×

সারাদেশ

রূপগঞ্জে হাবিবকে বিজয়ী করতে একাট্টা আ.লীগ

Icon

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি : ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে আগামী ২১ মে অনুষ্ঠিত হবে রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। নির্বাচনকে ঘিরে পুরো উপজেলায় বর্তমানে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এবার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন দুই প্রার্থী। এরা হলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব (দোয়াত কলম প্রতীক) এবং রূপগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু হোসেন ভূঁইয়া রানু (আনারস প্রতীক)। এছাড়া ব্যাপক সমালোচিত অনলাইন ক্যাসিনো ডান খ্যাত সেলিম প্রধান নির্বাচনের মাঠে নেই। অন্যদিকে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মিজানুর রহমান মিজান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফেরদৌসী আক্তার বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত হয়ে যাওয়ায় সবার নজর কে হচ্ছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান? এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। এদিকে চেয়ারম্যান পদে দুইজন প্রার্থী থাকলেও হাবিবুর রহমান হাবিবকে বিজয়ী করতে একাট্টা উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। শুধু আ.লীগের নেতাকর্মীরাই নয়, চেয়ারম্যান পদে হাবিবুর রহমান হাবিবেই আস্থা রাখছেন স্থানীয় ভোটাররা। তাদের মতে, শেষমেষ হাবিবের গলায়ই জয়ের মালা পরবে। গত কয়েকদিন উপজেলার রূপসী, গর্ন্ধবপুর, কাহিনা, কাজীপাড়া, বরপা, চনপাড়া, পূর্বগ্রাম, মুড়াপাড়া, ইছাখালী, ইছাপুরাসহ বেশকয়েকটি এলাকায় ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানা যায়। প্রতিদিনই উপজেলার প্রতিটি এলাকায় হাবিবের পক্ষে প্রচারণা ও গণসংযোগ চালানো হচ্ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে হাবিবের দোয়াত কলম প্রতীকের ব্যানার ফেস্টুন ও পোস্টার ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলাজুড়ে। তবে এক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে আবু হোসেন ভূঁইয়া রানু। তার ব্যানার পোস্টার তেমন একটা চোখে পড়ছে না। সরজমিন ঘুরে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার খুব কাছে হওয়ায় রূপগঞ্জ উপজেলাকে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে এখানে চোখ থাকে সবার। এবার রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ৫ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও দুইজন প্রত্যাহার করেন। ভোটের মাঠে হাবিবুর রহমান হাবিব তার প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী আবু হোসেন ভূঁইয়া রানু চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, আনারস প্রতীক নির্বাচনে অংশ নেয়া আবু হোসেন ভূঁইয়া রানু তিনবার রূপগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যক্তি রানুর জনপ্রিয়তা রয়েছে রূপগঞ্জে। এ কারণে তিনিও প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীকে ছাড় দিতে নারাজ। তিনিও তার সমর্থক দিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন। চনপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্বাস মিয়া বলেন, হাবিব ভাই সবসময় আমাগো খোঁজখবর নেয়। তিনি আমাদের এমপি গাজী সাহেবের অত্যন্ত বিশ্বস্থ। তাকে কখনো কোনো মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, কিশোরগ্যাংকের আশ্রয় প্রশ্রয় দিতে দেখিনি। এছাড়া তিনি সবসময় তৃণমূল নেতাকর্মীদের যে কোনো বিপদের পাশে থাকার চেষ্টা করেন। রূপগঞ্জ ইউনিয়নের মনির হোসেন বলেন, রানু রূপগঞ্জের ইউনিয়নের তিনবারের চেয়ারম্যান। তার কোনো বদনাম নেই। বিচার-সালিশে ছিলেন সেরা। মানুষ ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে তাকেই ভোট দিবে। দোয়াত কলমের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ২০০৮ সালে রূপগঞ্জে টিনের ঘর, বেড়া ঘর ছাড়া কিছুই ছিল না। বিদ্যুৎ ও পানি না থাকায় এলাকাটি শিল্প-কারখানা তৈরির উপযোগী ছিল না। গাজী সাহেব এ এলাকার এমপি হওয়ার পর পাল্টে যেতে থাকে দৃশ্যপট। প্রথমে যোগাযোগব্যবস্থা ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেন। ফলে এখানে অনেক শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে। এতে এলাকার তরুণদের পাশাপাশি অন্য অঞ্চলের অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। আমি গোলাম দস্তগীর গাজীর নেতৃত্বে উপজেলা পরিষদকে আরো সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে চাই। আমি নির্বাচিত হলে মাদক ও কিশোরগ্যাং রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আনারস প্রতীক প্রার্থী আবু হোসেন ভূঁইয়ার রানু বলেন, আমি পরপর তিনবার রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। আমি চেয়ারম্যান থাকাকালীন আমার ইউনিয়নবাসীর জন্য কাজ করে গেছি। আমি যদি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই রূপগঞ্জবাসীর জন্য কিছু করতে চাই। রূপগঞ্জে এখনো অনেক রাস্তাঘাটের বেহাল, সেগুলো সংস্কার ও নির্মাণ করতে চাই। এছাড়া মাদক ও সন্ত্রাসরোধে কাজ করতে চাই।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App