। প্রধান শিক্ষকসহ চারজন শিক্ষকের পদ পাঁচ বছর ধরে শূন্য। বিদ্যালয়টিতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত চলতি বছরে ছাত্রছাত্রী সংখ্যা ২০ জন, ২০২৩ সালে ছিল ২৭ জন এবং ২০২২ সালে ছিল ৩৫ জন। শিক্ষক সংকটের কারণে দিন দিন ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। প্রায় ছয় মাস ধরে আমি একাই এখানে কর্মরত আছি। এতে আমার ভীষণ সমস্যা হচ্ছে। উপজেলার দক্ষিণ আমজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষক জান্নাতুন ফেরদৌস বলেন, এই বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকসহ চারজন শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এই বিদ্যালয়টিতে ৯২ জন ছাত্রছাত্রীকে গত এক বছর ধরে আমি একা পাঠদান করিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারছি না। দাপ্তরিক কাজে কোথাও গেলে বিদ্যালয়টিতে তালা ঝুলে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছেন। মধ্যনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মানবেন্দ্র দাস বলেন, মধ্যনগর উপজেলায় আমি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছি। তিনি বলেন, এই উপজেলার সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদের তালিকা গত ২৯ এপ্রিল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সহকারী শিক্ষক পদে বিদ্যালয়গুলোতে পদায়ন করা হয়েছে। এতে আমার কোনো হস্তক্ষেপ নেই। সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস বলেন, আমি কোনো অনিয়ম করিনি। এই জেলাতে এক হাজার ১০০ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য। কিন্তু আমরা পদায়ন করতে পেরেছি মাত্র ১৩৮ জনকে। মধ্যনগর উপজেলার দুটি বিদ্যালয়ে একজন করে শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চলে আসা বিদ্যালয়গুলোতে কোনো শিক্ষক দেয়া হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ধর্মপাশা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেই আমরা বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন করেছি। আগামী জুন মাসে শিক্ষক নিয়োগ হবে। এ সময় ছাড়া এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে না।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App