×

সারাদেশ

চকরিয়া-পেকুয়া

চিহ্নিত অপরাধীরা প্রকাশ্যে আতঙ্কে ভোটাররা

Icon

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মিজবাউল হক, চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি : কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার দাগী আসামিদের জনসম্মুকে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ ভোটাররা। এসব অপরাধী সশস্ত্র অবস্থায় ঘুরাফেরা করছেন প্রার্থীদের সঙ্গে। ইতোমধ্যে প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে নির্বাচনী এলাকায়। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার বেড়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেছেন সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীরা। এ অবস্থায় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় ভোটাররা জানান, আগামী ২১ মে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ দুই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী গণসংযোগ, সভা ও সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রার্থীরা বিজয় নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ ও কৌশলও নিয়েছেন। কয়েকদিন ধরে শক্তি প্রদর্শন করছেন চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা। এক উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী নিয়ে চলাফেরা করায় ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তারা ভোটের মাঠে ভয়ভীতিও প্রদর্শন করছেন। গত ২৯ এপ্রিল বিকাল ২টা দৈনিক মানবজমিনের চকরিয়া প্রতিনিধি মোহাম্মদ উল্লাহকে মারধর ও মোবাইল কেড়ে নিয়ে আলোচনায় এসেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আলম। তিনি ওই সাংবাদিককে নিজের হাতে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেছেন। একইদিন রাত ১১টার দিকে চকরিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহেদ চৌধুরীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন চেয়ারম্যান প্রার্থী জাফর আলম। তার বাহিনীর হাতে প্রতিনিয়ত হামলার শিকার হচ্ছেন প্রতিদ্ব›দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদীর সমর্থকরা। জাফর আলম সশস্ত্র ক্যাডার নিয়ে গণসংযোগ ও সভা সমাবেশ চালিয়েছেন। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তেমন তৎপরতাও দেখা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় সাংবাদিক মোহাম্মদ উল্লাহ বাদী হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী জাফর আলমকে প্রধান আসামি করে চকরিয়া থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন। চকরিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ভোটের মাঠে অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য পুলিশের কয়েকটি টিম মাঠে কাজ করছেন। সাংবাদিক মোহাম্মদ উল্লাহর ওপর হামলার ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা দাগি সন্ত্রাসীরা পেকুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ফিরতে শুরু করেছে। তাদের মধ্যে কেউ পুলিশের খাতায় চিহ্নিত তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। কয়েক দিন আগে মগনামা ইউনিয়নে মহড়া দিয়েছে ডজন খানেক মামলার আসামি আশফাকুল হক লিটন। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, পেকুয়ায় যে কোনো নির্বাচন এলে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও দাগি অপরাধীরা তৎপর হয়ে উঠে। বিভিন্ন প্রভাবশালী প্রার্থীর পক্ষে ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে দাগি অপরাধীরা। এরই মধ্যে সম্প্রতি পুলিশের তালিকাভুক্ত দাগি অপরাধী আশফাকুল হক লিটন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা তৎপর হয়ে উঠেছে। লিটনের বিরুদ্ধে পেকুয়া থানাসহ বিভিন্ন আদালতে প্রায় ডজনখানেক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তার হেফাজতে অবৈধ অস্ত্র রয়েছে বলেও এলাকাবাসী জানিয়েছেন। এমনকি মহেশখালী ও নাইক্ষংছড়ি উপজেলার চিহ্নিত অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে লিটনের রয়েছে দারুণ সখ্যতা। জানা যায়, ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত পেকুয়ার টইটং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তিনদিন আগে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শহীদুল্লাহকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে নির্বাচনের পরদিন পর্যন্ত আটকে রেখেছিল তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী আশফাকুল হক লিটনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী। প্রতিবারই কোনো না কেনো নির্বাচন এলে প্রার্থীরা অপহরণ আতঙ্কে থাকেন। পেকুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী নাছির উদ্দিন বাদশা অভিযোগ করে বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেকে দাগি অপরাধীদের তৎপরতা লক্ষ্য করছি। এসব অপরাধী প্রভাবশালী প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে কাজ করছে। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি। পেকুয়া থানার ওসি মো. ইলিয়াছ বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে এলাকায় সন্ত্রাসীরা যেন আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে না পারে সেজন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে। প্রতি রাতেই বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। চকরিয়া-পেকুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রকীব উর-রাজা বলেন, পেকুয়া নির্বাচন সামনে রেখে দাগি অপরাধী ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App