×

সারাদেশ

ভরণপোষণ দেয় না চিকিৎসক ছেলে

গুরুদাসপুরে ইউএনওর কাছে মায়ের অভিযোগ

Icon

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 গুরুদাসপুরে ইউএনওর  কাছে মায়ের অভিযোগ
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি : গুরুদাসপুরে শেষ সম্বল ভিটেমাটি লিখে নেয়ার পর ভরণপোষণ না দেয়ার অভিযোগ এনে চিকিৎসক ছেলের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন মা মোছা. মনিরা বেগম। অভিযুক্ত ছেলে হলেন গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. সুজাউদ্দৌলা। গত সোমবার সকালে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নারী সহায়তাকেন্দ্রে ওই অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী মা। অভিযোগ সূত্র ও মা মনিরা বেগম জানান, উপজেলা পৌর সদরের আনন্দ নগর মহল্লার মো. খাইরুল ইসলামের স্ত্রী তিনি। তাদের ছেলে ডা. মো. সুজাউদ্দৌলাকে লেখাপড়া করানোর জন্য স্বামী-স্ত্রী দুইজন কঠোর পরিশ্রম করেছেন। ছেলেকে ডাক্তারি পড়াতে গিয়ে নিজের সব জায়গা-জমি বিক্রি করে দিয়েছিলেন। তার স্বামী অসুস্থ শরীর নিয়েও অটোভ্যান চালিয়ে সংসার চালিয়েছেন এবং ছেলের লেখাপড়ার খরচও দিয়েছেন। ছেলে এখন বড় ডাক্তার। অনেক টাকা উপার্জন করে। সর্বশেষ সম্বল বসতভিটাও লিখে নেয় তাদের স্বামী-স্ত্রীর কাছ থেকে। জমি-জমা ভিটেমাটি শেষ হলেও ভেবেছিলেন ছেলেকে তো প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ছেলেই তাদের ভরণপোষণ দিবে। তবে ভাগ্যের নির্মমতায় ছেলের কাছে ভরণপোষণ চাইতে গেলে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে, এমনকি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনও চালায়। তাছাড়া বাড়ি থেকে বের করে দেয়ারও হুমকি দেয়। বাধ্য হয়ে শেষ সম্বল বসতভিটা ও ভরণপোষণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছেন তারা। বাবা মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, তিনি একজন অসুুস্থ মানুষ। অসুস্থ শরীর নিয়েও ভ্যানগাড়ি চালিয়ে কোনো রকম জীবিকা নির্বাহ করছেন। প্রতিদিন ওষুধ কিনতে হয়। এখন স্ত্রী ও সংসার নিয়ে বিপাকেই পড়েছেন তিনি। যে ছেলের জন্য এত কিছু করলাম, সেই ছেলেই এখন ভরণপোষণ দিচ্ছে না। এখন মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। বাবা-মাকে ভরণপোষণ না দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. সুজাউদ্দৌলা মুঠোফনে বলেন, পিতা-মাতা হওয়ার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছেন তারা। তার পিতা খাইরুল ইসলাম স্বেচ্ছায় তাকে জমি লিখে দিয়েছিলেন। এছাড়া জমিজমা বিক্রি করে এবং কঠোর পরিশ্রম করে তাকে পড়াশোনা করিয়েছেন তার বাবা-মা এমন ঘটনাও সত্য নয়। উপরন্ত বাবা-মাকে ভরণপোষণ দিতে চাইলেও তারা তার সঙ্গে থাকতে চান না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, এটা পারিবারিক বিষয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আশা করি সমাধান হয়ে যাবে। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা আক্তার জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুজাহিদুল ইসলামের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আলোচনা করে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App