×

সারাদেশ

গ্রেপ্তার সাত

অন্তর্বাসে লুকানো ডিভাইসের সাহায্যে চাকরির পরীক্ষা

Icon

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে উত্তরপত্র সমাধান করে ডিভাইসের মাধ্যমে চাকরির পরীক্ষার্থীদের জানিয়ে দেয়া হতো। প্রশ্নপত্রের উত্তর সমাধানের জন্য বাইরে থেকে কাজ করত অপর একটি চক্র। ডিজিটাল ডিভাইসটি মেয়ে পরীক্ষার্থীদের অন্তর্বাসে, ছেলেদের গেঞ্জির মধ্যে লুকানো থাকত। আর ডিভাইসের সঙ্গে সংযুক্ত ক্ষুদ্রাকৃতির বল সদৃশ্য মাইক্রোফোনটি থাকতো পরীক্ষার্থীর কানের মধ্যে। অত্যাধুনিক ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে বিভিন্ন চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের উত্তর সরবরাহ করা সংঘবদ্ধ চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে এসব তথ্য জানায় ঢাকা মেট্রোপিলটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. জুয়েল খান (৪০), মো. রাসেল (৩০), মো. মাহমুদুল হাসান শাকিল (৩৯), মো. আব্দুর রহমান (৩৮), মো. আরিফুল ইসলাম (৩৫), মো. আজহারুল ইসলাম (২৯) এবং মো. মাসুম হাওলাদার (২৫)। রাজধানীর শাহজাহানপুর, শেরেবাংলা নগর ও ঢাকার ধামরাইয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবির অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ও ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। গতকাল রবিবার রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে প্রশ্ন ফাঁস ও উত্তর সরবরাহকারী চক্রের ৭ জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও গোয়েন্দা প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, বিভিন্ন চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস করে অত্যাধুনিক ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে উত্তর সাপ্লাই করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। প্রথমত তারা পরীক্ষা শুরুর ১ থেকে ২ মিনিট আগে কোনো না কোনো কেন্দ্র ম্যানেজ করে প্রশ্নের ফটোকপি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বাইরে পাঠিয়ে দিত। বাইরে তাদের একটা টিম ৫ মিনিটের মধ্যে প্রশ্ন উত্তর সমাধান করে ফেলে। এরপর তারা ডিভাইসের মাধ্যমে উত্তরগুলো বলতে থাকে। এ সময় পরীক্ষার্থীর কাছে কানের মধ্যে একটি ক্ষুদ্র ডিভাইস থাকে। আর পকেটে একটা রাউটার থাকে। অথবা মেয়েদের অন্তর্বাসে বা ছেলেদের গেঞ্জির মধ্যে লুকানো ডিভাইসের সঙ্গে কানেক্টেড একটা সিম রাখে। এরপর বাইরে থেকে যখনই টেলিফোন করে সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষার্থী শুনতে পাবে ও ১০ মিনিটের মধ্যে উত্তরগুলো সমাধান করে ফেলবে। হারুন অর রশিদ বলেন, দিন দিন এভাবে অপরাধের ধরন পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। এক সময় আমরা নকল প্রতিরোধের জন্য কাজ করেছি। সে সময় তারা পরীক্ষার হলে বই নিয়ে যেত। এখন যত দিন যাচ্ছে অপরাধীরা তাদের অপরাধের ধরন পরিবর্তন করছে। আমরাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ধরার জন্য বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করছি। সর্বশেষ আমরা যেটা পেলাম সেটা হচ্ছে তারা ক্ষুদ্রাকৃতির বল আকৃতির মাইক্রোফোন ব্যবহার করছে ও ডিভাইসটা এমন জায়গায় রাখছে যেখানে ধরার বা চেক করার কোনো স্কোপ নেই। ডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, চক্রের সদস্যরা প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ (তৃতীয় ধাপ), বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকেট কালেক্টর (গ্রেড ২) ও বুকিং অ্যাসিস্ট্যান্ট (গ্রেড ২), পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের অফিস সহায়ক, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, টাঙ্গাইলের অফিস সহায়ক, মৎস্য বিভাগের অফিস সহায়ক, গণপূর্তের হিসাব সহকারী ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর ও বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সহকারী ব্যবস্থাপকসহ আরো বিভিন্ন চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় এসব পন্থায় অপরাধ কর্ম সংঘটিত করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রেপ্তাররা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ পরীক্ষায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দেয়ার জন্য প্রার্থীদের সঙ্গে চুক্তি করে। চাকরিভেদে এমসিকিউ লিখিত পরীক্ষায় টিকিয়ে দেয়ার জন্য ৩-৫ লাখ টাকা ও লিখিত ও ভাইভাসহ ৮-১০ লাখ টাকা পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়ে থাকে। হারুন অর রশিদ বলেন, এ চক্রের হোতা জুয়েল খান বিশেষভাবে প্রস্তুত করা জিপিএস সুবিধা সংবলিত ইলেকট্রনিক স্পাই ডিভাইস সংগ্রহ ও সরবরাহ, প্রশ্নপত্র সংগ্রহ, সমাধান টিমের সদস্য সংগ্রহ ও চক্রের অন্যদের সঙ্গে সমন্বয় করত। মো. রাসেল ও মো. মাহমুদুল হাসান শাকিল এবং মো. আব্দুর রহমান বিভিন্ন পরীক্ষার্থী সংগ্রহ এবং পরীক্ষার্থীদের কাছে ইলেকট্রনিক স্পাই ডিভাইস পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি তা কীভাবে ব্যবহার করতে হবে তার বিস্তারিত ব্যবহারবিধি শিখিয়ে দেয়। মো. আরিফুল ইসলাম কেন্দ্রের অভ্যন্তর থেকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর সুবিধা মতো সময়ে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করা চক্রের অন্য সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেয়। এরপর তাদের সমাধান টিম অতি দ্রুত সেই প্রশ্নপত্র সমাধান করে কেন্দ্রের অভ্যন্তরে তাদের নির্ধারিত পরীক্ষার্থীদের কাছে ডিজিটাল ইলেকট্রনিক স্পাই ডিভাইসের মাধ্যমে পাঠায়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App