×

সারাদেশ

মোকারিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস

টাকা ছাড়া কাজ করেন না তহশিলদার শরিফুল

Icon

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ইসমাইল হোসেন বাবু, ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) থেকে : উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ভূমি অফিসের তহশিলদার শরিফুল ইসলামের ঘুষ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ সেবাগ্রহীতারা। ইচ্ছেমতো সময় নিয়েও অতিরিক্ত টাকা ছাড়া তিনি কোনো কাজই করেন না বলে অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা। এই অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজই হয় না। সেবা নিতে গেলে সেবাপ্রার্থীদের প্রতিটি পদে পদে কর্তাবাবুকে দিতে হচ্ছে ঘুষ। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সেবাপ্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে সেবা থেকে। অভিযোগে জানা যায়, তহশিলদার শরিফুল ইসলাম মোকারিমপুর ভূমি অফিসে যোগদানের পর থেকেই অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না। এখানে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, অনেক ক্ষেত্রে ঘুষ দেয়ার পরও কাজ হয় না। সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করতে তাদের নথিপত্র পর্যন্ত গায়েব করে দেয়া হচ্ছে। নামজারি, খারিজ, খাজনা প্রদানসহ অন্যান্য কাজে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ঘুষ-দুর্নীতির মহোৎসব প্রকাশ্যেই চলছে এই ভূমি অফিসে। ভুক্তভোগীরা জানান, সব কাগজপত্র সঠিক থাকলেও ১১৭০ টাকার খারিজ করতে সেবাপ্রত্যাশীকে পরিশোধ করতে হয় সর্বনিম্ন ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা। এই অফিসে তহশিলদার শরিফুল ইসলামের অনিয়মই নিয়ম। সরকার কর্তৃক ভূমি খারিজের ফি ১১৭০ টাকা নির্ধারণ করলেও খাজনার দাখিলার জন্য (ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ) সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে অনেক বেশি টাকা আদায় করা হয়। কিন্তু রসিদ দেয়া হয় সরকারি হিসাবেই। এভাবে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এই কর্মকর্তা। দৌরাত্ম্য বেড়েছে দালাল সিন্ডিকেটেরও। দেখা গেছে, ভূমি অফিসে নামজারি, জমাভাগ, খাজনা আদায়-সবকিছু অনলাইনভিত্তিক হলেও জমির পর্চা (খসড়া) তোলাসহ সব কাজে সরকারি নিয়মকে তোয়াক্কা না করে অনৈতিকভাবে বাড়তি টাকা নেয়া হচ্ছে ভূমি অফিসে। নিরীহ ভুক্তভোগীরা বলছেন, এই ভূমি কর্মকর্তার দুর্নীতি রোধে দুদকের হস্তক্ষেপ জরুরি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভূমি কর্মকর্তা বলেন, তহশিলদার শরিফুল ইসলামের বাড়ি দৌলতপুর উপজেলায়। দৌলতপুর ছাড়াও ভেড়ামারার বিলশুকা ও কুষ্টিয়ার মজমপুরে তার অনেকগুলো বাড়ি রয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ম্যানেজ করে চলেন, তাই অভিযোগ উঠলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। গত বৃহস্পতিবার সরজমিন দেখা গেছে, একাধিকবার সেবা নিতে আসা অধিকাংশ ব্যক্তিকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন তহশিলদার শরিফুল ইসলাম। তবে সাংবাদিক দেখে কয়েকজনের কাজ করে দিলেও দৈনিক কালবেলা ও দৈনিক সমকাল পত্রিকার উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি ছবি তুলে রাখেন। এ সময় সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে তহশিলদার শরিফুল ইসলাম বলেন, আমি লিখতে পারি, লিখাতেও পারি। স্থানীয়রা জানান, শরিফুলের টার্গেট অসহায় ও দরিদ্র কৃষক। তার কাছে কেউ কাজের জন্য গেলে নানা অজুহাতে দিনের পর দিন ঘুরিয়ে বাড়িতে লোক দিয়ে কাজ করাবে বলে অতিরিক্ত টাকা নেয়, যা নেয় তার অর্ধেকেরও কম রশিদ করে। ৩০০ টাকার কমে একটি পর্চাও মেলে না। তহশিলদার শরিফুল ইসলাম মোকারিমপুর ভূমি অফিসে টানা ৬ বছর ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছেন। এটা যেন দেখার কেউ নেই। কিছু বললেই বলে উপরে লোক আছে, কিচ্ছু হবে না আমার। ক্ষেমিড়দিয়ার থেকে আসা মালেকা খাতুন বলেন, গত তিন দিন ধরে এখানে ঘুরছি। এখনো কোনো কাজ হয়নি। আরেক ভুক্তভোগী সামিরুন বেগম বলেন, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কাজের জন্য টাকা দিয়েছি। এখনো আমার কোনো কাজ হয়নি। বাহাদুরপুরের কৃষক জমিন মণ্ডল বলেন, আমি তহশিলদার শরিফুলকে জমি খারিজের জন্য ১০ হাজার ৫০০ টাকা দিয়েছি। আর তিনি দাখিলা কেটেছে ৭ হাজার ৩০০ টাকার। বাকি টাকা তার পকেটে ভরেছে। বিভিন্ন জায়গায় বাড়ি থাকার কথা স্বীকার করলেও শরিফুল ইসলাম বলেন, আমি কোনো অনিয়ম দুর্নীতি করি না। একটি ছেলে দিয়ে বাড়িতে কাজ করাই। তাকেও আমি বেতন দেই। অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে কিছুই জানি না। ভূমি অফিস দালাল, ঘুষ, দুর্নীতিমুক্ত রাখতে আমি অঙ্গীকারবদ্ধ। এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনোয়ার হোসাইন বলেন, শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App