×

সারাদেশ

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে কাজ বন্ধ

সিংগাইরে ছয় বছরেও শেষ হয়নি চান্দহর সেতু নির্মাণ

Icon

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সিংগাইরে ছয় বছরেও শেষ  হয়নি চান্দহর সেতু নির্মাণ
মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে : সিংগাইরে দুই পাড়ের জনদুর্ভোগ কমাতে ও ঢাকার কেরানীগঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতে চান্দহর গ্রামের ধলেশ্বরী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে ছয় বছরেও শেষ হয়নি প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ের ওই সেতুর নির্মাণকাজ। দুই দফা সময় বাড়িয়েও কাজ শেষ করতে না পারায় নতুন ঠিকাদারও নিযুক্ত করে কর্তৃপক্ষ। তাতেও কোনো সুফল পায়নি এলাকাবাসী। তারাও কয়েক মাস কাজ বন্ধ রাখায় সেতু নির্মাণকাজ শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন সেতু পাড়ের বাসিন্দারা। উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চান্দহর গ্রামের ধলেশ্বরী নদীর ওপর ২০১৮ সালে ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৩৪ কোটি ৮৬ লাখ ৩৩ হাজার ৫৩০ টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। ওই বছরের ৩০ জানুয়ারি ৩১৫ মিটার সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। দুদফা সময় বাড়িয়েও কাজ শেষ করতে না পারায় চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি ৩৪ কোটি ৩৩ লাখ এক হাজার ২০ টাকায় নতুন করে জান্নাত কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করে কর্তৃপক্ষ। তাদের কাজের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয় ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। নতুন চুক্তি হওয়ার পর কয়েক মাস কাজ করলেও বর্তমানে কাজ বন্ধ রেখেছেন তারা। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ছয় বছরে এই ৩১৫ মিটার সেতুর দুই প্রান্তের অ্যাবাটমেন্ট ও উইং ওয়ালের কাজ শেষ হয়েছে। অপরদিকে পাঁচটি পিলারের মধ্যে দুটি পিলারের পায়ার ও পায়ার ক্যাপ এবং একটি পিলারের পায়ারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিনেও সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা একটি খেয়া নৌকা। এতে করে বিপাকে পড়েছেন ১০ গ্রামের কয়েক লাখ মানুষ। হাজার হাজার বিঘা জমির উৎপাদিত ফসল ঠিক সময়ে বাজারজাত করতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির মুখে স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। চান্দহর বাজারে প্রবীণ ব্যবসায়ী মোসলেম উদ্দিন। প্রতিদিন তার চারবার পার হতে হয় ওই নদীর ওপর দিয়ে। তিনি দুঃখ করে বলেন, আমাদের মতো কষ্ট এই উপজেলায় কেউ করে কিনা আমার জানা নেই। এখানে কার গাফিলতিতে সেতুটি হচ্ছে না, সেটা আমরা বুঝতে পারছি না। রাতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেয়ার কোনো উপায় থাকে না। এই অর্ধেক কাজ করা সেতুটি গলায় কাঁটা বিধার মতো অবস্থায় আছে। স্থানীয় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান মুন্নি জানান, গরমের সময়ে একটি খেয়া মিস করলে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। তখন এত খারাপ লাগে, যা বলে বোঝানো যাবে না। দ্রুত সেতুটি নির্মাণের দাবি জানান তিনি। চান্দহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বাদল বলেন, এ ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ ও গরু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমরা খুব বিপদে আছি এই সেতুর নির্মাণকাজ নিয়ে। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এখানে সেতুটি নির্মাণ করা হোক। নতুন ঠিকাদারও অনেক দিন ধরে কাজ বন্ধ করে রেখেছে। আমরা বরাবরই ঠিকাদারকে বলেছি, সেতুর কাজ শেষ করার জন্য আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। সেতুর নির্মাণকাজ হয়ে গেলে আমরা অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পন্ন হবো। এদিকে সেতু নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জান্নাত কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের স্কিম বোর্ডে দেয়া মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। সিংগাইর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয়া হয়েছে। যথাসময়ে ব্রিজের কাজ শেষ না করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ কুমার বসু বলেন, চান্দহর সেতুটি নিয়ে ইতোমধ্যে আমি এমপি মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। সেতুর নির্মাণকাজ যেন দ্রুত সম্পন্ন হয় সে জন্য সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় কথা বলব। এলাকাবাসী যেন এই সেতুর সুফল ভোগ করতে পারে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App