×

সারাদেশ

সিরাজদিখানে নিষিদ্ধ জালে অবাধে মাছ শিকার

Icon

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি : সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিরাজদিখানে অবাধে পোনা মাছ শিকার হচ্ছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় এক শ্রেণির লোভী জেলে নিষিদ্ধ বাদাই, কারেন্ট জাল ও বানা-সোতির বাঁধ দিয়ে প্রকাশ্যে মাছ শিকার করছেন। আবার কেউ কেউ শখের বসে কারেন্ট জালে মাছ ধরে বাহবা নিচ্ছেন। এতে ওই এলাকা মাছশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, নিষিদ্ধ জালে মাছের সঙ্গে কাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক ও জলজ কীটপতঙ্গও নিধন হচ্ছে। এতে বিলের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার শেখরনগর, বরাম, ফৈনপুর, ভূইরা, ইছামতি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে জেলেরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় মাছ নিধন করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন। কিন্তু সরকারিভাবে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরা নিষেধ থাকলেও যেন দেখার কেউ নেই। এ ছাড়া উপজেলার শেখরনগর ইউনিয়নের বরাম, ফৈনপুর এলাকায় সোতিজালের ঘের দিয়ে নৌকা চলাচল ও পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছেন স্থানীয় ইউপি সদস্যের লোকজন। বচাজারের পাশেই আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁনার বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য। এ ছাড়া উপজেলার জামতলী-বামিহাল সড়কের সুকানগাড়ি এলাকায় রানীভবানী খালে পরপর পাঁচটি সোতির বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত ও নির্বিচারে মা-মাছ ও জলজ কীটপতঙ্গ নিধন করছেন স্থানীয় আল আমীন, মো. মনির, মো. হোসেনসহ কতিপয় ব্যক্তি। শেখরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আয়নাল বলেন, আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি। পেট চালাতে গেলে একটু-আটটু তো মাছ ধরতেই হয়। তবে এভাবে বাঁনার বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করা ঠিক নয় বলেও স্বীকার করেন তিনি। স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, ফৈনপুর খালে যারা বাঁধ দিয়ে রেখেছেন তারা কেবল পাড়া-প্রতিবেশী হিসেবে আত্মীয়। আর তিনি এই অবৈধ জিনিসকে কখনোই সমর্থন করেন না। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাফরোজা সুলতানা বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বেশ কিছু নিষিদ্ধ চায়না জাল ও বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। ফৈনপুর, বরামের কোনো অভিযোগ পাইনি। চিত্রকোট এলাকার বাঁধগুলো অপসারণ করা হলেও সেখানে আবার গড়ে বাঁধ দেয়া হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, আমরা কোনো খবর পাইনি, তবে খবর পেলে অভিযান চালানো হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App