×

সারাদেশ

চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

চাকরি দেয়ার নামে ভারতে নিয়ে কিডনি বেচে দেয়া হতো

Icon

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : চাকরি দেয়ার কথা বলে গরিব মানুষকে তারা ভারতে নিয়ে যেত। পরে পাসপোর্ট আটকে করা হতো জিম্মি। একপর্যায়ে টাকার লোভসহ বিভিন্ন কৌশলে চাকরিপ্রত্যাশীদের কিডনি বিক্রিতে প্রলুব্ধ করা হয়। পাসপোর্ট ফিরে পাওয়া ও টাকার প্রলোভনে পড়ে অনেকে কিডনি বিক্রির ফাঁদে পা দেয়। অর্ধকোটি টাকায় কিডনি বিক্রি হলেও ভুক্তভোগীকে দেয়া হয় মাত্র ৩ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত দেশ থেকে ১০ ব্যক্তিকে ভারতে নিয়ে তাদের কিডনি হাতিয়ে নিয়েছে এ চক্রটি। কিডনি বিক্রি চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) ড. খ. মহিদ উদ্দিন। গতকাল রবিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স সেন্টারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় এ চক্রের বিরুদ্ধে রবিন নামের একজন ভুক্তভোগী মামলা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ধানমন্ডি থানাপুলিশ চক্রটির তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। গত শনিবার ও গতকাল রবিবার ধানমন্ডি এবং বাগেরহাটে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মো. রাজু হাওলাদার (৩২), শাহেদ উদ্দীন (২২) ও মো. আতাহার হোসেন বাপ্পী (২৮), মো. মাছুম (২৭), শাহীন (৩৫) ও সাগর ওরফে মোস্তফাসহ (৩৭) এ চক্রের আরো অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জন সদস্য পলাতক রয়েছে। ডিএমপি অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, গত বছরের এপ্রিলে মিরপুরে শাহ আলী মার্কেটের পেছনে চায়ের দোকানে রবিন নামে এক ভুক্তভোগী তার বন্ধুর সঙ্গে চা পানের সময় সংসারের অভাব-অনটন নিয়ে কথাবার্তা বলছিলেন। এ সময় তাদের পাশে বসে চা পান করছিলেন কিডনি বিক্রি চক্রের পলাতক সদস্য মাছুমও। তাদের কথাবার্তা শুনে মাছুম নিজ থেকেই ভুক্তভোগীকে বলেন, ভারতে তার ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান আছে ও ওই প্রতিষ্ঠানে তিনি রবিনকে চাকরি দিতে পারবেন। একপর্যায়ে মাছুমকে মোবাইল নম্বর দেন রবিন। এরপর প্রায়ই তাদের যোগাযোগ হতো ফোনে। একপর্যায়ে ভারতে চাকরি করার বিষয়ে রাজি হন রবিন। তিনি বলেন, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভুক্তভোগীকে নিয়ে যান মাছুম। সেখানে তার সঙ্গে গ্রেপ্তার আসামি মো. রাজু হাওলাদারের পরিচয় হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর ভারতের ভিসার জন্য ভুক্তভোগীর পাসপোর্ট নিয়ে নেন তারা। ভিসা পাওয়ার পর ভুক্তভোগীকে মাছুম ও মো. রাজু হাওলাদার গ্রেপ্তার আসামি শাহেদ উদ্দিন ও মো. আতাহার হোসেন বাপ্পীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়। এই পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, আর্থিক অনটনের সুযোগ নিয়ে একটি কিডনি দেয়ার জন্য ভুক্তভোগীকে প্ররোচিত করাসহ একপর্যায়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলা হয়, পাসপোর্ট ছাড়া সে দেশেও ফিরে যেতে পারবে না। পরে ভুক্তভোগীকে নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে কিডনি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। এরপর গত ৪ মার্চ ভারতের গুজরাটের এক হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি কিডনি নেয়া হয়। বিভিন্ন মাধ্যমে ভুক্তভোগী জানতে পারেন, তার কিডনি প্রায় ৫০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হলেও তার স্ত্রীকে মাত্র ৩ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। যেখানে ৬ লাখ টাকা দেয়ার কথা ছিল। পরে ভুক্তভোগী দেশে ফিরে ধানমন্ডি থানায় মামলা করলে পুলিশ এই চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App