×

সারাদেশ

চাকরির বয়সসীমা বাড়ানোর আন্দোলন

৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রেপ্তার ১৪ জনের জামিন

Icon

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার দাবিতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে। এতে ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গত ১১ মে পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করলেও প্রকাশ হয়েছে গতকাল রবিবার। এদিকে আন্দোলনে সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার ১৪ শিক্ষার্থীর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। শাহবাগ থানার অফিসার-ইন চার্জ মো. মোস্তাজিরুর রহমান জানান, অবৈধভাবে জনতাবদ্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সরকারি কাজে বাধা ও আত্মহত্যার হুমকিসহ ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪০০/৫০০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। গত ১১ মে রাতে মামলা দায়ের করেন এসআই এস এম এলিস মাহমুদ। মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, সরকারি চাকরিতে আবেদনের বসয়সীমা ৩৫ চাই-এর কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে গত শনিবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মোড়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে সভা ও মিছিল, মিটিং করে আসামিরা। এ দিন তারা টিএসসি থেকে শাহবাগ মোড় ঘেরাও করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন, জীবননাশকারী পদার্থ-দাহ্য জ্বালানিসহ আত্মহত্যার স্লোগান ও বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে মিছিল নিয়ে পাবলিক লাইব্রেরির সামনে পাকা রাস্তার উপর আসে। পুলিশ তাদের নিবৃত করতে সড়কে লোহার ব্যারিকেড দেয়। আন্দোলনকারীদের এ সময় রাস্তা ছেড়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তারা পুলিশের কথা না শুনে ব্যারিকেড ভেঙে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ধাক্কা দিয়ে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান করে এবং রাস্তার উপর বসে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বারডেম হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা আটকা পড়ে আর্তনাদ করতে থাকে। এজাহারে আরো বলা হয়, একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা একটি বাস ভাঙচুর করে এবং তাদের কাছে থাকা জীবননাশকারী দাহ্য পদার্থ দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে উসকানিমূলক বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। হ্যান্ড মাইকে ও মৌখিকভাবে রাস্তা ছেড়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করলে তারা রাস্তা না ছেড়ে ডিউটিরত পুলিশের সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। মামলায় আসামিরা হলেন- সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন রশিদ রতন, মো. রাসেল, হুমায়ন কবির, মানিক দাস, আল আমিন, শেখ ফরিদ, আজম মোহাম্মদ, সাদ্দাম হোসেন, আব্দুল হাকিম, রিমা আক্তার, শারমিন আক্তার দৃষ্টি, ফাতেমা আক্তার সানজিদা, শরীফুল হাসান শুভ ও খোকনসহ অজ্ঞাত ৪০০/৫০০ জন। এদিকে আন্দোলনে সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলায় নামধারী গ্রেপ্তার ওই ১৪ শিক্ষার্থীকে গতকাল রবিবার দুপুরে ঢাকার মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক আল আমিন তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অপরদিকে, আসামি পক্ষে আইনজীবীরা জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম মাহবুব আহমেদের আদালত প্রত্যেকের দুই হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতে শাহবাগ থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক নিজাম উদ্দিন ফকির এ তথ্য জানান। উল্লেখ্য, গত শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ‘চাকরিতে আবেদনের বয়স ৩৫ প্রত্যাশী শিক্ষার্থী সমন্বয় পরিষদ’ ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে পদযাত্রা করে গণভবন অভিমুখে রওনা হন কয়েকশ আন্দোলনকারী। তারা শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এক পর্যায়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন তারা। পরে পুলিশ আন্দোলনকারীদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে আহত কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ সময় সেখান থেকে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App