×

সারাদেশ

নির্বাচনের আমেজ নেই মুন্সীগঞ্জ সদরে

গজারিয়ার ভোটের মাঠ উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা

Icon

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

গজারিয়ার ভোটের মাঠ উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা
তোফাজ্জল হোসেন শিহাব, মুন্সীগঞ্জ থেকে : ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে আগামী ৮ মে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন সদর উপজেলায়ও ভোট গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। তবে সদরে বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় জয়ের পথে রয়েছেন আগের চেয়ারম্যানসহ পুরুষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানরা। তাই এ উপজেলায় কোনো ভোটের আমেজ নেই নেই। অপরদিকে গজারিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলে চলছে নতুন মেরুকরণ। ফলে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপ পাল্টাতে দেখা যাচ্ছে এখানে। যে কোনো সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। গজারিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে কাগজে-কলমে চারজন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্ব›িদ্বতা হচ্ছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, বর্তমান চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম ও উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক, ইমামপুর ইউপির দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ খান জিন্নাহর মধ্যে। নির্বাচন সামনে রেখে একেক প্রার্থী অপর প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিষোদগার করাসহ একে অপরকে দোষারোপ করে মাঠে ও পথসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন। গজারিয়ায় আটটি ইউনিয়নের মধ্যে সাতটি ইউনিয়নের আ.লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ অধিকাংশ নেতাকর্মী মনসুর আহমেদ খান জিন্নাহর হয়ে কাপ-পিরিচ প্রতীকের প্রচারণা চালাচ্ছেন। অপরদিকে উভয় প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী নিজেদের নির্বাচনী কৌশলে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। বলতে গেলে গজারিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মাঠে চেয়ারম্যান পদে আ.লীগের প্রতিদ্ব›দ্বী এখন আ.লীগই। জানা গেছে, চেয়ারম্যান পদের জন্য উপজেলা আ.লীগের সভাপতি আমিরুল ইসলাম ও তার ছেলে আশরাফুল ইসলাম আকাশ ও তার ভাতিজা আবুল বাসার, মনসুর আহমেদ খান জিন্নাহ ও তার চাচাতো ভাই গজারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক দুইবারের চেয়ারম্যান মো. রেফায়েতউল্লাহ খান তোতা মনোনয়ন জমা দেন। পরে মো. রেফায়েত উল্লাহ খান তোতা মনোয়ন প্রত্যাহার করে মনসুর আহমেদ জিন্নাহকে সমর্থন দিয়ে তার পক্ষে মাঠে ময়দানে ভোট চাচ্ছেন। অপরদিকে মনোনয়পত্র প্রত্যাহার না করলেও আশরাফুল ইসলাম আকাশ ও ভাতিজা আবুল বাসার আনারস প্রতীকের প্রার্থী আমিরুল ইসলামের জন্য ভোট প্রার্থনা করছেন। আনারস প্রতীকের আমিরুল ইসলাম ও কাপ-পিরিচ প্রতীকের প্রার্থী মনসুর আহেমদ খান জিন্নাহর মধ্যে তুমুল লড়াইয়ে আগামী ৮ মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন বিষয়ে দুই প্রার্থীই গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে বলেন, এবারো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে জনগণের ভোটে আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হব। প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী গজারিয়া উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মনসুর আহমেদ খান জিন্নাহ বলেন, জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী। সাধারণ ভোটারসহ স্থানীয় আ.লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী তার সঙ্গে রয়েছে। এদিকে সদর উপজেলায় কোনো ধরনের প্রচারণা ও ভোট প্রার্থনা ছাড়াই অনেকটা ঘুমিয়ে জয়ের পথে রয়েছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী আনিসউজ্জামান। তিনি মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফয়সালের আপন চাচা এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের ছোট ভাই। ভাইস চেয়ারম্যান পদে জয়ের পথে রয়েছেন মোহাম্মাদ নাজমুল হাসান এবং হাছিনা বেগম। তারা দুজন গতবারের নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। নাজমুল হাসান উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। হাছিনা বেগম জেলা মহিলা আ.লীগের সদস্য। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বশির আহমেদ বলেন, যেহেতু চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান তিনটি পদেই একজন করে প্রার্থী রয়েছেন, তাই এ উপজেলায় আর নির্বাচন হচ্ছে না। তাদের তিনজনকেই নিয়ম মেনে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App